সর্বশেষ আপডেট
মেডিকেলে চান্স পেলো রাজমিস্ত্রির মেয়ে জাকিয়া সুলতানা কলেজে না গিয়েও এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় নেহা । বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশংসা করে যা বললেন মালয়েশিয়ার পুলিশপ্রধান । বাড়ির নিচতলায় গাড়ী চালকদের জন্য থাকা ও নামাজের ব্যবস্থা করতে হবেঃ প্রধানমন্ত্রী । প্রেমের টানে বাংলাদেশে ভারতীয় গৃহবধূ, সীমান্তে উত্তে’জনা । গোয়ালঘরে শিকলে বাঁধা বৃদ্ধা মা বললেন, মোর পোলারা ভালো । সাড়ে ৮ লাখ টাকা দিয়েও চাকরি হয়নি, কাঁদলেন প্রার্থী । গরু ছেড়ে নারীদের প্রতি বেশি যত্নবান হোনঃ মোদিকে এক নারী । যে কারণে তুহিনকে নি’র্মমভাবে হ’ত্যা করলেন বাবা । পিয়ন থেকে যেভাবে ১২০০ কোটি টাকার মালিক যুবলীগের আনিস ।
কলেজ ছাত্রীকে স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া, অতঃপর…

কলেজ ছাত্রীকে স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া, অতঃপর…

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে স্ত্রী পরিচয়ে নেয়া ভাড়া বাসায় অনৈতিক কাজের অভিযোগে মানিক চন্দ্র কর্মকার ও এক কলেজ ছাত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) মধ্য রাতে সুন্দরগঞ্জ পৌর শহরের মাস্টারপাড়ার জনৈক আব্দুল আউয়ালের বাড়ি থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত মানিক চন্দ্র কর্মকার উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নে পূর্ব রামজীবন (নিজপাড়া) গ্রামের মন্টুরাম কর্মকারের পুত্র। মানিক পেশায় দর্জি। সে স্থানীয় ডোমেরহাট বাজারে দর্জির কাজ করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় ডিডব্লিউ সরকারি কলেজের ওই ছাত্রী মানিক চন্দ্রের দোকানে জামা-কাপড় তৈরি করতে মাঝে মাঝে যেত।

এ সময় নানা কৌশলে তাকে অসমাজিক কাজ করতে বাধ্য করে মানিক। পরে দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে তারা অনৈতিক কাজ করত।

তারা ২-১ মাস পরপর ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে বাসা পরিবর্তন করত। তাদের বয়সের ব্যবধানসহ বিভিন্ন কারণে সন্দেহ হওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর প্রমাণ দেখতে চাইলে এলাকাবাসির সঙ্গে ঝগড়া করতো।

পরে জানা যায় মানিক চন্দ্র কর্মকার প্রভাবশালী হওয়ায় ওই ছাত্রীর পরিবার নিরবে সব সহ্য করলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করার সাহস পায়নি। মানিক চন্দ্রের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। সে তিন বছর আগে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন।

সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ- এসএম আব্দুস সোবহান জানান, এ ব্যাপারে থানার এসআই সামছুল হক বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। আসমিদের শুক্রবার বিকেলে গাইবান্ধা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

প্রবাসীর স্ত্রী নবম শ্রেণির ছাত্রের সঙ্গে প্রেম করে হারালেন সংসার ! রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের হরিশপুর গ্রামে মাদ্রাসার নবম শ্রেণির এক ছাত্রের সঙ্গে প্রেম করায় সংসার হারিয়েছেন প্রবাসীর স্ত্রী। শুধু তাই নয়, তার একমাত্র সন্তানকেও রেখে দিয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। গত বৃহস্পতিবার থেকে ওই নারী আশ্রয় নিয়েছেন প্রেমিকের বাড়িতে। তবে ঘটনার পর থেকে সেই ছাত্র পলাতক।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে গ্রামবাসীসহ দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হরিশপুর গ্রামের আজিমুদ্দীনের ছেলে মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র হুমায়ন কবিরের সঙ্গে গত আট মাস ধরে পাশের বাড়ির এক প্রবাসীর স্ত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল বিকেলে ওই প্রবাসীর বাড়িতে বৈঠক বসানো হয়।

স্থানীয় কাজীসহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য লুৎফর রহমানের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে প্রবাসীর ওই স্ত্রীর বাবাসহ পরিবারের লোকজনকে উপস্থিত করা হয়। ওই বৈঠকে প্রবাসীর স্ত্রীর কাছ থেকে তিন বছরের বাচ্চাকে কেড়ে নিয়ে এবং স্বামীর তালাকনামায় স্বাক্ষর নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই ওই নারী প্রেমিক হুমায়ন কবিরের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। তবে পলাতক হুমায়ন গতকালও বাড়িতে ফেরেনি।

এ বিষয়ে বাধাইড় ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ওই নারী তার প্রেমিক হুমায়নের সাথে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে নিজেই তার প্রবাসী স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছেন। এখন হুমায়নকে বিয়ে করার জন্য তার বাড়িতে গিয়ে উঠেছেন।’

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরো পড়ুন… মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার চৌগাছা গ্রামে চলছে বেশ আড়ম্বরপূর্ণ বিয়ের আয়োজন চলছিল শনিবার সকাল থেকেই। বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য উঠোনের এক পাশে চলছে রান্না। বাড়ির সামনে দৃষ্টিনন্দন বিয়ের গেট। দুই পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো অসংখ্য মানুষ। সবই ঠিকঠাক বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য।

কিন্তু, বিয়ের বহর গেটের কাছে আসতেই এক অন্যরকম উত্তেজনা। বাড়ির গেটের সামনে মাইক্রোবাস থেকে নামলেন লাল বেনারসি শাড়ি পরা বধূবেশে এক কনে। প্রচলিত প্রথা ভেঙে বিয়ের এমন ঘটনাই ঘটলো শনিবার মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার চৌগাছা গ্রামে।

কনে চুয়াডাঙ্গার হাজরাহাটি গ্রামের কামরুজ্জামানের মেয়ে খাদিজা আক্তার খুশি কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজে স্নাতকের শিক্ষার্থী। বর গাংনী উপজেলার চৌগাছার কমরেড আব্দুল মাবুদের ছেলে তরিকুল ইসলাম জয় একজন ব্যবসায়ী।

শনিবার সকাল থেকেই কমরেড আব্দুল মাবুদের বাড়ির আশেপাশে ছিল বিপুল সংখ্যক উৎসুক মানুষ ও আত্মীয়স্বজনের ভিড়। ভিন্নধর্মী এ বিয়ের আয়োজন ঘিরে এলাকার মানুষেরও উৎসাহ উদ্দীপনার কমতি ছিলো না। উৎসুক দৃষ্টিতে সবাই তাকিয়ে ছিলেন কখন আসবে কনে ও কনেযাত্রীরা।

অবশেষে দুপুরে ৭টি মাইক্রোবাস ও ৩০টি মোটরসাইকেল বহর নিয়ে কনে এসে নামলেন বরের বাড়ির গেটের সামনে। এ সময় কনেকে ফুল ও মিষ্টি মুখ করিয়ে বরণ করে নেয় বর পক্ষ।

এরপর শুরু হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী একজন মাওলানা তাদের দু’জনকে কবুল পড়ান। প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিয়ের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করান স্থানীয় কাজি। এরপরে বর পক্ষের দাওয়াতী আত্মীয় স্বজন ও কনে যাত্রীদের ভুড়িভোজ করানো হয়।

বিকেলে বর তরিকুল ইসলাম জয়কে নিয়ে কনে খাদিজা আক্তার খুশি চলে গেছেন তার বাবার বাড়িতে। সেখানে কয়েকদিন কাটানোর পর কনেকে সাথে নিয়ে বর ফিরে আসবেন নিজের বাড়িতে।

নিজের বিয়ের এমন আয়োজন সম্পর্কে কনে খাদিজা আক্তার খুশি বলেন, নারী-পুরুষের সমান অধিকার হিসেবে একজন মেয়ে একজন ছেলেকে বিয়ে করতে তার বাড়িতে যেতে পারেন, তা কখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সেই বাধার বৃত্ত ভেঙে আমরা শুরু করেছি। আশা করছি আরো অনেকেই এখন এটি করবেন।

বিয়ের আয়োজন প্রসঙ্গে বরের বাবা কমরেড আব্দুল মাবুদ বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের অনেক কিছুই করার আছে। মুখে আমরা বললেও তা বাস্তবায়ন করছি কতটুকু? তাই আমি এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নারী-পুরুষের সমতার বিষয়টি সামনে আনতে চেয়েছি।

উৎসুক মানুষের কয়েকজন জানালেন, বরপক্ষ কনেপক্ষের বাড়িতে যাবে এটি প্রচলিত প্রথা। এই প্রথা ভেঙে কনেপক্ষ বরের বাড়িতে বিয়ে করতে আসছে তা অবশ্যই ভিন্নরকম এক আনন্দের ঘটনা।

বাংলাদেশে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য কমরেড নুর আহমেদ বকুল বিয়ের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। তিনিও অভিভূত। প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে একটি ব্যতিক্রমি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরী হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]