চীন ফেরত ৩১২ জন বাড়ি ফিরবেন আজ

করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটছে। এমন প্রেক্ষাপটে করোনা আতঙ্কে উহান থেকে ফিরিয়ে আনা ৩১২ জন বাংলাদেশিকে চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে অবশেষে বাড়ি পাঠানো হচ্ছে। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক প্রফেসর ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘তারা সবাই ভালো আছেন। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালেই বাড়ি পাঠানো হবে। আমরা এখন পর্যন্ত মোট ৬২টি নমুনা পরীক্ষা করেছি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।’ সিঙ্গাপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশিদের বিষয়েও ফ্লোরা কথা বলেছেন। তিনি জানান, সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো খবরে বিষয়টি জানা গেছে। তারা জানিয়েছেন,

বাংলাদেশের যে নাগরিকরা কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন আইসিইউতে আছেন। আর ছয়জন বাংলাদেশি নাগরিককে কোয়ারান্টাইন করে রাখা হয়েছে।’ উল্লেখ্য, চীন থেকে বিভিন্ন দেশে ভাইরাস ছড়াতে থাকায় এ ভাইরাস নিয়ে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এরপর বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের উহান থেকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়।

আরো পড়ুন… প্রবাস এতো কষ্ট করে দেশের এয়ারপোর্টে এসেও মাথায় বোঝা নিয়ে হাঁটতে হয় প্রবাসীদের। পরিবারের সুখ ও আর্থিক সচ্ছলতার জন্য নিজের মা- বাবা , ভাই- বোন , ছেলে – মেয়ে ও স্ত্রী এবং আত্মীয় স্বজন রেখে যখন একজন প্রবাসী বিদেশে আসেন। তখন নিজের সুখ ও বিলাসি জীবন পরিত্যাগ করে পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য দিনরাত কাজ করে দেশে টাকা পাঠান। আর এতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হয় প্রবাসীদের ঘাম ঝরানো টাকায়।

আর এই প্রবাসীরা যখন বিদেশে রক্ত ঘাম ঝরিয়ে দেশে আসে একটু শান্তির জন্য, নিজেদের পরিবারের সাথে কিছু দিন, কিছু মুহূর্ত তাদের পাশে থেকে কাটাবে সেই আশা বুকে নিয়ে । তখন এখানে এসেও পরিবারের সদস্যদের জন্য আনা জিনিসপত্রের বোঝাটা মাথায় নিয়ে হেঁটে এয়ারপোর্ট এলাকা পার হতে হয় রেমিট্যান্স যোদ্ধাদেরকে । এর চেয়ে দুঃখ আর কিসে??

আমাদের দেশে এয়ারপোর্টের বাহিরে বাস বা ট্রেন পর্যন্ত যেতে নির্দিষ্ট কোন বাহনের ব্যবস্থা নেই। এতে যেমন প্রবাসীরা, সিএনজি, কার (লাইটেস) সহ বিভিন্ন পরিবহনের চালকদের দ্বারা প্রতিনিয়ত হয়রানি হচ্ছেন। তেমনিভাবে ছিনতাই কারীরাদের খপ্পরে পড়ে অনেকে সবকিছু খোওয়াতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট গন্তব্যে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে আবার অনেকে পায়ে হেঁটে যেতে হচ্ছে নির্দিষ্ট বাস স্টেশনে।

দেশের মাটিতে পা রেখে এমন কষ্টে অনেকের চোখের পানি চলে আসে। কিন্তু বিশ্বের প্রায় অনেক দেশেই এয়ারপোর্টে বাস বা ট্রেন স্টেশন আছে। এতে বিমান বন্দরে থেকে একজন যাত্রী অতি সহজে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। যেমন ফ্রান্স: এখানে এয়ারপোর্ট গুলোতে বাস সার্ভিস ও ট্রেন স্টেশন রয়েছে । একজন যাত্রী বিমান বন্দরের নির্দিষ্ট টার্মিনাল থেকে বের হয়ে খুবই সহজে

ট্রেন বা বাস উঠে সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। সম্প্রতি একজন সৌদি আরব প্রবাসী দেশে আসেন ছুটি কাটাতে। তিনি শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বাস স্টেশনের যাওয়ার জন্য বাহিরে বের হয়ে নির্দিষ্ট কোন বাহন পাননি। তাই নিরুপায় হয়ে নিজে মাথায় করে দেশে আত্মীয় স্বজনের জন্য আনা জিনিসপত্রের বোঝা নিয়ে হাঁটতে থাকেন। তখন একজন পথচারী ছবি তুলে

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম Facebook কে পোস্ট করেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। তাই সরকার এ দিকে একটু নজর দিলে
কোন প্রবাসীকে হয়তো আর এরকম কষ্টের সম্মুখীন হতে হতো না!! প্রবাসীরা খুবই সহজে বিমানবন্দরে ত্যাগ করে তাদের প্রিয়জনদের কাছে যেতে পারবে। প্রবাসীদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটাই দাবি – দেশের মাঠিতে পা রেখে যেন একজন প্রবাসীকে এরকম বোঝা মাথায় নিয়ে হাঁটতে না হয়।