ছোট্ট আবরার সোনামণি’র ছবি ফেসবুকে ভাইরাল ।

ছোট্ট আবরার সোনামণি’র ছবি ফেসবুকে ভাইরাল ।

ছাত্রলীগের নির্যাতনে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের শিশুকালের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

গত সোমবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ‘বুয়েটিয়ান’ ফেসবুক পেজে ‘ছোট্ট আবরার সোনামণি’ ক্যাপশনে আবরারের শিশুকালের একটি ছবিটি পোস্ট করা হয়। যা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিটিতে ৩৬ হাজারে (লাইক) রিয়েকশন, ৫৪২টি কমেন্ট এবং ৭৮৭টি শেয়ার হয়েছে।

অনেকেই কমেন্ট করেছেন পোস্টটিতে। কয়েকজন মন্তব্য করেছেন… সুচনা ইসলাম আলো লিখেছেন, চেহারায় নুর আছে ছোটবেলা থেকেই। আল্লাহ মনে হয় তাদের প্রিয় রুহ গুলাকে অনেক আগে থেকেই আলাদাভাবে বিশেষ বৈশিষ্টে স্পেশাল করে দেন।

Hariz Ahmed লিখেছেন, অনন্ত মহাকালে মোর যাত্রা অসীম মহাকাশের অন্তে. (প্রিয় ভাই শহীদ আবরার ফাহাদ,) “নিশ্চয়ই পুন্যবানেরা জান্নাতে সুখে থাকবে” আল- কোরআন।

Mansura Mahin লিখেছেন, যতবার তোমার খবর পড়েছি,দেখেছি কোনভাবেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি, আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে অনেক দোয়া রইল, আল্লাহ তোমাকে জান্নাতের উচু মাকাম দান করুক এই কামনায় করি,,, তোমার মা বাবার কান্নার মুল্য তুমি পাবে ইনশাআল্লাহ…

শেহজাবিন রহমান রিমঝিম লিখেছেন, তোমাকে কখনও বাস্তবে দেখি নি,ভাই। এরপরেও তোমার কথা ভাবলে,কষ্টে বুকটা ফেটে যায়। আল্লাহ তা’আলা…তোমাকে জান্নাত নসীব করুক। Syed Bahar Uddin লিখেছেন, “এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।”
তোমারি এ রক্তের বিনিময়ে আজ ও আগামীর বুয়েটের শিক্ষাঙ্গন পুরোপুরি কলুষমুক্ত হোক্। জয় হোক সত্য সুন্দরের! নির্মুল হোক সকল দানবীয় অসুরদের।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনারিংয়ের (ইইই) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের সঙ্গে শিশির ভেজা পথে হাঁটতে চেয়েছিলেন এক তরুণী। কিন্তু শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার ফাহাদের দেখা পেলেন না তিনি। অকালে চলে যাওয়ায় স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ওই তরুণীর। গত ২০ জুন, ২০১৯ তারিখে সামাজিক মাধ্যমে একটি খোলা চিঠিতে নিজের মনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন নাম না জানা ওই তরুণী। ওই পোস্টে লেখা হয়েছে,

#266 To: Abrar Fahad (EEE) ভাইয়া, আশা করি ভাল আছেন। আপনি আমাকে মনে রেখেছেন কি না জানি না। কিন্তু আমি আপনাকে ভালভাবেই মনে রেখেছি। আপনার ক্লাস করেছিলাম কুষ্টিয়াতে থাকতে। আপনার কথা বলার স্টাইল, আপনার আত্মবিশ্বাস আমাকে অনেক মুগ্ধ করেছে। হাঁটবেন আমার সাথে শিশির ভেজা পথে? আমি কিন্তু অপেক্ষায় থাকলাম। Someone from DMC k-76

আবরারকে উদ্দেশ করে লেখা কোনো এক তরুণীর পোস্ট বুয়েট’১৭ ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশনস অফিসিয়াল নামে ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে নিজের নাম পরিচয় দেননি ওই তরুণী। পোস্টের কমেন্টে বেশ কয়েকজন আবরার ফাহাদকে মেনশন করলেও তার কোনো রিপ্লাই চোখে পড়েনি।

গত ৬ অক্টোবর বুয়েটের শের-ই বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। এরমধ্যে চার মাস আগের সেই পোস্টটি নিয়ে ফেসবুকে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পোস্টটি শেয়ার হয়েছে প্রায় ১২শ বার। মন্তব্যও পড়েছে কয়েক হাজার।

অন্তর বসু অন্তু নামে একজন ওই পোস্টে কমেন্ট করেছেন, ‘শিশির ভেজা পথে হাঁটার জন্যে এ অপেক্ষার কোনো সীমা নেই। অনন্ত মহাকাশের অন্তে হারিয়ে যাওয়া যাত্রী কখনো আর ফিরে আসে না। তাই এ অপেক্ষা শেষ হবার নয়। হয়ত কোনো একদিন কোনো অচেনা জায়গায় হঠাৎ করেই সাক্ষাত হয়ে যাবে। অপেক্ষাটা শুধু সেদিনের জন্য।’

নামিরা নামে একজন লিখেছেন, ‘পোস্ট/কমেন্ট কোনোটাতেই আবরার ভাইয়ার কোনো রিয়েক্ট পর্যন্ত নাই, আহা! এমন ছেলে আছে কয়জন এই দুনিয়ায়! পৃথিবীটা আবরার ভাইয়ের জন্য উপযুক্ত ছিলো না।’ সুমন খান লিখেছেন, ‘আমরা আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, যার সাথে আপনি শিশির ভেজা পথে হাঁটতে চেয়েছিলেন তাকে আমরা বাঁচাতে পারিনি।’ collected: The Bangladesh Today

আবরার ফাহাদের আচরণ ও আত্নবিশ্বাস এর কারনে অজানা কোন এক তরুণী আবরার ফাহাদকে ভালোবেসেছিল। তার ভালোবাসার কথা জানিয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রূপ Buet’17 crush নামের এক গ্রুপ এ। কে এই তরুণী তা জানা যায় নি। তবে এই পোস্ট টি শেয়ার করেছিলো এই বছরের জুন মাসের ২০ তারিখে। হয়তো আবরার তা দেখেছিলো। মেয়েটি যা বলেছিলো তা নিচে দেওয়া হলোঃ

“ভাইয়া,আশা করি ভালো আছেন, আপনি আমাকে মনে রেখেছেন কিনা জানি না।কিন্তু আমি আপনাকে ভালভাবেই মনে রেখেছি। আপনার ক্লাস করেছিলাম কুষ্টিয়া তে থাকতে। আপনার কথা বলার স্টাইল, আপনার আত্নবিশ্বাস আমাকে অনেক মুগ্ধ করেছে। হাটবেন আমার সাথে শিশির ভেজা পথে? আমি কিন্তু অপেক্ষায় থাকলাম” আবরারের জন্য হয়তো এই তরুণীর অপেক্ষা বেড়ে গেলো এবং সে সাথে ভালোবাসার মানুষটির এই নি’র্মম মৃ’ত্যু কোনোদিনও ভুলতে পারবেন না। ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের নি’র্মম নি’র্যাতনে অকালে প্রা*ণ হা*রিয়েছেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ।

‘মিজান পানি আনতে বললে পানি এনে আবরারকে খাওয়ানো হয়। আমা’র সঙ্গে মোর্শেদ, আফাদ, তোহা ও শামীম বিল্লাহ আরবারকে বাঁ’চানোর চেষ্টা করে। কিন্তু হলের নিয়ম অনুযায়ী আম’রা বড় ভাইদের জো’র করে কিছু বলতে পারিনি। অবস্থা খা’রাপ হওয়ায় অনিক ভাইদের কাছে আবরারকে হাসপাতালে নেয়ার কথা বলি। কিন্তু তারা শোনেননি। পরে অবস্থা আরো খা’রাপ হলে সিঁড়ির কাছে নিয়ে রাখতে বলে।

মোয়াজ, তামিম ও জেমি কোলে করে সিঁড়ির কাছে নিয়ে যায়। পিছে পিছে আমিও ছিলাম। তাই সিসি টিভিতে আমাকে দেখা গেছে। সিঁড়ির কাছে নেয়ার উদ্দেশ্য ছিল- আবরারকে শিবির বলে পু’লিশের কাছে ধরিয়ে দেয়া। পু’লিশকে ডা’কাও হয়েছিল। কিন্তু আবরার মা’রা যাওয়ায় তাকে পু’লিশে দিতে পারেনি। রাত ৩টার দিকে আবরার মা’রা যায়।’ এভাবেই (১২ অক্টোবর) রি’মান্ড শুনানির আগে বিচারক এজলাসে ওঠার আগে আবরার হ’ত্যার বর্ণনা দেন আবরার হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি মাজেদুর রহমান মাজেদ।

মাজেদ আরও বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার দিকে গালিবের সঙ্গে ২০১১ নম্বর রুমে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, হলের বড় ভাই অনিক আবরারকে মা’রছে। জুনিয়র হিসেবে ঠেকানোর কোনো উপায় আমাদের ছিল না। তার আগে রবিনসহ কয়েকজন আবরারকে মে’রেছে বলে শুনেছি। পরে অবস্থা খা’রাপ হওয়ায় সেখান থেকে আবরারকে ২০০৫ নম্বর রুমে নিয়ে যায়। সেখানে আবরারের শরীরে মলম লাগায়।’ উল্লেখ্য, শুক্রবার (১১ অক্টোবর) ভোর ৪ টার দিকে সিলেটের শাহ কিরন এলাকা থেকে মাজেদকে গ্রে’ফতার করে গোয়েন্দা পু’লিশের ধানমন্ডি জোনাল টিম। মাজেদ বুয়েটের উপকরণ ও ধাতু বিদ্যা প্রকৌশল (এমএমই) বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র।

গ্রামের খুব মেধাবী সরল-সুবোধ বালকটিই যে বুয়েটের আবরার ফাহাদ হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি- একথা ভাবতেই শিউরে উঠছেন সবাই। তাঁরা বলছেন, নিরীহ প্রকৃতির ওই ছেলে তো কোনো দল করেনি। কোনো অসাধু সঙ্গেও দেখা যায়নি তাকে। পরিবারটিও নিরীহ প্রকৃতির। তাহলে কীভাবে সে এতবড় একটি নৃ,শংস ঘটনায় জড়িয়ে পড়তে পারল?

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ইছাকুড় গ্রামের দরিদ্র ট্রাকচালক আমিনুর রহমান ওরফে বাবলু সরদারের ছেলে বুয়েটের নেভাল অ্যান্ড আর্কিটেকচার বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শামিম বিল্লাহ।

গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে খালার বাড়ি দেউলিয়া থেকে শামিম বিল্লাহকে গ্রে,প্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। শামিম বিল্লাহ আবরার হ’ত্যা মা’মলার ১৪ নম্বর আ’সামি। শেরে বাংলা হলের ২০০৪ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা।

শামিম গ্রেপ্তারের পর থেকে গ্রামের মানুষ বারবার একই কথা বলছেন, শামিম বিল্লাহ কীভাবে এই হ’ত্যাকাণ্ডে জড়িত হতে পারলেন! শামিম বিল্লাহর বাবা বাবলু সরদার বলেন, ২০১৫ সালে এসএসসিতে গোল্ডেন ‘এ’ প্লাস পেয়েছিল সে।

২০১৭ সালে ঢাকার সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকেও গোল্ডেন ‘এ’ প্লাস পায়। এর আগে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি এবং পঞ্চম শ্রেণি সমাপনীতেও সে সেরা ফলাফল করেছিল। শামিম বিল্লাহকে লেখাপড়া করাতে কোনো খরচ হয় না জানিয়ে বাবা বলেন, ছেলে ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে।

ঢাকায় সে একজন সচিবের সন্তানকে পড়ায়। সেখান থেকে যে টাকা সে পায় তা দিয়ে নিজের খরচ চালিয়েও বাড়িতে পাঠায়। এরই মধ্যে সে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন সবই কিনেছে নিজের টাকায়।

বাবলু সরদার জানান, নিজের জমানো আড়াই লাখ টাকা দিয়ে সম্প্রতি একটি এফজেড মোটরসাইকেল কিনেছে শামিম বিল্লাহ। এর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শামিম বিল্লাহর বাবা বলেন, আবরার ফাহাদ খু’নের দিন রাত ৯টার দিকে শামিম বিল্লাহ টিউশনি করিয়ে একটি নতুন হেলমেট কিনে হলে ঢুকছিল।

সেখানে অনেকটা হাঙ্গামা দেখতে পায় সে। ওই মুহূর্তে তাঁর বন্ধুরা তার হেলমেটেটি মাথায় পরে হাসি-তামাশাও করে। এর কিছুক্ষণ পর হলের বড় ভাইরা ওদের সবাইকে ডাকে। এমন ১০-১৫ জনের মধ্যে শামিম বিল্লাহও একজন। বড় ভাইরা কী সব পরামর্শ নাকি দিয়েছিল তাদের। এরপর শামিম রুমে চলে যায়।

ছেলের বরাত দিয়ে বাবলু সরদার আরো বলেন, আবরার হ’ত্যার পরের দিনও শামিম বিল্লাহ হলে ছিল। কিন্তু দারোয়ান তাঁকে ডেকে বলে, বাবা তুমি তো পাশের রুমে থাক। এখন এখানে থাকা নিরাপদ নয়। এরপর শামিম একজন সচিবের বাসায় ওঠে। সেখান থেকে সে সরাসরি গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায় চলে আসে। এরপর কোনোকিছু বুঝে উঠবার আগেই পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়।

শামিমের একমাত্র ছোট বোন শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজের ছাত্রী। শামিমের মা হালিমা খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে কারো সঙ্গে ঝগড়াও করেনি কোনোদিন। সবাই তাকে ভালো বলে। আমরা ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে আছি। কিন্তু এ কোন বিপদের মুখে পড়ল আমার সোনার ছেলেটি।’

বাবা বাবলু সরদার বলেন, ‘আমি কিস্তিতে একটি ট্রাক কিনে সেটা চালাই। আমার ভাই লাভলু ঢাকা পরিবহনের চালক। আমার বাবা আতিয়ার রহমান একটি ইটভাটায় চাকরি করেন। সব মিলে আমার পরিবার স্বচ্ছলতার মুখ দেখছিল। এর মধ্য দিয়ে ছেলেটি লেখাপড়া শিখে বড় হচ্ছিল। কিন্তু মাঝখানে এ কেমন বাধা পড়ে গেল।’

শামিম বিল্লাহর বাবা আরো বলেন, ‘একজন বাবা হিসাবে আমি চাই, যারা আবরারকে হ’ত্যা করেছে তারা যেন শাস্তি পায়। এমনকি আমার ছেলে দোষী হলে সেও শাস্তি পাক। কিন্তু নিরীহ নিরপরাধ কোনো ছেলে যেন কোনোভাবেই ষড়যন্ত্রের শিকার না হয়।’

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]