মেয়েকে কোরআনের হাফেজ বানাবেন ক্রিকেটার জুনায়েদ সিদ্দিকী ।

এক সময়ে জাতীয় দলের ওপেনিং পজিশনে ব্যাটিং করতেন জুনায়েদ সিদ্দিকী। কিন্তু পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতার অভাবে সময়ের ব্যবধানেই হারিয়ে যান তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের ঘোষণার আগেই সাবেক হয়ে গেছেন তিনি।

জাতীয় দলের ‘সাবেক’ এ ক্রিকেটার নিজের মেয়েকে হাফেজ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। মিডিয়ার সঙ্গে একান্ত আলাপে জুনায়েদ সিদ্দিকী বলেন, স্ত্রী আর মেয়েকে নিয়ে এবার উমরাহ করে এসেছি। আমার খুব ইচ্ছা আছে মেয়েকে হাফেজা করার।

একটা সময়ে স্মার্ট এবং ফ্যাশনেবল জীবনযাপন করা জুনায়েদ এখন ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে চলছেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আগে ক্যাজুয়েল জিন্স-টিশার্ট সবকিছুই পরতাম। এখন বেশিরভাগ সময় পাঞ্জাবি-পাজামাই পরি। খেলার সময় ট্রাউজার-ট্র্যাকস্যুট পরি। এখন পোশাকের প্রতি আগের আকর্ষণটা নেই।

২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিকে অভিষেক হয় জুনায়েদ সিদ্দিকীর। একই বছরের ডিসেম্বরে ওয়ানডে দলে সুযোগ হয় তার। পরের বছর জানুয়ারিতে টেস্টে অভিষেক হয় তার।

জাতীয় দলের হয়ে ১৯ টেস্ট, ৫৪টি ওয়ানডে ও ৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন তিনি। দেশের হয়ে ৮০টি ম্যাচ খেলে দুই সেঞ্চুরি আর ১৪টি ফিফটির সাহায্যে ২ হাজার ৩২৪ রান করেন তিনি।

২০১২ সালের পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকা এ টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান এখনও দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখেন। এ ব্যাপারে জুনায়েদ বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলতে গেলে ফিটনেস থাকতে হবে।

পুরনো অনেককেই এখন সুযোগ দেয়া হচ্ছে। বয়স কোনো ব্যাপার নয়। পারফরম্যান্স আর ফিটনেসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বোর্ডের বর্তমান চিন্তাধারা ভালো। আপনি পারফর্ম করলে আপনাকে দলে নিতে বাধ্য। গত বছর বিপিএলে ভালো করেছি, এবারো ভালো করার চেষ্টা করব।

আরো পড়ুন… জাতীয় দলের জনপ্রিয় ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে মসজিদের একটি ছবি আপ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ‘মসজিদের পাশেই পরম শান্তি’

মুশফিকুর রহিম নামাজ পড়তে গিয়ে মসিজদের ছবি তুলে নিজের ফেসবুক পেজে আপ করে লেখেন,যদি আপনি নামাজি হন আর আপনার হোটেলের পাশে যখন কোনো মসজিদ থাকে তবে এর চেয়ে আনন্দের বা শান্তির আর কিছুই নেই।’

পবিত্র কোরআনের ৩০তম পারার ৯৫ নম্বর সূরার প্রথম আয়াত وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ ‘ওয়াত্তীনি ওয়াযাইতূনি। বর্ণিত সূরায় আল্লাহতায়ালা তীন গাছের নামে শপথ করেছেন। সূরার প্রথম শব্দ তীন অনুসারে এ সূরার নামকরণ করা হয়েছে- সূরা আত-তীন। তীনের বাংলা অর্থ আঞ্জীর বা ডুমুর।মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিম এশিয়ায় এ ফলের উৎপাদন বাণিজ্যিকভাবে করা হয়।

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। আফগানিস্তান থেকে পর্তূগাল পর্যন্ত এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ হয়ে থাকে। এর আদি নিবাস মধ্যপ্রাচ্যে। তবে শখের বসে খুলনার মাটিতে একটি তীন গাছ মিসর থেকে এনে লাগানো হয়। বর্তমানে খুলনার মাটিতে বেড়ে উঠছে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত সেই তীন গাছ। ধরছে ফলও।

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজে’লার জলমা’র দাওহাতুল খাইর কমপ্লেক্স পরিচালিত সোসাইটি অব সোস্যাল রিফর্ম স্কুলের আঙ্গিনায় ২০১১ সালে সোসাইটি অব সোস্যাল এন্ড টেকনোলজিক্যাল সার্পোট কুয়েতের প্রাক্তন মহাপরিচালক আবু মুহাম্ম’দ আসসাওয়াদফি আল ফিকাহ মিসর থেকে এই গাছটি আনেন। গাছটি রোপন করেন দাওহাতুল খাইর কমপ্লেক্স এর পরিচালক সুফি সালাই’মান মাসদ।

দাওহাতুল খাইর কমপ্লেক্স এর প্রশাসনিক কর্মক’র্তা সানোয়ার হুসাইন বলেন, খুলনার আবহাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের এই গাছটি অন্যান্য গাছের মতোই বেড়ে উঠেছে। গাছটিতেও ফলও ধরেছে। গাছটির ফল আমি খেয়েছি। এটি অনেক সুস্বাদু। তার দাবী, এ গাছটি বাংলাদেশে এই একটিই আছে।

সোসাইটি অব সোস্যাল রিফর্ম স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, পবিত্র কোরআনে বর্ণিত সূরা তীন যে গাছের নামে সেই তীন গাছ এ স্কুলে থাকায় অনেকে এটি দেখতে আসেন। বিশেষ করে যখন ফল ধরে তখন শিক্ষার্থী ও অ’ভিভাবকদের আগ্রহ থাকে গাছটির প্রতি বেশি। এছাড়া অনেক দর্শনার্থী গাছটির খবর পেয়ে দেখতে আসেন।

জানা যায়, আঞ্জির হচ্ছে ডুমুর জাতীয় এক ধরনের ফল। এর গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus carica । ফাইকাস গণভুক্ত প্রায় ৮০০ প্রজাতির মধ্যে আঞ্জির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি। এই ফলের আকার কাকডুমুরের চেয়ে বড়; এটি একটি জনপ্রিয় মিষ্টি ও রসালো ফল।

হিন্দি, মা’রাঠি, ফার্সি ও উর্দু ভাষায় এই ফলকে আঞ্জির বলা হয় এবং আরবি ভাষায় এর নাম তীন। এ গাছ ৬ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। পবিত্র কোরআনে এই ফলকে আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত বা অনুগ্রহরূপে ব্যক্ত করা হয়েছে। বাইবেলেও এই ফলের কথা উল্লেখ রয়েছে।