আপু আমি বউ-মেয়েকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না, প্লিজ হেল্প মি ।

আপু আমা’র বয়স ২৯। আমি আমা’র কাজিনকে ছয় বছর আগে লাইক করি এবং প্রপোজ করি। তখন ওর বয়স ১৭। ও একসেপ্ট করেনি। তখন আমিও এই জব করার ভিসা পাই আর চলে যাই। এক বছর পর আমি ওর সাথে ফোনে কন্টাক্ট করি। এক বছর কথা বলার পর ও আমা’র প্রপোজাল একসেপ্ট করে। আমি যেন খুশিতে পাগল হওয়ার অবস্থা। আপু তিন মাস পর ওকে বিয়ের জন্য পাত্র পক্ষ দেখতে আসে। তখন ও বিবিএ ফার্স্ট ইয়ার। ও আমাকে বললো- যদি কাউকে ওর আব্বু পাকা কথা দিয়ে ফেলে তাহলে আর কিছু করার থাকবে না। আর আমাদের চেয়ে ওদের আর্থিক অবস্থা ভালো। ও ওর আব্বুকে অনেক ভয় পায়। তাই আমাদের রিলেশনশীপের ব্যাপারে বলার সাহস হয়নি। আমিও পারিনি। তা ছাড়া আমি কেবল ক্লাস নাইন পর্যন্ত পড়েছি। তাই ওর বাবা-মা আমাদের স’ম্পর্ক কখনো মেনে নেবে না। তাই আমি আর ও পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

১৫ নভেম্বর ২০১৩ সালে আম’রা পালিয়ে বিয়ে করি। আমি ছুটিতে আসি ওকে যে বিয়ে করব। তা পৃথিবীর কেউ জানত না। বিয়ের দিন ও আর আমি আমাদের মা-বাবাকে এসএমএস এ সব কিছু জানাই। আমা’র বাবা মা মেনেও নিল। ওর বাবা-মা মানেনি। তিনদিন পর ওর মা আমাদের বাড়িতে আসে। ওকে মা’রধোর করে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ও যায়নি। তারপর থেকে মাঝে মাঝে ওর মা, বাবা, নানু, মামা’রা ফোন করে ওকে বলতেন- তুই চলে আয়, তোকে ভালো উঁচু পরিবারে বিয়ে দেবো। জীবনভর সুখে থাকবি। ও বলে- না আমি এখানেই থাকবো। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ আমাদের একটি মেয়ে হলো। আম’রা ভেবেছিলাম ওর বাবা মা এখন মেনে নিতে পারে।

১৩ জুন ২০১৬ সালে ওর পাকস্থলীতে পাথর ধ’রা পড়ে। আম’রা মিটফোর্ট হাসপাতালে অনেক বার চেষ্টা করার পর ডাক্তার বলল প্রাইভেট অ’পারেশন করানোর জন্য। আমাদের আর্থিক সংকট চলছে এখন। তাই আমি বললাম পরে অ’পারেশন করাব। ও বলল ওর মাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করে। আমি তাই ওকে কিছুদিন বেড়ানর জন্য দিয়ে আসি। কিন্তু ওর মা বাবা কেউ আমাদের ফ্যামিলির কারো সাথে কথা বলত না। ৩০ জুলাই ২০১৬ ও বেড়াতে যাওয়ার পর সাত দিন আমা’র সাথে কথা বলে আর বলে আমাকে ডি*ভোর্স দিতে, না হলে ওর বাবা-মা আত্মহ’ত্যা করবে। এরপর থেকে ওর ফোন অফ। আমি ওদের বাড়িতে গেলে আমাকে ওরা গেট থেকে বের করে দেয়।

৮ আগস্ট তারিখে ফার্স্ট’ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকে আমা’র হাতে ডি*ভোর্স লেটার আসে। আমি আমা’র মেয়েকে দেখতে চাই- এ কথা ওর বাবা মাকে বললে উনারা বলে আগে কাবিন নামা’র তিন লাখ টাকা পে করো, তারপর তোমা’র মেয়ে তুমি নিয়ে যাও। আপু আমি অনেক অনেক টেনশনে আছি। ক্ষুধা লাগে না, ঘুম হয় না। ১৯ আগস্ট আপু আমি সুই’সাইড করার ট্রাই করি। আল্লাহ মাফ করছে। ছাদ থেকে কোনো এক লোক দেখে ফেলে, সে যাত্রায় আমাকে বাঁ’চানো সম্ভব হয়। আপু আমা’র জীবনে আমি এত টেনশন করিনি। আপু, আমি আমা’র বউ আর মেয়েকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। প্লিজ হেল্প মি! প্রশ্নটি আমাদের ফেসবুক পেজে করেছেনঃ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তরুণ।

পরাম’র্শঃ ভাই রে, আপনাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমা’র সত্যই নেই। এত অল্প বয়সে জীবনের এত কঠোর বাস্তবতা, স’ম্পর্কের এত কুৎসিত রূপ আপনাকে দেখতে হচ্ছে- এটা আসলেই ভেঙে পড়ার মত একটি বিষয়। আর এসব নিয়ে ভেঙে পড়াটাই খুব স্বাভাবিক। আমি তাই আপনাকে কোন সান্ত্বনা দেব না, আপনাকে কিছু বাস্তবসম্মত পরাম’র্শ দেব। পরাম’র্শগুলো প্রথমে আপনার ভালো না লাগলেও আবেগ ও শোকের প্রথম ধাক্কা’টা কে’টে যাবার পর যখন ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করবেন, তখন বুঝতে পারবেন যে এতে আপনার নিজেরই উপকার হবে।

দেখু’ন ভাই, মাঝে মাঝে জীবনে এমন কিছু সময় এসে উপস্থিত হয়, যখন আমাদের বাস্তবতা মেনে নেয়া ছাড়া আর কোনই উপায় থাকে না। আপনার জীবনে এটা ঠিক তেমনই একটি সময়। কারণ, কেউ যদি কাউকে ভালো না বাসে, কেউ যদি কারো সাথে বাস করতে না চায়- তাঁকে তো জো’র করে ধরে রাখা যায় না! আপনি ভুল করেছেন, সেটা বলা যাবে না। কারণ অনেকেই তো পরিবারের অমতে বিয়ে করে আর বিয়ে করে ভালোও থাকে। ভুল করেছেন আপনার স্ত্রী’ আর সেই ভুলের মাসুল এখন আপনাকে দিতে হচ্ছে। তিনি আবেগের বসে ভুল করেছেন, আন্দাজও করতে পারেননি যে জীবন কত কঠিন। বাস্তবতার ছোবলে এখন যখন আর্থিক ক’ষ্ট ফেস করতে হচ্ছে, তাঁর মন ঘুরে গিয়েছে। তিনি এখন মা বাবার কাছে আরামের জীবনে ফিরে যেতে চাইছেন, আপনার সাথে থাকতে চাইছেন না। আপনার ভালোবাসার চাইতে তাঁর কাছে টাকা পয়সার আরামটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু বছর পর হয়তো দেখবেন তিনি অন্য কাউকে বিয়ে করে সুখেও আছেন। এখন আপনি নিজেই ভেবে দেখু’ন ভাই, এই স্ত্রী’কে ঘরে নিয়ে আপনি কি নিজেও সুখে থাকতে পারবেন? ধরুন কোনভাবে বুঝিয়ে নাহয় স্ত্রী’কে ফেরিত নিয়েই এলেন জীবনে। কিন্তু যে স্ত্রী’র মন পেতে টাকা পয়সাই মূল অবলম্বন, সেই স্ত্রী’র সাথে কী’ আজীবন সুখে থাকা সম্ভব বলুন? আর যেহেতু লিখেছেন যে এখন আপনাদের আর্থিক সমস্যা চলছে, সেখানে স্ত্রী’কে ফেরত আনলেও তো এই টাকার কারণে নিত্যদিন সংসারে অশান্তি লেগেই থাকবে!

একই কথাটা আপনার বাচ্চাটার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আপনার বাচ্চাটা এখনো শি’শু ভাই, মাকে ছাড়া থাকা ওর পক্ষে এখনোই সম্ভব না। তাছাড়া একটি বাচ্চাকে ভালমতন মানুষ করতে গেলে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। যেখানে আপনি টাকার অভাবে স্ত্রী’র অ’পারেশন করাতে পারেন নি বিধায় স্ত্রী’ ডি*ভোর্স নোটিস পাঠিয়েছে, সেখানে বাচ্চাটিকে এখনোই নিজের কাছে নিয়ে আসাটা কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলুন? বাচ্চাটা তো ক’ষ্ট পাবেই, আপনি নিজেও ক’ষ্ট পাবেন। বরং বাচ্চাটা আপাতত মায়ের কাছেই থাকুক, কেননা এই মুহূর্তে কোর্টে কেস করেও কোন লাভ হবে না। আ’দালতও বাচ্চাকে মায়ের কাছেই রাখতে দেবে। আপনি বরং সবকিছু বাদ দিয়ে নিজের আর্থিক অবস্থা ফেরানর চেষ্টা করুন। বোকামি করে বিদেশ থেকে চলে এসে সবচাইতে বড় ভুলটা করেছেন। একটা জিনিস মনে রাখবেন ভাই, যার টাকা আছে, তাঁর সব আছে। তাই সবার আগে নিজের আর্থিক অবস্থাটাই মজবুত করতে হবে।

আত্মহ’ত্যা কোন সমধান না। কখনো হতে পারে না। আজ আপনি ম’রে যাবেন, কিছুদিন মা বাবা কাঁদবেন, তারপর আস্তে আস্তে সবাই ভুলে যাবে। এটাই দুনিয়ার নিয়ম। এটাই দুনিয়ার রীতি। তাই আপনি আজ ম’রে গেলে ক্ষতি শুধু আপনার একারই ভাই, আর কারো কিন্তু না। স্ত্রী’র এই প্রতারনাকে জীবনের একটা চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিন, নিজের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করে এমন অবস্থায় চলে যান যেন স্ত্রী’ও আপনাকে দেখে ছুটে আসতে চায় আর তখন যেন আপনি স্ত্রী’কে ফিরিয়ে দেয়ার যোগ্যতা রাখেন। মেয়েটিকে যেন একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ দিতে পারেন। টাকা হলে নিজের মেয়েকে নিজের কাছে এনে মনের মত মানুষ করবেন, এটাই হোক আপনার জীবনের লক্ষ্য।