করোনায় চীনে মৃতের সংখ্যা ১৫৩৩,আক্রান্ত ৬৬ হাজার

মহা;মা;;রি করোনাভাইরাসে চীনে আক্রান্ত হয়ে মৃ;;তের সংখ্যা ১৫৩৩ জনে ঠেকেছে। সে দেশের ৩১টি রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৬৬৪৯২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি ম;ধ্য;রাত পর্যন্ত ৩১টি রাজ্য থেকে হ;তা;হতের এই খবর পাওয়া যায়। তারা আরো জানিয়েছে, ৫৬ হাজার আটশ ৭৩ জন বর্তমানে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।

তাদের মধ্যে ১১ হাজার ৫৩ জনের অবস্থা গুরুতর। তবে গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত আট হাজার ৯৬ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরে হুবেই প্রদেশে প্রথম এই ভাইরাস শনাক্তের পর অন্তত ২৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বছরের জানুয়ারির শেষের দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের জেরে স্বাস্থ্য বিষয়ক জরুরি অবস্থা জারি করেছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে বেইজিংয়ে ফিরে আসা সবাইকে ঘরে বসে থাকা উচিত। অন্যথায় ১৪ দিনের জন্য গ্রুপ পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। তা কেউ না মানলে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

আরো পড়ুন… করোনায় আক্রান্ত ১৭০০ চিকিৎসক, নি’হ’ত ৬, চিনে আরও ভয়াবহ অবস্থা। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শুধু চিনের সাধারণ মানুষ নন, নোভেল থাবায় সংক্রমিত হচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরাও। এই প্রথম সরকারি ভাবে আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা জানাল চিন। সে দেশের ন্যাশনাল হেল্থ কমিশন শুক্রবার জানিয়েছে, করোনাভাইরাস আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা ১৭১৬।

মৃ’ত্যু হয়েছে ছ’জনের। আর এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পরেই ভয়ঙ্কর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে চিনের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী মহলে। আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ বেড়েছে শি চিনফিং প্রশাসনেরও। আজ শুক্রবারও চিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃ’ত্যু হয়েছে ১২১ জনের। যার মধ্যে ১১৬ জনই ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল হুবেই প্রদেশের। সব মিলিয়ে মারণ

ভাইরাসের থাবায় শুধু চিনেই মৃতের সংখ্যা ১৩৮০। নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৪৮২৩ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫১ হাজার ৯৮৬। মৃ’ত এবং আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বা়ডছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জানিয়েছে, এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি ভাইরাসের প্রকোপ। সব মিলিয়ে চিনের সঙ্গে গোটা বিশ্বেই উদ্বেগ বাড়ছে। কিন্তু তার চেয়েও সঙ্কট তৈরি হয়েছে চিনের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে।

যে হুবেই প্রদেশে ভাইরাসের থাবা সবচেয়ে বেশি, সেখানে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা। মুখোশ, গ্লাভস, পোশাক ও নিরাপদ চশমার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁরা এক বার খাচ্ছেন। কারণ হাসপাতালে বার বার পোশাক, গ্লাভস, মুখোশ খুলে খাওয়া দাওয়ার সময় সংক্রমণ হতে পারে। তার মধ্যেই শুক্রবার চিনের ন্যাশনাল হেল্থ কমিশনের

ডেপুটি ডিরেক্টর জেং ইক্সিন বলেন , ‘আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ১১০২ জনই হুবেই প্রদেশের। মোট আক্রান্তের ৩.৮ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী। মৃ’ত্যুর হার ০.৪ শতাংশ। তবে তাঁদের সংক্রমণ হাসপাতাল থেকে নাকি সাধারণ ভাবেই হয়েছে, তা এখনও তদন্ত ও গবেষণার বিষয়।’ এই পরিসংখ্যানের পর অনেকেরই আশঙ্কা, এর ফলে স্বাস্থ্যকর্মীরা যে উদ্যম নিয়ে কাজ করছিলেন,

তাতে কিছুটা হলেও ভাটা পড়তে পারে। তার জেরে ভাইরাসের সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের এপিডেমিওলজির অধ্যাপক বেঞ্জামিন কাউলিং বলেন, ‘আমি মনে করি এটা অত্যন্ত উদ্বেগের। উহানে এক একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে অনেক রোগীর দেখভাল করতে হচ্ছে। সেই চিকিৎসা করতে গিয়ে আক্রান্ত হলে সেটা খুবই ভয়ঙ্কর।