কাশ্মী’রিদের ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে ভারতীয় সেনার যেভাবে মৃত্যু হলো ।

ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে সার্চ অপারেশনের সময় পানিতে ডুবে এক ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়েছে। কাশ্মীরের একটি পাহাড়ি এলাকায় অভিযানের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে
কাশ্মীরি মিডিয়াগুলোর বরাতে ইন্ডিয়া টুডে ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউন উর্দূর খবরে বলা হয়, ভারতীয় বাহিনী গান্দারবাল জেলার সব রাস্তা বন্ধ করে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালাচ্ছিল। এ সময় বিভিন্ন বাড়িঘরের আসবাবপত্র বাইরে ছুঁড়ে ফেলে তারা।

তল্লাশি চলাকালে আসলাম খান নামে ওই সেনা পা পিছলে টিলার উপর থেকে নদীতে পড়ে যান। এসময় নদীর স্রোতে ভেসে গেলে উদ্ধারকারী দল কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে তাকে উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় ওই সেনা অফিসারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর থেকে একমাসেরও বেশি সময়ধরে উপত্যকাটিতে কারফিউ চলছে। কারফিউ চলাকালীন বিভিন্ন জেলায় স্বাধীনতাকামীদের দমাতে গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে ভারতীয় বাহিনী। ভারত সরকার আটককৃতদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে না বললেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিগত একমাসে জম্মু-কাশ্মীরে গ্রেফতারকৃতদের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি ছাড়িয়ে গেছে। ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পর্যবেক্ষণ মতে, নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী বিজেপির সরকারের নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলটি এ মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কারাগারে পরিণত হয়েছে।

আরো খবর… কাশ্মীরে ভারত সরকারের দমন নিপীড়নের বিরোধীতা করে এ ইস্যুতে পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ৫০টি দেশ। মঙ্গলবার চীন-তুরস্কসহ অর্ধশতাধিক দেশ কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থান সমর্থন করে যৌথ বিবৃতি প্রদান করে।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও আনাদলু এজেন্সির খবরে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি কাশ্মীরে ভারত সরকারের দমন-নিপীড়নের কথা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন।পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগের পর চীন-তুরস্কসহ অর্ধশতাধিক রাষ্ট্র এক যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।

টুইটারে দেয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে আজ ৫০টিরও বেশি দেশ পাকিস্তানের পক্ষে ঐতিহাসিক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।যৌথ বিবৃতিতে ভারত সরকারের প্রতি পাঁচটি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, জাতিসংঘ সনদ, নিরাপত্তা কাউন্সিলের রেজুলেশন, মানবাধিকারের মান এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে একমত হয়ে ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও তাদের সম্মান রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান থাকা উচিত। বিশেষত তাদের জীবন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা অধিকারের বিষয়ে।

কাশ্মীরে যোগাযোগের ওপর বিধিনিষেধ ও অবিলম্বে কারফিউ প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে দেশগুলো। পাশাপাশি সেখানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও বন্দুকের ব্যবহার বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বাধাহীন প্রবেশাধিকারের দাবি জানানো হয়েছে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবানা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীর সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করছি।