সর্বশেষ আপডেট
#জরুরী_আবহাওয়া_বার্তাঃ তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, তীব্র শীতের আভাস মা হারানো শিশুটির দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন উপমন্ত্রী শামীম নাদিয়ার মা-বাবার খোঁজ মিলছেই না আপনার একটি শেয়ারে হয়ত নাদিয়া ফিরে পাবে ওর বাবা মাকে । এমপি নিজেও কাঁদলেন, প্রধানমন্ত্রীকেও কাঁদালেন । গা’জা থেকে রকেট বৃষ্টি শুরু, আত’ঙ্কে দিশেহারা ইস’রাইল । ইরফান পাঠানের স্ত্রী বলিউড অভিনেত্রীদের থেকেও সুন্দরী, ছবিসহ । যে কাজ করায় প্রশংসায় ভাসছেন ওসি মেহেদী হাসান… ফাঁ’সির মঞ্চের কাছাকাছি ১২ আ’সামি । আবরার হ,ত্যা মামলার চার্জশিট জমা, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবরার হ,ত্যায় ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা
রাশিয়াতে পা’রমানবিক গ’বেষণার সুযোগ পর্যন্ত পে’য়েছিলেন বু’য়েটের আবরার ।

রাশিয়াতে পা’রমানবিক গ’বেষণার সুযোগ পর্যন্ত পে’য়েছিলেন বু’য়েটের আবরার ।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদ রাশিয়ায় পা’রমানবিক গ’বেষণার সুযোগ পে’য়েছিলেন। তবে তিনি সেখানে যাননি। মায়ের আ’পত্তির কারণে দেশ ছেড়ে যাননি আবরার।

এমন তথ্যই জানিয়েছেন আবরারের মা। তিনি বলেন আমার ছেলে মেডিকেল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছিল। তবে তার স্বপ্ন ছিল বুয়েটে পড়াশোনা করার তাই সে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। রাশিয়া গিয়ে পা’রমানবিক নিয়ে গ’বেষণার সুযোগও পে’য়েছিলেন আবরার। কিন্তু তিনি আ’পত্তি তুলেন। কারণ তার ধারণা ছিল যারা পা’রমানবিক নিয়ে কাজ করে তাদের ক্যান্সার হয়। তাই তার অনুমতি না পেয়ে বু’য়েটে ভর্তি হ’য়েছিলেন আবরার। গ্রামের বাড়িতে শোকার্ত মা রোকেয়া খাতুন আহাজারি করে সাংবাদিকদের এসব ত’থ্য দেন।

আবরারের মা বলেন, ছেলেটা ঢাকা মেডিকেল, ঢাবি আর বু’য়েটে চান্স পে’য়েছিল। সব বিসর্জন দিয়ে ভর্তি হয় বু’য়েটে ইঞ্জিনিয়ার হবে বলে। আজ ছেলেটা লা’শ হয়েছে। তাকে মেডিকেলে প’ড়তে বলেছিলাম, সে পড়ে নাই; যেতে হয়েছে মেডিকেলের মর্গে।

জানা গেছে, নিহত আবরার ফাহাদ কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফের বাড়ির পেছনের বাসিন্দা অবসর প্রাপ্ত ব্র্যাক কর্মী বরকত উল্লাহ-রোকেয়া দ’ম্পতির বড় ছেলে। গ্রামের বাড়ি কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডা’ঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।

পা’রিবারিক সূত্র জানায়, বরকত উল্লাহর ছেলে বড় ছেলে আবরার ফাহাদ ২০১৫ সালে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ পেয়ে উ’ত্তীর্ণ হন। পরে এইচ এসসি বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন ঢাকা নটরডেম কলেজে। সেখান থেকে ২০১৭ সালে এইচ এসসি পরীক্ষাতেও গোল্ডেন এ প্লাসসহ উত্তীর্ণ হন। পরে বু’য়েটের ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস বিভাগে ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। ফাহাদ সেখানে শেরে বাংলা হলের ১০১১ নং কক্ষের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। ফেইসবুকে ভারতের স’ঙ্গে পানি গ্যাস ও বন্দর চু’ক্তি নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়ায় তাকে পি’টিয়ে হ’ত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাক’র্মীরা। এঘ’টনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ১৩জনকে রিমান্ডে নে’য়া হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পি’টিয়ে ঘ’টনায় তার পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষ’তিপূরণ দেয়ার নি’র্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে হাইকোর্টে। ক্ষ’তিপূ’রণের স’ঙ্গে বিচার বিভাগীয় তদন্ত (জুডিশিয়ার ইনকোয়ারি) এবং আবরারের পরিবারের নিরা’পত্তা নিশ্চিত করার জন্যও নি’র্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহিন বাবুর পক্ষে অপর আইনজীবী এ কে এম ফায়েজ এ রিট আবেদন দায়ের করেন বলে নিশ্চিত করেন।

প্রস’ঙ্গত ভারতের স’ঙ্গে সম্পাদিত চু’ক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় খু’ন হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। ভারতের স’ঙ্গে চু’ক্তির বিরো’ধিতা করে গত ৫ অক্টোবর সামাজিক যো’গাযো’গমা’ধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ।

এর জেরে পর দিন ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পে’টানো হয়। এতে ঘ’টনাস্থলেই তার মৃ’ত্যু হয়। পিটুনির সময় নি’হত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চি’হ্নিত করার চে’ষ্টা চালায় খু’নিরা।
collected: daily jugantor

আবরার ফাহাদের আচরণ ও আত্নবিশ্বাস এর কারনে অজানা কোন এক তরুণী আবরার ফাহাদকে ভালোবেসেছিল। তার ভালোবাসার কথা জানিয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রূপ Buet’17 crush নামের এক গ্রুপ এ। কে এই তরুণী তা জানা যায় নি। তবে এই পোস্ট টি শেয়ার করেছিলো এই বছরের জুন মাসের ২০ তারিখে। হয়তো আবরার তা দেখেছিলো। মেয়েটি যা বলেছিলো তা নিচে দেওয়া হলোঃ

“ভাইয়া,আশা করি ভালো আছেন, আপনি আমাকে মনে রেখেছেন কিনা জানি না।কিন্তু আমি আপনাকে ভালভাবেই মনে রেখেছি। আপনার ক্লাস করেছিলাম কুষ্টিয়া তে থাকতে। আপনার কথা বলার স্টাইল, আপনার আত্নবিশ্বাস আমাকে অনেক মুগ্ধ করেছে। হাটবেন আমার সাথে শিশির ভেজা পথে? আমি কিন্তু অপেক্ষায় থাকলাম” আবরারের জন্য হয়তো এই তরুণীর অপেক্ষা বেড়ে গেলো এবং সে সাথে ভালোবাসার মানুষটির এই নি’র্মম মৃ’ত্যু কোনোদিনও ভুলতে পারবেন না। ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের নি’র্মম নি’র্যাতনে অকালে প্রা*ণ হা*রিয়েছেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ।

‘মিজান পানি আনতে বললে পানি এনে আবরারকে খাওয়ানো হয়। আমা’র সঙ্গে মোর্শেদ, আফাদ, তোহা ও শামীম বিল্লাহ আরবারকে বাঁ’চানোর চেষ্টা করে। কিন্তু হলের নিয়ম অনুযায়ী আম’রা বড় ভাইদের জো’র করে কিছু বলতে পারিনি। অবস্থা খা’রাপ হওয়ায় অনিক ভাইদের কাছে আবরারকে হাসপাতালে নেয়ার কথা বলি। কিন্তু তারা শোনেননি। পরে অবস্থা আরো খা’রাপ হলে সিঁড়ির কাছে নিয়ে রাখতে বলে।

মোয়াজ, তামিম ও জেমি কোলে করে সিঁড়ির কাছে নিয়ে যায়। পিছে পিছে আমিও ছিলাম। তাই সিসি টিভিতে আমাকে দেখা গেছে। সিঁড়ির কাছে নেয়ার উদ্দেশ্য ছিল- আবরারকে শিবির বলে পু’লিশের কাছে ধরিয়ে দেয়া। পু’লিশকে ডা’কাও হয়েছিল। কিন্তু আবরার মা’রা যাওয়ায় তাকে পু’লিশে দিতে পারেনি। রাত ৩টার দিকে আবরার মা’রা যায়।’ এভাবেই (১২ অক্টোবর) রি’মান্ড শুনানির আগে বিচারক এজলাসে ওঠার আগে আবরার হ’ত্যার বর্ণনা দেন আবরার হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি মাজেদুর রহমান মাজেদ।

মাজেদ আরও বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার দিকে গালিবের সঙ্গে ২০১১ নম্বর রুমে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, হলের বড় ভাই অনিক আবরারকে মা’রছে। জুনিয়র হিসেবে ঠেকানোর কোনো উপায় আমাদের ছিল না। তার আগে রবিনসহ কয়েকজন আবরারকে মে’রেছে বলে শুনেছি। পরে অবস্থা খা’রাপ হওয়ায় সেখান থেকে আবরারকে ২০০৫ নম্বর রুমে নিয়ে যায়। সেখানে আবরারের শরীরে মলম লাগায়।’ উল্লেখ্য, শুক্রবার (১১ অক্টোবর) ভোর ৪ টার দিকে সিলেটের শাহ কিরন এলাকা থেকে মাজেদকে গ্রে’ফতার করে গোয়েন্দা পু’লিশের ধানমন্ডি জোনাল টিম। মাজেদ বুয়েটের উপকরণ ও ধাতু বিদ্যা প্রকৌশল (এমএমই) বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র।

গ্রামের খুব মেধাবী সরল-সুবোধ বালকটিই যে বুয়েটের আবরার ফাহাদ হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি- একথা ভাবতেই শিউরে উঠছেন সবাই। তাঁরা বলছেন, নিরীহ প্রকৃতির ওই ছেলে তো কোনো দল করেনি। কোনো অসাধু সঙ্গেও দেখা যায়নি তাকে। পরিবারটিও নিরীহ প্রকৃতির। তাহলে কীভাবে সে এতবড় একটি নৃ,শংস ঘটনায় জড়িয়ে পড়তে পারল?

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ইছাকুড় গ্রামের দরিদ্র ট্রাকচালক আমিনুর রহমান ওরফে বাবলু সরদারের ছেলে বুয়েটের নেভাল অ্যান্ড আর্কিটেকচার বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শামিম বিল্লাহ।

গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে খালার বাড়ি দেউলিয়া থেকে শামিম বিল্লাহকে গ্রে,প্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। শামিম বিল্লাহ আবরার হ’ত্যা মা’মলার ১৪ নম্বর আ’সামি। শেরে বাংলা হলের ২০০৪ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা।

শামিম গ্রেপ্তারের পর থেকে গ্রামের মানুষ বারবার একই কথা বলছেন, শামিম বিল্লাহ কীভাবে এই হ’ত্যাকাণ্ডে জড়িত হতে পারলেন! শামিম বিল্লাহর বাবা বাবলু সরদার বলেন, ২০১৫ সালে এসএসসিতে গোল্ডেন ‘এ’ প্লাস পেয়েছিল সে।

২০১৭ সালে ঢাকার সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকেও গোল্ডেন ‘এ’ প্লাস পায়। এর আগে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি এবং পঞ্চম শ্রেণি সমাপনীতেও সে সেরা ফলাফল করেছিল। শামিম বিল্লাহকে লেখাপড়া করাতে কোনো খরচ হয় না জানিয়ে বাবা বলেন, ছেলে ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে।

ঢাকায় সে একজন সচিবের সন্তানকে পড়ায়। সেখান থেকে যে টাকা সে পায় তা দিয়ে নিজের খরচ চালিয়েও বাড়িতে পাঠায়। এরই মধ্যে সে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন সবই কিনেছে নিজের টাকায়।

বাবলু সরদার জানান, নিজের জমানো আড়াই লাখ টাকা দিয়ে সম্প্রতি একটি এফজেড মোটরসাইকেল কিনেছে শামিম বিল্লাহ। এর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শামিম বিল্লাহর বাবা বলেন, আবরার ফাহাদ খু’নের দিন রাত ৯টার দিকে শামিম বিল্লাহ টিউশনি করিয়ে একটি নতুন হেলমেট কিনে হলে ঢুকছিল।

সেখানে অনেকটা হাঙ্গামা দেখতে পায় সে। ওই মুহূর্তে তাঁর বন্ধুরা তার হেলমেটেটি মাথায় পরে হাসি-তামাশাও করে। এর কিছুক্ষণ পর হলের বড় ভাইরা ওদের সবাইকে ডাকে। এমন ১০-১৫ জনের মধ্যে শামিম বিল্লাহও একজন। বড় ভাইরা কী সব পরামর্শ নাকি দিয়েছিল তাদের। এরপর শামিম রুমে চলে যায়।

ছেলের বরাত দিয়ে বাবলু সরদার আরো বলেন, আবরার হ’ত্যার পরের দিনও শামিম বিল্লাহ হলে ছিল। কিন্তু দারোয়ান তাঁকে ডেকে বলে, বাবা তুমি তো পাশের রুমে থাক। এখন এখানে থাকা নিরাপদ নয়। এরপর শামিম একজন সচিবের বাসায় ওঠে। সেখান থেকে সে সরাসরি গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায় চলে আসে। এরপর কোনোকিছু বুঝে উঠবার আগেই পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়।

শামিমের একমাত্র ছোট বোন শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজের ছাত্রী। শামিমের মা হালিমা খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে কারো সঙ্গে ঝগড়াও করেনি কোনোদিন। সবাই তাকে ভালো বলে। আমরা ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে আছি। কিন্তু এ কোন বিপদের মুখে পড়ল আমার সোনার ছেলেটি।’

বাবা বাবলু সরদার বলেন, ‘আমি কিস্তিতে একটি ট্রাক কিনে সেটা চালাই। আমার ভাই লাভলু ঢাকা পরিবহনের চালক। আমার বাবা আতিয়ার রহমান একটি ইটভাটায় চাকরি করেন। সব মিলে আমার পরিবার স্বচ্ছলতার মুখ দেখছিল। এর মধ্য দিয়ে ছেলেটি লেখাপড়া শিখে বড় হচ্ছিল। কিন্তু মাঝখানে এ কেমন বাধা পড়ে গেল।’

শামিম বিল্লাহর বাবা আরো বলেন, ‘একজন বাবা হিসাবে আমি চাই, যারা আবরারকে হ’ত্যা করেছে তারা যেন শাস্তি পায়। এমনকি আমার ছেলে দোষী হলে সেও শাস্তি পাক। কিন্তু নিরীহ নিরপরাধ কোনো ছেলে যেন কোনোভাবেই ষড়যন্ত্রের শিকার না হয়।’

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme