সেই ট্রলি ব্যাগে পাওয়া মাথাবিহীন লাশের রহস্য উদঘাটন ।

সেই ট্রলি ব্যাগে পাওয়া মাথাবিহীন লাশের রহস্য উদঘাটন ।

ময়মনসিংহের পাটগুদাম ব্রিজের পাশে একটি লাল ট্রলিব্যাগ থেকে উদ্ধা’র করা হয় এক পুরুষের দে’হের খ’ণ্ডিত অংশ। এরপর দুই দিন পর কুড়িগ্রামের একটি পুকুর থেকে উ’দ্ধার হয় হাত পা ও মাথা। বোনকে উ’ত্ত্যক্ত করার জের ধরে এই নৃ’শংস হ’ত্যাকা’ণ্ড ঘটেছে বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মোঃ ফারুক মিয়া (২৫), মোঃ হৃদয় মিয়া (২০), মোছাঃ সাবিনা আক্তার তারা নেত্রকোনা হুগলার বাবুল মিয়ার মেয়ে, মোছাঃ মৌসুমী আক্তার (২২), সে কুড়িগ্রামের ফারুক মিয়ার স্ত্রী।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে সেই ট্রলি ব্যাগে পাওয়া লা’শের পরিচয়। ট্রলি ব্যাগে পাওয়া যায় বকুল মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের ম’রদেহ। বকুল মিয়া নেত্রকোনা হুগলা বাজারের ময়েজ উদ্দিনের ছেলে। বুধবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, আ’সামিরা হ’ত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবা’নব’ন্দি দিয়েছে। লা’শের পরিচয় গো’পন করতে ও পুলিশের হাতে ধ’রা না পড়তে লা’শ টুকরা টুকরা করে আলাদা আলাদা স্থানে ফেলা হয়েছিলো।

তিনি আরও জানান, ট্রলি ব্যাগে লা’ শ পাওয়ার পর ২৫ অক্টোবর ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হ’ত্যা মামলা দায়েরের পর তার তদ’ন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখার ওপর ন্যা’স্ত করা হয়। মামলাটি তদন্তকালে কুড়িগ্রামে খ’ণ্ডিত দে’হাংশের সঙ্গে নারীদের হাতব্যাগে পাওয়া চিরকুটের সূত্র ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভি’যান চালায় ময়মনসিংহ ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে একটি দল।

গত ২৮ অক্টোবর গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থেকে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই নারীসহ ওই চারজনকে আটক করে ডিবি। পরে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা হ’ত্যার কথা স্বীকার করে ও জানায় বোনকে উ’ত্ত্যক্ত করার জে’রে তারা বকুল নামে ওই যুবককে হ’ত্যা করেছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার শুরু নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় হুগলা গ্রামে। বখাটে যুবক বকুল উত্ত্য’ক্ত করে স্থানীয় সাবিনা আক্তার নামে এক নারীকে। সাবিনার পরিবার এতে অতিষ্ট হয়ে সাবিনাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। তারপরও পিছু ছাড়েনি বকুল।

সাবিনার শশুর বাড়ি গিয়ে তাকে আবারও উ’ত্ত্যক্ত করা শুরু করে। বকুলের হাত থেকে নি’স্তার পেতে এক পর্যায়ে তাকে হ’ত্যার পরিকল্পনা করে সাবিনা ও তার দুই ভাই ফারুক মিয়া এবং হৃদয় মিয়া। সাথে যোগ দেয় ফারুক মিয়ার স্ত্রী মৌসুমি আক্তার। হ’ত্যার ছক আঁ’কার পর সাবিনা আক্তার বকুলের সাথে প্রেমের ভান করা শুরু করে। একপর্যায়ে দেখা করার কথা বলে গত ১৯ অক্টোবর তাকে ডেকে আনে গাজীপুরের জয়দেবপুরে ভাইয়ের বাসায়। ভাই ফারুক মিয়া এবং হৃদয় মিয়া সেখানে গার্মেন্টসে চাকরি করে। সেখানে বকুলকে প্রথমে হ’ত্যা করা হয়।

তারপর গার্মেন্টসের কাপড় কা’টার ধা’রালো ব্লে’ট দিয়ে লা’শ ছয় টু’করা করা হয়। হাত, পা ও মাথা ব্যাগে করে মৌসুমি আক্তার তার নিজ বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজার হাটে পুকুরে ফেলে দিয়ে আসে। সাথে যায় সাবিনাও। আর শরী’রের বাকি অংশ একটি ট্রলিব্যাগে করে ময়মনসিংহের পাটগুদাম ব্রিজের পাশে ফেলে রেখে যায় ফারুক মিয়া এবং হৃদয় মিয়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]