৪৮ বছর পর আজ পাকিস্তান মুছে হলো বাংলাদেশ ।

৪৮ বছর পর আজ পাকিস্তান মুছে হলো বাংলাদেশ ।

স্বাধিনতার ৪৮ বছর পর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের সীমান্ত-পিলার থেকে PAKISTAN/PAK লেখা মুছে লেখা হলো BANGLADESH/BD। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সম্পাদনের মাধ্যমে অটুট রাখলো স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব।

১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভাগের পর ৮ হাজারের অধিক সীমানা পিলারে ইংরেজীতে খোদাই করে লেখা ছিলো IND-PAK/INDIA-PAKISTAN। বাংলাদেশের সীমান্তগুলোতেও দেখা মিলে এরূপ পিলারের। পিলারগুলোর অবস্থান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, জামালপুর এবং সুনামগঞ্জের সীমান্তগুলোতে। সীমান্তের এমন অনেকগুলো পিলারে খোদাই করে লেখা ছিলো PAKISTAN/PAK শব্দটি।

১৯৭১ এ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে লাখো প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হওয়ার ৪৮ বছর পরেও সীমান্ত পিলারে কেনো পাকিস্তানের নাম, এমন প্রশ্নে বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয় স্থানীয় সবাইকে। বিষয়টি মাননীয় প্রধাণমন্ত্রীর নজরে আসার সাথে সাথে তিনি বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ সাফিনুল ইসলাম, বিজিবিএম, এনডিসি, পিএসসি কে এই সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন। বিজিবি মহাপরিচালক অধিনস্থ সকল রিজিয়নকে বিজিবি’র নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করে সীমান্ত পিলারগুলোতে PAKISTAN/PAK লেখার পরিবর্তে BANGLADESH/BD লেখার নির্দেশ দেন। তার আদেশ দ্রুতগতিতে বাস্তবায়নে নেমে পড়েন বিজিবি সদস্যরা।

বিজিবি সদস্যদের দায়িত্বপরায়নতার ফলে ইতোমধ্যেই পিলারগুলো থেকে পাকিস্তানের নাম মুছে বাংলাদেশের নাম প্রতিস্থাপনের কাজ প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে। বিজিবির এই অবদানে সীমান্তবর্তী মানুষেরা তাদের হারানো গৌরব ফিরে পেয়েছে। সীমান্তবর্তী মানুষ এবং দেশের আপামর জনগণ প্রধানমন্ত্রী এবং বিজিবির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। সাধারণ মানুষ মনে করে সীমান্ত পিলারে এই নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে বিজিবি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপণ করেছে। বিজিবির সকল সদস্য এই মহান দায়িত্ব অর্পণের জন্য প্রধাণমন্ত্রীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।

আরো পড়ুন… বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের৷ শুক্রবার পাক প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করে নিলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান দিয়েই সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ দিত পাকিস্তান৷ সে তথ্য না জেনেই টাকা পাঠাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএ৷

এদিন রাশিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ইমরান খান বলেন আশির দশকে পাকিস্তান মুজাহিদিন তৈরি করত৷ এই মুজাহিদিনদের কাজে লাগানো হত সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান, যখন সোভিয়েত আফগানিস্তান দখল করছিল৷ তাই যে সব মুজাহিদিনকে সেই সময় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, তাদের পিছনে ছিল আমেরিকার টাকা৷

তবে ইমরান খানের মত সেই সময় পাকিস্তান নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে ভালো হত, কারণ যে সব মুজাহিদিনদের তৈরি করা হয়েছিল, তারাই এখন জঙ্গি সংগঠন তৈরি করে পাকিস্তানের ওপর হামলা চালাচ্ছে৷ তিনি এদিন জানান, আমেরিকা এখন আফগানিস্তানের ওপর দাদাগিরি ফলাচ্ছে, যা বড়সড় দ্বিচারিতা৷ অথচ পাকিস্তান তাদের সাহায্য করতে গিয়ে নিজেরাই সন্ত্রাসবাদের জালে জড়িয়ে গিয়েছে৷

এদিকে, দিন কয়েক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা এখনই পুরোপুরি মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে না। তালিবানরা যাতে ফের মাথাচাড়া দিতে না পারে, তার জন্য কাউকে সেখানে থাকতেই হবে।কিন্তু এবার ট্রাম্পের মুখে বারবার উঠেছে ভারতের নাম। বিশেষত তিনি উল্লেখ করেন, ভারত একেবারে কাছে থাকলেও লড়ছে না৷

চলতি বছরেই আফগানিস্তানের ১৮ বছর ধরে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ করতে বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ ২০০১ সালে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করার পরে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন একাধিক দেশ জড়িয়ে পড়ে সেখানে। সামরিক উপায়ে সেখানে কোনও সমাধান নেই বুঝে এখন শান্তি আলোচনায় বসেছে আমেরিকা। তালিবানদের সঙ্গে হবে আলোচনা। একাধিকবার তালিবানদের শান্তি আলোচনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে৷

“চিন, রাশিয়া এবং আমেরিকা মনে করছে পাকিস্তান আফগানিস্তানে শান্তি ফেরানোর ব্যাপারে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে,” মার্কিন বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে একটি বিবৃতিতে একথা জানানো হয়। এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা২৪।

ইসলামাবাদ এই প্রসঙ্গে আগে জানিয়েছিল, পাকিস্তানের মতো একটি দেশে যেখানে এক বড় সংখ্যক পাশতুন মানুষের বাস, তাকে আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়াতে অন্তর্ভুক্ত করা অবশ্যই প্রয়োজন এবং আফগানিস্তানের বিষয়ে বিশ্বের বড় শক্তিগুলির পক্ষে পাকিস্তানের স্বার্থকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme