মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেবে কাশ্মীরিরা, বললেন ইমরান খান ।

আন্তর্জাতিক স্তরে সমর্থন হারিয়ে হতাশা বেশ কিছুটা বেড়েই গেছে। তাই ফের কাশ্মীর নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। মানবাধিকারকে হাতিয়ার করে ভারতকে চূড়ান্ত ভয়াবহতার বার্তা শোনালেন ইমরান খান। ভারতীয় সেনার জম্মু ও কাশ্মীরে অব্যবস্থা চালিয়েছে তার উল্লেখ করেই পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে দাঁড়িয়ে এই কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি এও বলেন নরেন্দ্র মোদী সরকারের এই ব্যবহারে ভারতের মানুষ আরও চরমপন্থী মনোভাবাপন্ন হয়ে উঠতে পারে।

পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “কাশ্মীরের মানুষ এবার ভারতের বিরোধিতা করবে। যা পরিস্থিতি আসছে, তাতে বিজেপি ও আর এস এসের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিতে পারে। এই কথা বলে তিনি বলেন যে, নরেন্দ্র মোদী কাশ্মীরিদের ধৈর্যর প্রীক্ষা নিচ্ছে। আমরা শান্তি চাই। পুলওয়ামায় ২০ বছরের একজন যুবক বিরক্ত হয়ে নিজেকে সশস্ত্র করে তুলেছে।”

পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফরাবাদে শোক মিছিলে দাঁড়িয়ে যেভাবে বক্তব্য রেখেছেন সেখানে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক স্তরে ফের কিছুটা জায়গা শক্ত করতে চাইছে পাকিস্তান। এছাড়াও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকে নরেন্দ্র মোদী সরকার সেখানে যে সব নিয়ম লাগু করেছে সেসব কিছুকে আবারও সকলের কাছে তুলে ধরছেন তিনি।

মুজাফরাবাদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর সামনে তিনি কাশ্মীরের দূত হয়ে দাঁড়াবেন। আমি কাশ্মীরিদের রাষ্ট্রসংঘের সামনে অসম্মানিত করতে চাই না।” চলতি মাসের শেশের দিকেই ইমরান খান আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য রাখবেন।

পাক প্রধানমন্ত্রী কাশ্মীর ইস্যুকে মানবিক সংকট বলেছেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টও কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে সরব হয়েছে। মোদী সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ভারতীয় সেনা যেভাবে হিংসা ছড়াতে চাইছে তাতে কোন সাফল্য আসবে না।” তিনি আরও বলেন, ভারত এবার সবকিছুর সোজাসাপটা উত্তর পাবে। এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা২৪।

পাকিস্তান কাশ্মীরের পাশে ছিল ও আছে এই আশ্বাস দিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি এদিন বক্তব্য রাখেন। এই মিছিল তাঁদের কূটনৈতিক প্রচারের একটি অংশ। যার মাধ্যমে বিশ্বের বুকে কাশ্মীরিদের খারাপ অবস্থাকে আরও তিলে ধরতে চেয়েছেন তিনি।

আরো খবর… বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের৷ শুক্রবার পাক প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করে নিলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান দিয়েই সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ দিত পাকিস্তান৷ সে তথ্য না জেনেই টাকা পাঠাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএ৷

এদিন রাশিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ইমরান খান বলেন আশির দশকে পাকিস্তান মুজাহিদিন তৈরি করত৷ এই মুজাহিদিনদের কাজে লাগানো হত সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান, যখন সোভিয়েত আফগানিস্তান দখল করছিল৷ তাই যে সব মুজাহিদিনকে সেই সময় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, তাদের পিছনে ছিল আমেরিকার টাকা৷

তবে ইমরান খানের মত সেই সময় পাকিস্তান নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে ভালো হত, কারণ যে সব মুজাহিদিনদের তৈরি করা হয়েছিল, তারাই এখন জঙ্গি সংগঠন তৈরি করে পাকিস্তানের ওপর হামলা চালাচ্ছে৷ তিনি এদিন জানান, আমেরিকা এখন আফগানিস্তানের ওপর দাদাগিরি ফলাচ্ছে, যা বড়সড় দ্বিচারিতা৷ অথচ পাকিস্তান তাদের সাহায্য করতে গিয়ে নিজেরাই সন্ত্রাসবাদের জালে জড়িয়ে গিয়েছে৷

এদিকে, দিন কয়েক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা এখনই পুরোপুরি মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে না। তালিবানরা যাতে ফের মাথাচাড়া দিতে না পারে, তার জন্য কাউকে সেখানে থাকতেই হবে।কিন্তু এবার ট্রাম্পের মুখে বারবার উঠেছে ভারতের নাম। বিশেষত তিনি উল্লেখ করেন, ভারত একেবারে কাছে থাকলেও লড়ছে না৷

চলতি বছরেই আফগানিস্তানের ১৮ বছর ধরে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ করতে বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ ২০০১ সালে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করার পরে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন একাধিক দেশ জড়িয়ে পড়ে সেখানে। সামরিক উপায়ে সেখানে কোনও সমাধান নেই বুঝে এখন শান্তি আলোচনায় বসেছে আমেরিকা। তালিবানদের সঙ্গে হবে আলোচনা। একাধিকবার তালিবানদের শান্তি আলোচনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে৷

“চিন, রাশিয়া এবং আমেরিকা মনে করছে পাকিস্তান আফগানিস্তানে শান্তি ফেরানোর ব্যাপারে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে,” মার্কিন বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে একটি বিবৃতিতে একথা জানানো হয়। এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা২৪।

ইসলামাবাদ এই প্রসঙ্গে আগে জানিয়েছিল, পাকিস্তানের মতো একটি দেশে যেখানে এক বড় সংখ্যক পাশতুন মানুষের বাস, তাকে আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়াতে অন্তর্ভুক্ত করা অবশ্যই প্রয়োজন এবং আফগানিস্তানের বিষয়ে বিশ্বের বড় শক্তিগুলির পক্ষে পাকিস্তানের স্বার্থকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।