পা নেই, হাতে ভর করে পবিত্র কাবা ৭ বার তাওয়াফ করলো এই কিশোর ।

ইচ্ছা শক্তি আর ইস’লামেরপতি ভালবাসা থাকলে কি না সম্ভব। দুই পা ছাড়া এক চতুর্থাংশ শরীর নিয়ে জন্ম হয়েছিল কাতারের প্রতিবন্ধী কিশোর গানিম আল মুফতার। এখন সে হুইল চেয়ারে করে চলাচল করে সে। এদিকে পবিত্র কাবা শরীফের কাছে আসলে তিনি ইস’লাম ধ’র্মের প্রতি আবেগঘন ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে। এ সময় তিনি হুইল চেয়ার থেকে নেমে দুই হাতে ভর দিয়ে কাবা শরীফ তাওয়াফ করেছে প্রতিবন্ধী কিশোর গানিম আল মুফতার।

মাগরিব নামাজের সময় সাতবার কাবা তাওয়াফ করে প্রতিবন্ধী গানিম। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এই তাওয়াফের ভিডিও প্রচারের পর বেশ সাড়া পড়েছে। জানা যায়, কিশোর গানিমের স্বপ্ন ছিল নিজহাতে পবিত্র কাবা শরীফ তাওয়াফ করা এবং পবিত্র হাজরে আসওয়াদ পাথরে চুম্বন করা।

আর তার এমন স্বপ্নের কথা জেনে তা পূরণে তার জন্য ওম’রা পালনের ব্যবস্থা করেন সৌদি পর্যটন এবং জাতীয় ঐতিহ্য কমিশনের চেয়ারম্যান প্রিন্স সুলতান বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ।

এদিকে গানিম প্রতিবন্ধী হওয়ায় কাবা তাওয়াফসহ ওম’রা পালনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন ছিল। এজন্য একটি বিশেষ টিমের মাধ্যমে গানিম ও তার পরিবারের সদস্যদের ম’ক্কায় পৌঁছানোর পর থেকে ওম’রা পালনের শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।

এ সময় ম’ক্কায় গানিমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রিন্স সুলতান। এছাড়া ম’ক্কার গ্র্যান্ড ম’সজিদের ই’মাম শেখ মাহের আল-মুয়াকলির পেছনে গানিম’দের নামাজ পড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। এদিকে প্রতিবন্ধী গানিম হাত দিয়ে ভর দিয়ে পবিত্র কাবা তাওয়াফ করতে পারায় দারুণ খুশি। এ জন্য প্রিন্স সুলতান ও শেখ মাহেরে প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে এই কিশোর।

আরো পড়ুন… যদি মনের জোর থাকে ইস্পাতের মতো দৃঢ়, তাহলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। বয়োবৃদ্ধ এক নারী দৈনিক ৭ ঘণ্টা ব্যয় করে নিজ হাতে সম্পূর্ণ কোরআন শরীফ লিখে অনন্য কীর্তি স্থাপন করেছেন ৭৫ বছর বয়সী সাইয়েদা সাদ আবদুল কাদের।

মিশরীয় এ নারীর ইচ্ছে ছিল কোরআন হেফজ করবেন। কিন্তু বয়সের আধিক্য ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ায় তার পক্ষে পূর্ণাঙ্গ কোরআন মুখস্ত করা সম্ভব নয়। কিন্তু কি করা যায় এ ভেবে তিনি তার নাতির সঙ্গে পরামর্শ করলেন। নাতি পরামর্শ দিলেন কোরআন লিখতে। এরপর প্রবল আগ্রহ ও উৎসাহবোধে কাজ করলেন টানা ৪ বছর। আর শেষ পর্যন্ত তিনি তার উদ্দেশ্যে সফল হলেন। সৃষ্টি করলেন কোরআন লেখার অনন্য নজির।

এদিকে জানা যায়, সাইয়েদা সাদ ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর তার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর নিজেদের মানুফা প্রদেশ থেকে আলেকজান্দ্রিয়ায় চলে যেতে হয়। পারিবারিক ও সাংসারিক বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে তিনি কোরআন মুখস্ত করতে পারেননি। কিন্তু প্রচণ্ড আকাঙ্ক্ষা ও আগ্রহবোধ কাজ করতো প্রতিনিয়ত।

এ ব্যাপারে তিনি জানান, তার আগ্রহের কারণে কোরআন মুখস্ত করতে না পারলেও আল্লাহ তাকে এমন মহৎ কাজ করার তাওফিক দান করেছেন। এদিকে কোরআনের পাণ্ডুলিপিটি তৈরিতে তিনি ৪০টি কলম ব্যবহার করেন। শব্দগুলোতে হরকত দিয়েছেন কালো রং দিয়ে। আর আল্লাহ শব্দ ও আয়াতের সংখ্যা লেখায় লাল রং এবং অন্যান্য শব্দ আঁকায় নীল রংয়ের কালি ব্যবহার করেন। তিনি আশা করছেন, তার সন্তানরা পাণ্ডুলিপিটি শিগগির প্রিন্ট আকারে প্রকাশ করবে।