প্রবাসীদের জন্য দারুণ সুখবরঃ ‘প্রবাসী বন্ডে’ বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশী লাভ ।

প্রবাসীদের জন্য দারুণ সুখবরঃ ‘প্রবাসী বন্ডে’ বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশী লাভ ।

বিশ্বের অনেক দেশে ব্যাংকে টাকা রাখলে এখন গ্রাহককে বাড়তি মাশুল দিতে হয়। সুদ বা মুনাফা তো পরের কথা, টাকা জমা রাখার খরচ হিসেবে দিতে হয় এ মাশুল। সম্প্রতি ইউরোপের কয়েকটি ব্যাংকও এমন ঘোষণা দিয়েছে। তাই ব্যাংকে টাকা রেখে বাংলাদেশের মতো এত মুনাফা উন্নত দেশগুলোতে পাওয়া সহজ নয়। বাংলাদেশি যাঁরা কাজের সুবাদে বা পারিবারিকভাবে বিদেশে অবস্থান করেন, তাঁরা টাকা জমানো নিয়ে একধরনের বিভ্রান্তির মধ্যেই পড়েন।

যদিও পরিশ্রম ছাড়াই বিদেশে বসে বেশি মুনাফা পাওয়ার সুযোগ রেখেছে বাংলাদেশ সরকার। যেকোনো প্রবাসী চাইলেই প্রবাসী বন্ডে বিনিয়োগ করে ১২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা নিতে পারেন। এর সবই বাংলাদেশ সঞ্চয় অধিদপ্তরের চালু করা বন্ড, যেখানে দেশের ভালো ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদহার ১০ শতাংশের মধ্যে। তাই বিদেশে অবস্থান করা বাংলাদেশিরা চাইলেই এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন।

এমন তিন বন্ডে এখন পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগও করেছেন প্রবাসীরা। এতে বড় হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত। প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৮ সালে চালু করে পাঁচ বছর মেয়াদি ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড। ২০০২ সালে চালু হয় তিন বছর মেয়াদি ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড।

কোথায় মিলবে: এসব বন্ড পাওয়া যায় বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস, দেশি ব্যাংকের বিদেশি কোনো শাখা ও বাংলাদেশের ব্যাংক শাখায়। আবার এসব বন্ডের বিপরীতে দেশি ব্যাংক থেকে ঋণও পাওয়া যায়। বিনিয়োগকৃত অর্থ চাইলে আবার বিদেশেও ফেরত নেওয়া যায়। এসব বন্ডের বিনিয়োগ করে (বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ) সিআইপি–সুবিধা পাওয়া যায়। আবার এই আয়ে করমুক্ত–সুবিধাও মেলে।

কারা কিনতে পারবেনঃ নীতিমালা অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থান করা যেকোনো নাগরিক এসব বন্ড কিনতে পারবেন। আবার সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কিন্তু বিদেশে লিয়েনে আছেন, এমন নাগরিকেরাও এসব বন্ড কিনতে পারবেন। কিনতে পারবেন বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনে কর্মরতরাও। পাঁচ বছর মেয়াদি: সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড পাঁচ বছর মেয়াদি।

এ বন্ডে ২৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। মেয়াদ শেষে মুনাফা পাওয়া যায় ১২ শতাংশ। প্রতি ছয় মাস অন্তর মুনাফা তোলার সুযোগ রয়েছে। কেউ যদি ছয় মাসে মুনাফা না তোলেন, তবে মেয়াদপূর্তিতে মূল অঙ্কের সঙ্গে ষাণ্মাসিক ভিত্তিতে ১২ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা প্রদান করা হয়। আট কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করলে সিআইপি–সুবিধা পাওয়া যাবে।

মুনাফার হার বেশি হওয়ায় প্রবাসে অবস্থান করা বেশির ভাগই এ বন্ড ক্রয় করছেন। তিন বছর মেয়াদি: ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড চালু তিন বছর মেয়াদি। এ বন্ডে ৫০০ ডলার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। মেয়াদ শেষে মুনাফা সাড়ে ৭ শতাংশ। প্রতি ছয় মাস অন্তর সরল সুদে মুনাফা তোলা যায়। তবে মেয়াদপূর্তির আগে বন্ড ভাঙতে চাইলে ১ থেকে দেড় শতাংশ সুদ কমে যায়।

আর ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডও তিন বছর মেয়াদি। এতে সাড়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায়। ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক ৬টি দেশে এক্সচেঞ্জ হাউস পরিচালনা করে। বন্ডের মূল্যমানঃ টাকা ২৫,০০০/-; টাকা ৫০,০০০/-; টাকা ১,০০,০০০/-; টাকা ২,০০,০০০/-; টাকা ৫,০০,০০০/-; টাকা ১০,০০,০০০/; এবং ৫০,০০,০০০/-।

মুনাফাঃ মেয়াদান্তে মুনাফা ১২%। বন্ড ধারক ১২% হারে প্রত্যেক বছরে ষান্মাসিকভিত্তিতে মুনাফা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে ষান্মাসিকভিত্তিতে মুনাফা উত্তোলিত না হলে, মেয়াদপূর্তিতে মুল অংকের সাথে ষান্মাসিকভিত্তিতে ১২% চক্রবৃদ্ধি হারে উক্ত মুনাফা প্রদেয় হবে। মৃ”ত্যু ঝুঁকি সুবিধাঃ একজন ওয়েজ আর্নার প্রাথমিকভাবে ন্যূনতম টাকা ২৫,০০০/- বা ততোধিক মূল্যের বন্ড ক্রয় করলে নির্ধারিত হারে মৃ”ত্যু ঝুঁকি সুবিধা পাবে।

তবে উক্ত ক্রয় সংশ্লিষ্ট ওয়েজ আর্নারের মৃ”ত্যু”র পূর্বেই সংঘটিত হতে হবে। ওয়েজ আর্নারের মৃ”ত্যু”র পূর্বেই যদি বন্ডের মেয়াদপূর্ণ হয়, তা হলে মৃ”ত্যু ঝুঁকি সুবিধা প্রাপ্য হবে না; বন্ড ধারকের মৃ”ত্যু”র ৬-মাসের মধ্যে মৃ”ত্যু ঝুঁকি সুবিধা দাবী করতে হবে। এর পর মৃ”ত্যু ঝুঁকি সুবিধার বিপরীতে কোন দাবী গ্রহণযোগ্য হবে না; মৃ”ত্যু ঝুঁকি সুবিধার পরিমাণ টাকা ৫,০০,০০০/- এর অধিক হবে না; ওয়েজ আর্নারের বয়স ৫৫-বছরের অধিক হলে মৃ”ত্যু ঝুঁকি সুবিধা প্রাপ্য হবে না।

সি.আই.পি সুবিধাঃ এ বন্ডে টাকা ৮০ (আশি) মিলিয়ন বা ততোধিক বিনিয়োগকারী সি.আই.পি সুবিধা প্রাপ্য হবেন; তবে নগদায়নের কারণে বিনিয়োগ টাকা ৮০ (আশি) মিলিয়ন-এর নীচে নেমে যায় এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের মাধ্যমে ৩-মাসের মধ্যে তিনি উক্ত সীমা অর্জন করতে ব্যর্থ হন, তা হলে তিনি সি.আই.পি সুবিধা হতে বঞ্চিত হবেন।

কারা ক্রয় করতে পারেঃ বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী ‘ওয়েজ আর্নার নিজ নামে অথবা; আবেদনপত্রে উল্লিখিত তার মনোনীত ব্যক্তির নামে অথবা প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রার বেনিফিসিয়ারী -এর নামে এ বন্ড ক্রয় করা যায়; বিদেশে লিয়েনে কর্মরত বাংলাদেশী সরকারী, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, স্বায়ত্বশাসিত ও আধা স্বায়ত্বশাসিত সংস্থার ক’র্মক’র্তা ও ক’র্মচা’রীবৃ’ন্দ; বিদেশে বাংলাদেশী দূতাবাসে কর্মরত বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, যারা বৈদেশিক মুদ্রায় বেতন-ভাতাদি পেয়ে থাকেন, তারা এ বন্ড ক্রয় করতে পারবেন।

কোথায় পাওয়া যাবেঃ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তফসিলী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ ঐ সকল শাখা, যারা ওয়েজ আর্নারদের বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব পরিচালনা করে থাকেন; বিদেশস্থ বাংলাদেশী ব্যাংকসমূহ ও তাদের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যাংকসমূহ; ক্রয় পদ্ধতিঃ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তফসিলী ব্যাংকের অথরাইজড ডিলার (এ.ডি) শাখাসমূহে এবং বাংলাদেশী কোন ব্যাংকের বিদেশস্থ শাখা অথবা তাদের আওতাধীন বিদেশে কার্যরত এক্সচেঞ্জ কোম্পানীসমূহে বন্ড ক্রয়ের আবেদনপত্র ডি.বি-১ ফরম পুরণ ও স্বাক্ষর করে বন্ড ক্রয়ের আবেদন করা যায়।

ওয়েজ আর্নারের আবেদনের সূত্রে অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে, ব্যাংক ওয়েজ আর্নার কর্তৃক পরিচালিত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে জমাকৃত অর্থ বিকলন করে বন্ড ইস্যু করতে পারে; কোন বেনিফিসিয়ারী ওয়েজ আর্নারের নিকট হতে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের বিপরীতে দালিলিক প্রমানাদি উপস্থাপন সাপেক্ষে বন্ড ক্রয় করতে পারেন! মূল্য পরিশোধ পদ্ধতিঃ নগদ বৈদেশিক মুদ্রায় অথবা রেমিট্যান্স হিসেবে প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা হতে রুপান্তরিত বাংলাদেশী টাকায়; ওয়েজ আর্নার কর্তৃক বিদেশ হতে প্রেরিত এবং তাঁর এফ.সি একাউন্টে জমাকৃত অর্থ দ্বারা অথবা; বৈদেশিক মুদ্রায় চেক, ড্রাফট বা প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকা ড্রাফট-এর মাধ্যমে!

বন্ড নগদায়ন পদ্ধতিঃ এ বন্ডের ইস্যু অফিস -ই হবে এর প্রদানকারী অফিস। বিদেশেস্থ ইস্যু অফিস থেকে বন্ড ক্রয় করা হলে সেখান থেকে নগদায়ন করা যায় না। বিদেশ থেকে বন্ড ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতাকে আবেদনপত্রে বাংলাদেশে প্রদানকারী অফিসের নাম উল্লেখ করতে হয়। নমিনী সংক্রান্তঃ বন্ড ধারকের মৃ”ত্যু হলে নমিনী বন্ডের মূল্য, সুদ এবং মৃ”ত্যু”ঝুঁ”কি সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে; বেনিফিসিয়ারী কর্তৃক ক্রয়কৃত বন্ডে একই পদ্ধতিতে নমিনী নিয়োগ করা যাবে;

প্রতি সনদের জন্য একজনের অধিক নমিনী প্রদান করা যাবে না; বন্ড ধারকের মৃ”ত্”যুর পূর্বে নমিনীর মৃ”ত্যু হলে, নমিনীর কার্যকারিতা থাকবে না; নমিনী বাতিল বা পরিবর্তন করা যাবে; বন্ড ধারকের মৃ”ত্”যুর পূর্বেই যদি নমিনীর মৃ”ত্যু ঘটে, তবে মৃত বন্ড ধারকের উত্তোরাধিকারীগণ বন্ডের মেয়াদপূর্তিতে মূল্য ও মুনাফা প্রাপ্য হবেন; উত্তোরাধিকারীগণ শুধুমাত্র মেয়াদপূর্তিতে মূল্য ও মুনাফা গ্রহণ করতে পারবেন;

অন্যান্য বৈশিষ্টসমূহঃ এ বন্ডের আসল অংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনঃবিনিয়োগযোগ্য; ৪০% থেকে ৫০% পর্যন্ত মৃত্যু-ঝুঁকির সুবিধা রয়েছে; ষান্মাসিকভিত্তিতে মুনাফা প্রদেয়; বন্ডের বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে ঋণ গ্রহণের সুবিধা রয়েছে; হারিয়ে গেলে, পু”ড়ে গেলে বা নষ্ট হলে ডুপ্লিকেট বন্ড ইস্যুর সুযোগ রয়েছে। আট কোটি টাকা বা তদুর্ধ্ব বাংলাদেশি মুদ্রা বিনিয়োগকারীর জন্য সি. আই.পি (C.I.P) সুবিধা রয়েছে; এফসি একাউন্ট থাকার কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

এ বন্ডে বিনিয়োগের কোন ঊধ্বসীমা নেই। এ বন্ডে বিনিয়োগকৃত মূল অংক বৈদেশিক মুদ্রায় বিদেশে প্রত্যাবাসিত করা যাবে; বন্ডের বিপরীতে প্রাপ্র মূল অংক, মুনাফা এবং মৃ”ত্যু ঝুঁকি সুবিধা ইত্যাদি বাংলাদেশে এবং কেবলমাত্র বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রদেয়; ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড-এ বিনিয়োগকৃত এবং অর্জিত মুনাফা আয়করমুক্ত; বন্ডের একটি এককের ক্ষেত্রে একজনের বেশী ধারক ও নমিনীর মনোনয়ন দেয়া যাবে না;

অসুস্থতাজনিত কারনে বন্ড ধারক স্বাক্ষর করতে অপারগ হলে এবং একজন গেজেটেড অফিসার কর্তৃক তার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ প্রত্যয়ন করা হলে প্রদানকারী অফিসার কর্তৃক সরেজমিন যাচাইয়ান্তে , বন্ড উপস্থাপনকারীর পরিচয় ও উপস্থাপিত বন্ডের সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে বন্ড ধারকের হাতে ছাপ গ্রহন করে মেয়াদপূর্তি মূল্য অথবা সুদ পরিশোধ করবে।

বন্ডের ক্রেতা শরিরীকভাবে প”ঙ্গু, স্বাক্ষর প্রদানে সম্পূর্ণ অক্ষম হলে এবং এর পক্ষে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট প্রদান করা হলে প্রদানকারী অফিসার কর্তৃক যাচাইয়ান্তে, বন্ড উপস্থাপনকারীর পরিচয় ও উপস্থাপিত বন্ডের সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে উক্ত বন্ডের মেয়াদপূর্তি মূল্য অথবা সুদ নমিনী অথবা উত্তরাধিকারীকে পরিশোধ করবে। মালয়েশিয়ার এনবিএল মানি ট্রান্সফারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আকতার উদ্দীন আহমেদ বলেন,

প্রবাসীরা ওয়েজ আর্নার বন্ডের ব্যাপারে সব সময়ই আগ্রহ প্রকাশ করেন। আমাদের এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো থেকে প্রতি মাসেই ওয়েজ আর্নার বন্ড ইস্যু করা হয়। তবে সবচেয়ে বেশি বন্ড ইস্যু হয় আমাদের মালয়েশিয়া, ওমান ও কাতার অফিস থেকে। তথ্যসূত্র: প্রথম আলো তিন বন্ডে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগও করেছেন প্রবাসীরা। এতে বড় হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত।

একজন প্রবাসী কী পরিমাণ বন্ড কিনতে পারবেন, এ নিয়ে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে প্রবাসী বন্ডে বেশির ভাগ বিনিয়োগই হাতে গোনা কয়েকজনের। এসব বন্ড পাওয়া যায় বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস, দেশি ব্যাংকের বিদেশি কোনো শাখা ও বাংলাদেশের ব্যাংক শাখায়। আবার এসব বন্ডে বিপরীতে দেশি ব্যাংক থেকে ঋণও পাওয়া যায়। বিনিয়োগকৃত অর্থ চাইলে আবার বিদেশেও ফেরত নেওয়া যায়। এসব বন্ডের বিনিয়োগ করে সিআইপি সুবিধা পাওয়া যায়। আবার এই আয়ে করমুক্ত সুবিধাও মেলে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী সিরাজুল ইসলাম গতকাল টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘যে টাকা আয় করি, তার বড় অংশ পরিবারের জন্য বাংলাদেশে পাঠাই। কিছু টাকা জমিয়ে বন্ড কিনেছি। মুনাফার টাকায় দেশে কিছু করার চেষ্টা করছি।’ সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড পাঁচ বছর মেয়াদি। এ বন্ডে ২৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। মেয়াদ শেষে মুনাফা পাওয়া যায় ১২ শতাংশ।

প্রতি ছয় মাস অন্তর মুনাফা তোলার সুযোগ রয়েছে। কেউ যদি ছয় মাসে মুনাফা না তোলে, তবে মেয়াদপূর্তিতে মূল অঙ্কের সঙ্গে ষাণ্মাসিক ভিত্তিতে ১২ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা প্রদান করা হয়। আট কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করলে সিআইপি সুবিধা পাওয়া যাবে। প্রবাসী ছাড়াও এ বন্ড কিনতে পারেন বিদেশে লিয়েনে কর্মরত বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাঁরা বৈদেশিক মুদ্রায় বেতন-ভাতা পান।

মুনাফার হার বেশি হওয়ায় প্রবাসে অবস্থান করা বেশির ভাগই এ বন্ড ক্রয় করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব বন্ডের বড় ক্রেতা হিসেবে সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মাহতাবুর রহমান, তাঁর ভাই ওলিউর রহমান, কাজী সরোয়ার হাবীব, মনির হোসেন প্রমুখ।ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড চালু তিন বছর মেয়াদি। এ বন্ডে ৫০০ ডলার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। মেয়াদ শেষে মুনাফা সাড়ে ৭ শতাংশ।

প্রতি ছয় মাস অন্তর সরল সুদে মুনাফা তোলা যায়। তবে মেয়াদপূর্তির আগে বন্ড ভাঙতে চাইলে ১ থেকে দেড় শতাংশ সুদ কমে যায়। আর ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডও তিন বছর মেয়াদি। এতে সাড়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায়। ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এ নিয়ে বলেন, প্রবাসীদের বিনিয়োগের জন্য সরকারের তিন ধরনের বন্ড রয়েছে। ব্যাংকগুলো এ বন্ড বিক্রি করে। এর মাধ্যমে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসছে। প্রবাসীরাও লাভবান হচ্ছেন। তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme