সর্বশেষ আপডেট
এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অসহায় মায়ের কান্না । সৌদিতে না’রী ক’র্মীর বিষয়টি খুবই জটিলঃ পররা’ষ্ট্র ম’ন্ত্রী । মালয়েশিয়ার আদালতে ৪ বাংলাদেশি না’রীর কা’রাদ’ন্ড।, নেপথ্যে যে কারণ… ইতালিতে ম’সজিদে এ’কযো’গে হা’মলার প’রিক’ল্পনাঃ বিপুল পরিমান অ’স্ত্র উ’দ্ধার । মক্কায় ক্রে’ন দু’র্ঘটনাঃ আ’হত বাংলাদেশিকে যে প’রিমাণ ক্ষ’তিপূ’রণ দেয়া হলো । সৌদিতে গৃ’হক’র্মী নি’র্যা’ত’ন, দ্রু’ত’ই আ’সছে না কোন সু’সংবা’দ । গুলতেকিনের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে যা বললেন বড় ছেলে নুহাশ । সৌদি থেকে ফিরেছে ৫৩ নারীর মরদেহ, যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী । কিশোরগঞ্জে কুমারী মাতার সন্তান প্রসব নিয়ে তোলপাড় । মেয়েরা মিলনের চেয়েও বেশি পছন্দ করে এই বিষয়গুলো ।
অবস্থা খা’রাপ হওয়ায় অনিক ভাইদের কাছে আবরারকে হাসপাতালে নেয়ার কথা বলি,তারা শোনেননি…

অবস্থা খা’রাপ হওয়ায় অনিক ভাইদের কাছে আবরারকে হাসপাতালে নেয়ার কথা বলি,তারা শোনেননি…

‘মিজান পানি আনতে বললে পানি এনে আবরারকে খাওয়ানো হয়। আমা’র সঙ্গে মোর্শেদ, আফাদ, তোহা ও শামীম বিল্লাহ আরবারকে বাঁ’চানোর চেষ্টা করে। কিন্তু হলের নিয়ম অনুযায়ী আম’রা বড় ভাইদের জো’র করে কিছু বলতে পারিনি। অবস্থা খা’রাপ হওয়ায় অনিক ভাইদের কাছে আবরারকে হাসপাতালে নেয়ার কথা বলি। কিন্তু তারা শোনেননি। পরে অবস্থা আরো খা’রাপ হলে সিঁড়ির কাছে নিয়ে রাখতে বলে।

মোয়াজ, তামিম ও জেমি কোলে করে সিঁড়ির কাছে নিয়ে যায়। পিছে পিছে আমিও ছিলাম। তাই সিসি টিভিতে আমাকে দেখা গেছে। সিঁড়ির কাছে নেয়ার উদ্দেশ্য ছিল- আবরারকে শিবির বলে পু’লিশের কাছে ধরিয়ে দেয়া। পু’লিশকে ডা’কাও হয়েছিল। কিন্তু আবরার মা’রা যাওয়ায় তাকে পু’লিশে দিতে পারেনি। রাত ৩টার দিকে আবরার মা’রা যায়।’ এভাবেই (১২ অক্টোবর) রি’মান্ড শুনানির আগে বিচারক এজলাসে ওঠার আগে আবরার হ’ত্যার বর্ণনা দেন আবরার হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি মাজেদুর রহমান মাজেদ।

মাজেদ আরও বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার দিকে গালিবের সঙ্গে ২০১১ নম্বর রুমে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, হলের বড় ভাই অনিক আবরারকে মা’রছে। জুনিয়র হিসেবে ঠেকানোর কোনো উপায় আমাদের ছিল না। তার আগে রবিনসহ কয়েকজন আবরারকে মে’রেছে বলে শুনেছি। পরে অবস্থা খা’রাপ হওয়ায় সেখান থেকে আবরারকে ২০০৫ নম্বর রুমে নিয়ে যায়। সেখানে আবরারের শরীরে মলম লাগায়।’ উল্লেখ্য, শুক্রবার (১১ অক্টোবর) ভোর ৪ টার দিকে সিলেটের শাহ কিরন এলাকা থেকে মাজেদকে গ্রে’ফতার করে গোয়েন্দা পু’লিশের ধানমন্ডি জোনাল টিম। মাজেদ বুয়েটের উপকরণ ও ধাতু বিদ্যা প্রকৌশল (এমএমই) বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র।

গ্রামের খুব মেধাবী সরল-সুবোধ বালকটিই যে বুয়েটের আবরার ফাহাদ হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি- একথা ভাবতেই শিউরে উঠছেন সবাই। তাঁরা বলছেন, নিরীহ প্রকৃতির ওই ছেলে তো কোনো দল করেনি। কোনো অসাধু সঙ্গেও দেখা যায়নি তাকে। পরিবারটিও নিরীহ প্রকৃতির। তাহলে কীভাবে সে এতবড় একটি নৃ,শংস ঘটনায় জড়িয়ে পড়তে পারল?

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ইছাকুড় গ্রামের দরিদ্র ট্রাকচালক আমিনুর রহমান ওরফে বাবলু সরদারের ছেলে বুয়েটের নেভাল অ্যান্ড আর্কিটেকচার বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শামিম বিল্লাহ।

গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে খালার বাড়ি দেউলিয়া থেকে শামিম বিল্লাহকে গ্রে,প্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। শামিম বিল্লাহ আবরার হ’ত্যা মা’মলার ১৪ নম্বর আ’সামি। শেরে বাংলা হলের ২০০৪ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা।

শামিম গ্রেপ্তারের পর থেকে গ্রামের মানুষ বারবার একই কথা বলছেন, শামিম বিল্লাহ কীভাবে এই হ’ত্যাকাণ্ডে জড়িত হতে পারলেন! শামিম বিল্লাহর বাবা বাবলু সরদার বলেন, ২০১৫ সালে এসএসসিতে গোল্ডেন ‘এ’ প্লাস পেয়েছিল সে।

২০১৭ সালে ঢাকার সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকেও গোল্ডেন ‘এ’ প্লাস পায়। এর আগে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি এবং পঞ্চম শ্রেণি সমাপনীতেও সে সেরা ফলাফল করেছিল। শামিম বিল্লাহকে লেখাপড়া করাতে কোনো খরচ হয় না জানিয়ে বাবা বলেন, ছেলে ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে।

ঢাকায় সে একজন সচিবের সন্তানকে পড়ায়। সেখান থেকে যে টাকা সে পায় তা দিয়ে নিজের খরচ চালিয়েও বাড়িতে পাঠায়। এরই মধ্যে সে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন সবই কিনেছে নিজের টাকায়।

বাবলু সরদার জানান, নিজের জমানো আড়াই লাখ টাকা দিয়ে সম্প্রতি একটি এফজেড মোটরসাইকেল কিনেছে শামিম বিল্লাহ। এর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শামিম বিল্লাহর বাবা বলেন, আবরার ফাহাদ খু’নের দিন রাত ৯টার দিকে শামিম বিল্লাহ টিউশনি করিয়ে একটি নতুন হেলমেট কিনে হলে ঢুকছিল।

সেখানে অনেকটা হাঙ্গামা দেখতে পায় সে। ওই মুহূর্তে তাঁর বন্ধুরা তার হেলমেটেটি মাথায় পরে হাসি-তামাশাও করে। এর কিছুক্ষণ পর হলের বড় ভাইরা ওদের সবাইকে ডাকে। এমন ১০-১৫ জনের মধ্যে শামিম বিল্লাহও একজন। বড় ভাইরা কী সব পরামর্শ নাকি দিয়েছিল তাদের। এরপর শামিম রুমে চলে যায়।

ছেলের বরাত দিয়ে বাবলু সরদার আরো বলেন, আবরার হ’ত্যার পরের দিনও শামিম বিল্লাহ হলে ছিল। কিন্তু দারোয়ান তাঁকে ডেকে বলে, বাবা তুমি তো পাশের রুমে থাক। এখন এখানে থাকা নিরাপদ নয়। এরপর শামিম একজন সচিবের বাসায় ওঠে। সেখান থেকে সে সরাসরি গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায় চলে আসে। এরপর কোনোকিছু বুঝে উঠবার আগেই পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়।

শামিমের একমাত্র ছোট বোন শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজের ছাত্রী। শামিমের মা হালিমা খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে কারো সঙ্গে ঝগড়াও করেনি কোনোদিন। সবাই তাকে ভালো বলে। আমরা ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে আছি। কিন্তু এ কোন বিপদের মুখে পড়ল আমার সোনার ছেলেটি।’

বাবা বাবলু সরদার বলেন, ‘আমি কিস্তিতে একটি ট্রাক কিনে সেটা চালাই। আমার ভাই লাভলু ঢাকা পরিবহনের চালক। আমার বাবা আতিয়ার রহমান একটি ইটভাটায় চাকরি করেন। সব মিলে আমার পরিবার স্বচ্ছলতার মুখ দেখছিল। এর মধ্য দিয়ে ছেলেটি লেখাপড়া শিখে বড় হচ্ছিল। কিন্তু মাঝখানে এ কেমন বাধা পড়ে গেল।’

শামিম বিল্লাহর বাবা আরো বলেন, ‘একজন বাবা হিসাবে আমি চাই, যারা আবরারকে হ’ত্যা করেছে তারা যেন শাস্তি পায়। এমনকি আমার ছেলে দোষী হলে সেও শাস্তি পাক। কিন্তু নিরীহ নিরপরাধ কোনো ছেলে যেন কোনোভাবেই ষড়যন্ত্রের শিকার না হয়।’

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]