সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পরা মেয়েটি এখন বিসিএস ক্যাডার ।

সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পরা মেয়েটি এখন বিসিএস ক্যাডার ।

সম্প্রতি লাক্স তারকা তানজিমা বিসিএস ক্যাডার হিসেবে যোগ দিয়েছেন। সোহানিয়া ৩৭তম বিসিএসে প্রশা*সন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। ইতোমধ্যে যোগ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। মৌসুমী হামিদ, মুমতাহীনা চৌধুরী টয়া, চিত্রনায়িকা টুইঙ্কেল অরিন, মডেল রাখিদের সাথে ছিলেন ২০১০ সালের লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায়। চ্যাম্পিয়ন না হলেও পুরস্কার জিতে নেন ক্লোজ আপ মিস বিউটিফুল স্মাইল ক্যাটাগরিতেও। টয়া-রাখিদের সঙ্গে সোহানিয়া ছবি-ফে’সবুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছেন সোহানিয়া।ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন এই তরুণী।পড়াশোনার পাশপাশি সৃজনশীল কাজের প্রতিও ছিলেন সমান আগ্রহী। গান ও একক অ’ভিনয়ে পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া সোহানিয়া জানান দিয়েছিলেন পড়াশোনাতে এক সময় ভালো করবেন। যার ফল পাওয়া গেল সম্প্রতি।

সবার দোয়া চেয়ে সোহানিয়া একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফে’সবুকে। তিনি লিখেছেন, ‘আলহাম’দুলিল্লাহ। মহান আল্লাহ পাকের অশেষ মেহেরবানিতে ৩৭তম বিসিএসে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে গেজেটেড হলাম। আজ এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমা’র পরম শ্রদ্ধেয় বাবা ও মায়ের। আমা’র ভাই যাদের সাপোর্ট, দোয়া ও ভালোবাসা ছাড়া এই অর্জন হয়তো কখনই সম্ভব হতো না। অনেক অনেক ভালোবাসা তোমাদের জন্য। আর একজনের কথা না বলেই নয়, সে হচ্ছে আমা’র জীবনসঙ্গী ফুয়াদ, যে আমা’র এই বিসিএসের স্বপ্নপূরণের পথে সবসময় আমা’র পাশে থেকেছে। আমাকে সাহস দিয়েছে।আমা’র স্বামীও সহকারী পু’লিশ সুপার হিসেবে গেজেটেড হয়েছে। সবাই আমা’র ও আমা’র স্বামীর জন্য দোয়া করবেন, যেন আম’রা দেশ ও মানুষের সেবা করতে পারি।’

পাবলিক ভার্সিটি তোমাকে জাস্ট একটা সার্টিফিকেট দেবে, আর কিছুই না!যারা ‘কোথাও’ চান্স পাওনিযারা জিততে পারনি, তাদেরকে বলছি : জিততে পারনি, ভাল কথা। কিন্তু তাই বলে হেরেও যেও না।আচ্ছা, জেতা কাকে বলে?আমি যখন চুয়েটে চান্স পেলাম, তখন টপ সাবজেক্ট ছিল কম্পিউটার সায়েন্স। ‘টপ সাবজেক্ট’ মানে, সেই সময়টাতে চলছিল সিএসই’র ক্রেজ। মানে, সিএসই’তে পড়াশোনা করলে ভাল চাকরি পাওয়া যাবে, সবাই এটা ভাবছিল। আমি অ্যাডমিশন টেস্টে ২য় হয়েছিলাম, মানে যারা চুয়েটে চান্স পায়নি, তাদের চোখে (হয়তোবা) ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার দৌড়ে আমি যোগ্যতমদের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে। আরও সহজ করে যদি সরলীকরণ করি, আমার হওয়ার কথা ছিল ২য় সেরা ইঞ্জিনিয়ার! এইতো? নাকি?কিন্তু দেখ, আমি আজকে কী করছি। কেন করছি? আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চাইনি। আমি চেয়েছিলাম, সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করতে। জানো তো, যারা ভার্সিটিতে সাহিত্য নিয়ে পড়ে, ওদেরকে সবাই ভাবে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক। আর বাবা-মা’রা চান না, উনাদের সন্তান দ্বিতীয় নাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠুক। কেন উনারা ওরকম করে ভাবেন? এখনও অনেকে এই ধারণা নিয়ে বসে থাকেন, সাহিত্যে পড়লে পাস করে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টারি করা ছাড়া আর কী-ই বা করবে? আর মাস্টাররা তো গরীব, তাই ওরকম মাস্টার হয়ে কী হবে? তার মানে দাঁড়াল এই, আমাদের বাবা-মা’রা আমাদেরকে ‘কিছু একটা’ হিসেবে দেখতে চান। কথা হল, ওই ‘কিছু একটা’ আসলে কী? ওটা হল, আর্থিক সচ্ছলতা আর সামাজিকভাবে স্বীকৃত একটা অবস্থান। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যতটা না পড়াশোনা করতে যাই, তার চাইতে ঢের বেশি যাই পাস করার পর একটা ভাল বেতনের চাকরি জোটাতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme