সর্বশেষ আপডেট
এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অসহায় মায়ের কান্না । সৌদিতে না’রী ক’র্মীর বিষয়টি খুবই জটিলঃ পররা’ষ্ট্র ম’ন্ত্রী । মালয়েশিয়ার আদালতে ৪ বাংলাদেশি না’রীর কা’রাদ’ন্ড।, নেপথ্যে যে কারণ… ইতালিতে ম’সজিদে এ’কযো’গে হা’মলার প’রিক’ল্পনাঃ বিপুল পরিমান অ’স্ত্র উ’দ্ধার । মক্কায় ক্রে’ন দু’র্ঘটনাঃ আ’হত বাংলাদেশিকে যে প’রিমাণ ক্ষ’তিপূ’রণ দেয়া হলো । সৌদিতে গৃ’হক’র্মী নি’র্যা’ত’ন, দ্রু’ত’ই আ’সছে না কোন সু’সংবা’দ । গুলতেকিনের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে যা বললেন বড় ছেলে নুহাশ । সৌদি থেকে ফিরেছে ৫৩ নারীর মরদেহ, যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী । কিশোরগঞ্জে কুমারী মাতার সন্তান প্রসব নিয়ে তোলপাড় । মেয়েরা মিলনের চেয়েও বেশি পছন্দ করে এই বিষয়গুলো ।
ঘোষণা নয়, সিদ্ধা ন্তের বাস্তবায়ন দেখতে চান আবরারের বাবা ।

ঘোষণা নয়, সিদ্ধা ন্তের বাস্তবায়ন দেখতে চান আবরারের বাবা ।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হ ত্যার ঘটনায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়ে শনিবার (১২ অক্টোবর) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। বুয়েট কর্তৃপক্ষের এই সি দ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ শনিবার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, শুধু কাগজে-কলমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করলেই হবে না, সব সি দ্ধান্তের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। বরকতুল্লাহ বলেন, এর আগেও র‌্যাগিং বন্ধে একাধিক সি দ্ধান্ত নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল বুয়েট কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু কোনো সি দ্ধান্তের বাস্তাবয়ন হয়নি। সে সময় সি দ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন হলে আজ আমার ছেলেকে অকালে প্রা ণ দিতে হতো না। শিক্ষার্থীদের শান্ত করার কৌশল হিসেবে যদি সব দফা মেনে নেয়ার মতো এই সিদ্ধান্ত নেয় বুয়েট কর্তৃপক্ষ, তাহলে আমার ছেলের রক্তের সাথে বেই মানি করা হবে। বুয়েট কর্তৃপক্ষ অতীতের মতো আর কোনো কাগজে-কলমে সি দ্ধান্ত গ্রহণ করুক এটা আর আমি দেখতে চাই না। আমরা সব সি দ্ধান্তের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অধিকাংশ মামলায় দীর্ঘ সময় নিয়ে বিচারাধীন থাকে। দেখা যায় কদিন পরই আ সামিরা কারা গার থেকে জামিনে বের হয়ে আসে। পরিবারকে মা মলা তুলে নেয়ার জন্য ভয়-ভীতি পর্যন্ত দেখায়।

চাপ প্রয়োগ করে। শেষ পর্যন্ত দেখা যায় মামলার ১০ আসা মির ৬ আসা মির সাজা, বাকিরা বেকসুর খালাস পাচ্ছে। আমার ছেলে আবরার হত্যা মা মলায় এমন পরিণতি দেখতে চাই না। মাম লাটি দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে নিয়ে দ্রুত শেষ করতে হবে এবং খুনি দের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

গ্রামের খুব মেধাবী সরল-সুবোধ বালকটিই যে বুয়েটের আবরার ফাহাদ হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি- একথা ভাবতেই শিউরে উঠছেন সবাই। তাঁরা বলছেন, নিরীহ প্রকৃতির ওই ছেলে তো কোনো দল করেনি। কোনো অসাধু সঙ্গেও দেখা যায়নি তাকে। পরিবারটিও নিরীহ প্রকৃতির। তাহলে কীভাবে সে এতবড় একটি নৃ,শংস ঘটনায় জড়িয়ে পড়তে পারল?

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ইছাকুড় গ্রামের দরিদ্র ট্রাকচালক আমিনুর রহমান ওরফে বাবলু সরদারের ছেলে বুয়েটের নেভাল অ্যান্ড আর্কিটেকচার বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শামিম বিল্লাহ।

গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে খালার বাড়ি দেউলিয়া থেকে শামিম বিল্লাহকে গ্রে,প্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। শামিম বিল্লাহ আবরার হ’ত্যা মা’মলার ১৪ নম্বর আ’সামি। শেরে বাংলা হলের ২০০৪ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা।

শামিম গ্রেপ্তারের পর থেকে গ্রামের মানুষ বারবার একই কথা বলছেন, শামিম বিল্লাহ কীভাবে এই হ’ত্যাকাণ্ডে জড়িত হতে পারলেন! শামিম বিল্লাহর বাবা বাবলু সরদার বলেন, ২০১৫ সালে এসএসসিতে গোল্ডেন ‘এ’ প্লাস পেয়েছিল সে।

২০১৭ সালে ঢাকার সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকেও গোল্ডেন ‘এ’ প্লাস পায়। এর আগে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি এবং পঞ্চম শ্রেণি সমাপনীতেও সে সেরা ফলাফল করেছিল। শামিম বিল্লাহকে লেখাপড়া করাতে কোনো খরচ হয় না জানিয়ে বাবা বলেন, ছেলে ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে।

ঢাকায় সে একজন সচিবের সন্তানকে পড়ায়। সেখান থেকে যে টাকা সে পায় তা দিয়ে নিজের খরচ চালিয়েও বাড়িতে পাঠায়। এরই মধ্যে সে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন সবই কিনেছে নিজের টাকায়।

বাবলু সরদার জানান, নিজের জমানো আড়াই লাখ টাকা দিয়ে সম্প্রতি একটি এফজেড মোটরসাইকেল কিনেছে শামিম বিল্লাহ। এর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শামিম বিল্লাহর বাবা বলেন, আবরার ফাহাদ খু’নের দিন রাত ৯টার দিকে শামিম বিল্লাহ টিউশনি করিয়ে একটি নতুন হেলমেট কিনে হলে ঢুকছিল।

সেখানে অনেকটা হাঙ্গামা দেখতে পায় সে। ওই মুহূর্তে তাঁর বন্ধুরা তার হেলমেটেটি মাথায় পরে হাসি-তামাশাও করে। এর কিছুক্ষণ পর হলের বড় ভাইরা ওদের সবাইকে ডাকে। এমন ১০-১৫ জনের মধ্যে শামিম বিল্লাহও একজন। বড় ভাইরা কী সব পরামর্শ নাকি দিয়েছিল তাদের। এরপর শামিম রুমে চলে যায়।

ছেলের বরাত দিয়ে বাবলু সরদার আরো বলেন, আবরার হ’ত্যার পরের দিনও শামিম বিল্লাহ হলে ছিল। কিন্তু দারোয়ান তাঁকে ডেকে বলে, বাবা তুমি তো পাশের রুমে থাক। এখন এখানে থাকা নিরাপদ নয়। এরপর শামিম একজন সচিবের বাসায় ওঠে। সেখান থেকে সে সরাসরি গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায় চলে আসে। এরপর কোনোকিছু বুঝে উঠবার আগেই পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়।

শামিমের একমাত্র ছোট বোন শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজের ছাত্রী। শামিমের মা হালিমা খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে কারো সঙ্গে ঝগড়াও করেনি কোনোদিন। সবাই তাকে ভালো বলে। আমরা ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে আছি। কিন্তু এ কোন বিপদের মুখে পড়ল আমার সোনার ছেলেটি।’

বাবা বাবলু সরদার বলেন, ‘আমি কিস্তিতে একটি ট্রাক কিনে সেটা চালাই। আমার ভাই লাভলু ঢাকা পরিবহনের চালক। আমার বাবা আতিয়ার রহমান একটি ইটভাটায় চাকরি করেন। সব মিলে আমার পরিবার স্বচ্ছলতার মুখ দেখছিল। এর মধ্য দিয়ে ছেলেটি লেখাপড়া শিখে বড় হচ্ছিল। কিন্তু মাঝখানে এ কেমন বাধা পড়ে গেল।’

শামিম বিল্লাহর বাবা আরো বলেন, ‘একজন বাবা হিসাবে আমি চাই, যারা আবরারকে হ’ত্যা করেছে তারা যেন শাস্তি পায়। এমনকি আমার ছেলে দোষী হলে সেও শাস্তি পাক। কিন্তু নিরীহ নিরপরাধ কোনো ছেলে যেন কোনোভাবেই ষড়যন্ত্রের শিকার না হয়।’

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]