আবরার নামাজের জন্য সবাইকে ডাকতো, তখনি ভেবে নিলাম – ও ‘শিবির’!

আবরার নামাজের জন্য সবাইকে ডাকতো, তখনি ভেবে নিলাম – ও ‘শিবির’!

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর ছাত্র আবরার ফাহাদের উপর যে নি’র্মম নি’র্যাতন চালানো হয়েছে তার বর্ণনা উঠেছে এসেছে আ’সামিদের জবানবন্দীতে। গ্রে’প্তারের পর এই হ’ত্যাকা’ণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন তারা । আ’দালতে দেয়া জবান’বন্দি ও ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আবরার নামাজের জন্য সবাইকে ডাকতো, তখনি ভেবে নিলাম – ও ‘শিবির’!

রাত আটটার দিকে আবরারকে ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়।ওই রুমে যাওয়া মাত্রই আবরারকে অকথ্য ভাষায় গালি দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আবার তখন মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলাে। ছাত্রলীগ নেতাদের ধারণা ছিলাে আবার শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার মােবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চেক করা হয়। এতে শিবির সংশ্লিষ্ট কিছু না পেলেও আবরারের কাছে বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল জানতে চায়, ক্যাম্পাসে কারা, কারা শিবির করে?

এসময় আবরারকে কয়েকটি চড় মা’রে মেহেদি। সেইসঙ্গে ওই রুমে থাকা ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাদের নির্দেশ দেয় আবরারকে পি’টিয়ে তথ্য জানতে হবে। ওই নির্দেশ দিয়ে মেহেদি রুম থেকে বের হয়। এসময় তার সঙ্গে ছিলাে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন। ওই নির্দেশের পরেই শুরু হয় বেদম মা’র। প্রথমে চড় ও লাথি।

একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা সামসুল আরেফিন রাফাত স্ট্যাম্প এনে দেয় ইফতির হাতে। স্ট্যাম্প হাতে নিয়ে আবরারের কাছে ইফতি জানতে চান, ক্যাম্পাসে শিবির করে কারা কারা? আবরার জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তারপর দুহাত টান টান করে স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করেন আবরারকে। আবরার “মাগাে মাগাে’ বলে চি’কার করেন। এভাবে কয়েকবার মা’রার পর স্ট্যাম্পটি ভেঙ্গে যায়।

বিষয়ক সম্পাদক অনিক সরকার। ইফতির বর্ণনা অনুসারে আবরারের হাঁটু, পা, পায়ের তালু ও বাহুতে আ’ঘাত করছিলাে অনিক সরকার। পায়ের তালুতে আ’ঘাত করলে ‘বাঁ’চাও বাঁ’চাও’ বলে চি’কার করে আবরার। এসময় অংশ নেয় ছাত্রলীগের আরেক নেতা মেফতাহুল। একই কায়দায় সেও পে’টায় আবরারকে। এভাবে মা’র চলছিলাে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। এরমধ্যেই রাতের খাবার খেতে ক্যান্টিনে যায় ইফতি।

খাবার খেয়ে ফিরে এসে দেখতে পায় আবরার মেঝেতে পড়ে আছে। এসময় ধমক দিয়ে তাকে উঠে দাঁড় করিয়ে পিটাতে থাকে ইফতি। মােটা দড়ি দিয়ে আবরারকে এই দফায় পিdটাতে থাকে মুজাহিদুর রহমান। তারপর আবার ইফতি। তারপর তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, রবিন। প্রায় একটানা এক ঘন্টা পি’টিয়েছে বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার।

রাত ১১টার দিকে আবার ওই কক্ষে যায় অনিক। এসময় অনিক স্টাম্প দিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এলােপাতাড়ি শতাধিক আ’ঘাত করে আবরারকে। আবরার তখন পা ধরেছিলাে বারবার। মা’রবেন না, মা’রবেন না বলে অনুনয় করেছিলাে। অনিক খুবই অনিয়ন্ত্রিতভাবে আবরারকে মা’রতে থাকে। রাত ১২টা পর্যন্ত আবরারকে মারতে থাকে সে। মা’রতে মারতে ঘেমে যায়। আবরারের কথা তখন অস্পষ্ট। কথা বলার শক্তি নেই প্রায়। অনিক তখন বের হয়ে যায়।

জবানবন্দিতে ইফতি জানিয়েছে, তখন আবরার অ’সুস্থ হয়ে পড়েন। ঘন ঘন নিশ্বা’স নিচ্ছিলাে। ওই সময়ে আবরার বমি করেন। পরপর দুবার বমি করেন। ভয় পেয়ে যায় ইফতি। ফোনে এ বিষয়ে কথা বলে অনিকের সঙ্গে। অনিক পরাম’র্শ দেয় আবরারের শরীরে মলম লাগিয়ে দিতে। পরে ২০০৫ নম্বর কক্ষে বিছানায় রাখা হয় আবরারকে। এসময় ম্যাসেজ পাঠায় বুয়েট ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা।

অমিত সাহা সবকিছু জানার পরে নির্দেশ দেন তাকে আরও মা’রতে হবে। মে’রে তথ্য বের করতে হবে। কিছুক্ষণ পর বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী ও অনিক ২০০৫ নম্বর কক্ষে যায়। মেহেদি তখন। বলে, “কিছু হয়নি। ও নাটক করতেছে’। ওই সময়ে আবার বমি করেন আবরার। মেহেদী তখন আবরারকে পু’লিশের হাতে দেয়ার জন্য নিচে নামাতে বলে।

তােশকসহ আবরারকে দোতলা ও নিচতলার সিঁড়িতে নামিয়ে রাখা হয়। ওই সময়ে আবার অস্পষ্টভাবে কয়েকবার তাদের বলেছিলাে, ভাইগাে, ভাই শরীরটা খুব খা’রাপ লাগছে। সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল তখন নিচে নেমে হলের প্রধান ফট’কে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে। তখন মুনতাসির জানায়, আবরারের হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছে। ইসমাইল ও মনির তখন অ্যাম্বুলেন্সে ফোন দেয়। অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি হওয়ায় তামিম বাইক নিয়ে বুয়েট মেডিকেলের চিকিৎসক নিয়ে আসে। চিকিৎসক আসার পরপরই অ্যাম্বুলেন্স আসে। সিড়িতে আবরারকে দেখে চিকিৎসক জানান, আবরার মা’রা গেছে। আবার মা’রা গেছে জানার পর হলের কক্ষে শুয়ে থাকে ইফতি। সূত্রঃকালের কণ্ঠ

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]