ধন্যবাদ জানাচ্ছি ব্যারিস্টার সুমনকেও, এ রায়ে আমি সন্তুষ্টঃ নুসরাতের মা ।

ধন্যবাদ জানাচ্ছি ব্যারিস্টার সুমনকেও, এ রায়ে আমি সন্তুষ্টঃ নুসরাতের মা ।

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানব’ন্দি ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মা’মলায় সোনাগাজী থা*নার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে আট বছরের কা’রাদ’ণ্ড দিয়েছেন আ’দালত। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্ম’দ আসসামছ জগলুল হোসেন দু’টি ধারায় মোয়াজ্জেমকে মোট আট বছর কা’রাদ’ণ্ড দেন।

একইসঙ্গে তাকে ১৫ লাখ টাকা অর্থদ’ণ্ড, অনাদায়ে দু’টি ধারায় আরও ছয় মাস বিনাশ্রম কা’রাদ’ণ্ড দেওয়া হয়।এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিন আখতার। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, আমি প্রথমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। সেই সাথে বিচার বিভাগকেও ধন্যবাদ জানাই। এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি ব্যারিস্টার সুমনকেও। সেই সঙ্গে প্রত্যেক মিডিয়া কর্মীদেরও ধন্যবাদ জানাই।

তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট।এর আগে ২০ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আ’সামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ নভেম্বর দিন ধার্য করেন বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্ম’দ আস-শামস জগলুল হোসেন। এ মা’মলায় ১২ জন সাক্ষী আ’দালতে সাক্ষ্য দেন। গত ১৭ জুলাই বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্ম’দ আস-শামস জগলুল হোসেন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ গঠন করেন।

১৭ জুন আ’দালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১৬ জুন রাজধানীর শাহবাগ থেকে তাকে গ্রে’ফতার করে পু’লিশ।বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ২৭ মে গ্রে’ফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আ’সামি মোয়াজ্জেমের বি’রুদ্ধে গ্রে’ফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন মা’মলার বাদী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

গত ১৫ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী মডেল থা*না পু’লিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (প্রত্যাহার হওয়া) মোয়াজ্জেম হোসেনের বি’রুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মা’মলার আবেদন করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আ’দালত তার জবানব’ন্দি নিয়ে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অ’ভিযোগটি পিটিশন মা’মলা হিসেবে গ্রহণ করেন। পরে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আ’দালত।

গত ২৭ মা’র্চ ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌ’ন নি’পীড়ন করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। এমন অ’ভিযোগ উঠলে দুজনকে থা*নায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। এ সময় ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করেন এবং নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অ’ভিযোগ নেয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।

ভিডিওটি প্রকাশ হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।ভিডিওতে দেখা যায়, থা*নার ওসির সামনে অঝোরে কাঁদছেন নুসরাত জাহান রাফি। সেই কা’ন্নার ভিডিও করছেন ওসি মোয়াজ্জেম। নুসরাত তার মুখ দুই হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। তাতেও ওসির আ’পত্তি। বারবার ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কা’ন্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে।’

মা’মলায় অ’ভিযোগ করা হয়, ওসি মোয়াজ্জেম অনুমতি ছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে নুসরাতকে জেরা এবং তা ভিডিও করেন। পরে ওই ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ওসি মোয়াজ্জেম অ’ত্যন্ত অ’পমানজনক ও আ’পত্তিকর ভাষায় নুসরাতকে একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছেন। অধ্যক্ষের নি’পীড়নের ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থা*নায় একটি মা’মলা করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme