যেভাবে ট্র্যাম্পের কড়া নীতি উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রে দিন দিন বাড়ছে মুসলিমদের সংখ্যা

আমেরিকায় ৩০ বছরের মধ্যে মু’সলমানদের সংখ্যা ই’হুদিদের ছাড়িয়ে যাব'ে বলে গত শতাব্দির শেষের দিকে আ’শংকা করা হয়েছিল। আঠারো বছর আগে আমেরিকার ম্যাস্সাচুসেট্স বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সিম্পোজিয়ামে এই ই’''ঙ্গিত দেয়া হয়। একটি গবেষণার ফলাফলের উপর ১৯৮৮ সালের প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত ওই সিম্পোজিয়ামে আমেরিকান মু’সলমানদের সংখ্যা নিরুপণ করা হয়েছিল ৪৬,৪৪,০০০।

ওই সময় আমেরিকায় ৬০০ টি ইসলামিক সেন্টার ছিল। তৈরী হচ্ছিল বিশাল আকৃতির নতুন নতুন মসজিদ ও ইসলামিক বিদ্যালয়। গবেষণার উদ্বৃত দিয়ে বলা হয় যে খ্রীষ্টান ধ’র্ম ত্যা’গ করে ইসলাম ধ'র্ম গ্রহণ করা এবং নতুন মুসলমান অ’ভিবাসীদের আগমন ও এদের মধ্যে উচ্চ জন্ম হারের ফলে মুসলমানদের সংখ্যা ই’হুদিদের ছাড়িয়ে যাব'ে এবং খ্রীষ্টানদের পরে মুসলমানরা হবে আমেরিকার দ্বিতীয় বৃ'হত্তম ধ'র্মীয় সম্প্রদায় ।
এ প্রস''ঙ্গে আমেরিকার ব’হুল প্রচারিত সা'প্তাহিক টাইম পত্রিকায় ১৯৮৮ সালের মে মাসের ২৩ তারিখে প্রকাশিত সংখ্যায় ‘আমেরিকান ফেসিং টোয়ার্ড মেক্কা’ (আমেরিকানরা মক্কার দিকে ফিরছে) শীর্ষক দুই পৃষ্ঠা ব্যপি একটি লেখায় মুসলমানদের সংখ্যা বৃ'দ্ধির কিছু কারণ তুলে ধ’রা হয়।

ওগেন ডেভিস নামক কালোবর্ণের খ্রীষ্টান ধ'র্মের একজন আমেরিকানের প্রস''ঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয় যে তিনি উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন সময় থেকে চার্চে যাচ্ছেন।অথচ তিনি দারুণ সম’স্যায় পড়েন যখন দেখেন কিভাবে ভালো খ্রী’ষ্টান হয়েও একজন আমেরিকান অসম সমাজ ও বর্ণ জগতকে স’হ্য করছেন। কোন প্র’তিবাদ করেন না। তার মতে খ্রীষ্টান ধ'র্ম কালোদের জন্য নয়।

ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী কা’মোনেহ নামের অ’পর একজন আমেরিকান বলেন যে গীর্জার একজন অত্যন্ত ধার্মিক সদস্য তাকে লালন পালন করেছেন।ফলে খ্রীষ্টান ধ'র্মের সবকিছুই তিনি আমল করেছেন। তারপরেও এ ধ'র্মের তাৎপর্য বুঝতে পরেননি; বিভিন্ন দিক থেকে যুক্তিস''ঙ্গত অভাব উপল'দ্ধি করেছেন। ওং চুয়ান নামের একজন চায়নিজ আমেরিকান ধার্মিক, পবিত্র ও সফল একটি জীবন চান।

ওগেন ডেভিস, কামোনেহ এবং ওং চুয়ান এই তিনজনের সবাই উত্তর খুজে পেয়েছেন ইসলামে। এ ধরণের পছন্দ সাম্প্রতিককাল অবধি বিচিত্র বা অ’দ্ভুত বলে মনে করা 'হতো। সারা পৃথিবীতে ওই সময়ে ৮০ কোটি ইসলাম ধ'র্মের অনুসারী থাকা সত্বেও আমেরিকায় ইসলাম ধ'র্ম ও কোরান অদৃশ্য ছিলো।

অধিকন্ত, ইসলাম ধ'র্ম ছিলো অবজ্ঞার বি'ষয়। সকলে ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করত। ঐতিহ্যগতভাবে পশ্চিমা দেশসমূহে ইসলাম ধ'র্ম সম্পর্কে খা’রাপ ধারণা রয়েছে। উক্ত লেখায় ইউএস মসজিদ পরিষদের সভাপতি দাউদ আসাদের উদ্বৃত দিয়ে বলা হয় যে সাম্প্রতিক বছরগু'লোতে ইরানে বিপ্লব এবং স’ন্ত্রাসী কর্মকান্ডে আমেরিকায় ইসলামের প্রতি বি’রুপ ধারণা বৃ'দ্ধি পেয়েছে।

খ্রিস্টানদের পরে মুসলমানরা হবে আমেরিকার দ্বিতীয় বৃ'হত্তম ধ'র্মীয় সম্প্রদায় টাইম পত্রিকায় ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত ওই লেখায় প্রকাশিত হয়েছিল যে ইসলাম ধ'র্মে দিক্ষীত আমেরিকানদের সংখ্যা ক্ষীণ গতিতে বৃ'দ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে আসছে অজস্র মুসলমান অ'ভিবাসী। এই দুয়ে মিলে তৈরী হচ্ছে বড়োসড়ো আমেরিকান ইসলামী কমিউনিটি। বিগত দুই দশকে আমেরিকাতে ঢোকা মুসলমানদের সংখ্যা দ্বিগু'ন বৃ'দ্ধি পেয়ে মোট অ'ভিবাসীদের ১৪% পৌছেছে। সেই সাথে রয়েছে কালোবর্ণের মুসলমানরা।

এদের নেতা এলিজাহ মুহা'ম্মা'দ স্থানীয় সামাজিক রী’তিনীতি ও সাদা আমেরিকান বি’রোধী বলে উল্লেখ করা হয়। এই দলের আদর্শকে প্রধান ইসলামী দল স্বীকৃত দিয়েছে বলে টাইম পত্রিকায় অ'ভিযোগ করা হয়। টাইম পত্রিকায় এটাও ই''ঙ্গিত করা হয়েছিল যে আমেরিকাতে ইসলাম বি’ভেদমুক্ত নয়। বিভিন্ন বিভক্তির ফলে আমেরিকান ইসলাম নিদারুণভাবে দূ’র্বল। মিসরীয়রা, লেবানিজরা যার যার মত আলাদাভাবে ধ'র্মীয় অনুষ্ঠানাদী পালন করে। কোথাও কোথাও একই ভবনে ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় জামাত হয় এবং কোন সম্মিলিত কার্যক্রম নেই।

এ দেশে ঐক্যব'দ্ধভাবে শক্তিশালী কোন ইসলামী আন্দোলন নেই বলে জানিয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির ইসলামিক সোসাইটির পরিচালক মুজাম্মিল সিদ্দিকী। আমেরিকান মুসলমানরা ইসলাম বহির্ভূ'ত রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলতেও পারছেন না। এ নিয়ে পিতামাতা ও সন্তানদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে বিরোধ। টাইম ম্যাগাজিন জানায় যে ধ'র্মীয় রীতিনীতির বাইরেও মুসলমানরা গু'রুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। যেমন লস্ এ্যাঞ্জে'লেস মুসলমানরা ভোটার রেজিস্ট্রেশনের জন্য সচেষ্ট।

এখানে রয়েছে মুসলিম পলিটিকাল এ্যাকশন কমিটি। এই কমিটির উদ্দেশ্য হলো আমেরিকান মুসলমানদের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, প্যালেস্টিনিয়ানদের সহায়তা করা এবং ইউএস কংগ্রে'সে মুসলিম প্রতিনিধি নির্বাচন করা। মুসলিম পলিটিকাল এ্যাকশন কমিটির ইরাকে জন্মগ্রহণকারী মুসলিম মুখপাত্রের উদ্বৃতি দিয়ে বলা হয় যে “মুসলমানরা চাচ্ছে জনসাধারণ এখন থেকে আমেরিকায় ইহুদি-খ্রীষ্টান-মুসলমান সমাজ হিসেবে ভাবতে শুরু করুক “।

লস্ এ্যাঞ্জে'লেস ইসলামিক সেন্টারের মুখপাত্রের অ’পর একটি উদ্বৃতি দিয়ে বলা হয় আমেরিকান ইহুদিরা তাদের দেশ (ইসরায়েল) এর জন্য কাজ করছে। অথচ মুসলমানদের এ ধরণের কোন কার্যক্রম নেই। টাইম ম্যাগাজিনের ওই লেখায় এটাও জানানো হয় যে স্থানীয়ভাবে মুসলমানদের গ্রহণযোগ্যতা বৃ'দ্ধি পাচ্ছে। মুসলমানদের প্রতি ধ'র্মীয় সহনশীলতাও বাড়ছে। যেমন মিশিগান রাজ্যের ডিয়ারবোর্নে মোট অধিবাসীদে ১০% থেকে ১৫% আরবীয়। এখানকার পাবলিক স্ক’ল সমূহে শুক্রবার সা'প্তাহিক ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে এবং ক্যাফেটারিয়ায় শুকরের মাংস পরিবেশন ব’ন্ধ করা হয়েছে।