লেবাননে প্রবাসী বাংলাদেশির মৃ,ত্যু !

লেবাননে প্রবাসী বাংলাদেশির মৃ,ত্যু !

লেবাননের ত্রিপলী জেলায় হৃদ*রোগে আক্রান্ত হয়ে সেকদন মিয়া (৪৫) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি মৃ**বরণ করেছেন। সোমবার (২ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে তার মৃ**ত্যু হয়। বর্তমানে মৃ**তের ম*র*দেহ শিক্কা আফরিন হাসপাতালের মর্গে আছে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার আখড়া গ্রামের সামসু মিয়ার সন্তান।

জানা যায়, পরিবারে সচ্ছলতা আনার আশায় দীর্ঘ ৯ বছর আগে লেবাননে এসে ত্রিপলীতে একটি পেট্রল পাম্পে বৈধভাবে কাজ করে আসছিল সেকদন মিয়া। সোমবার বিকেলে কর্মরত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিক তাকে শিক্কা আফরিন হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সেকদন মিয়া তিন সন্তানের জনক। তার অকাল মৃ**ত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি শো**ক জানিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিতাস সংগঠন লেবানন।

উল্লেখ্য,বিয়ের সাত মাস পর সুন্দর জীবনের আশায় গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরব যান মৌলভীবাজারের এক তরুণী (২০)। স্থানীয় এক দালালের দেখানো রঙিন স্বপ্নে বি’ভোর হয়ে স্বামীকে রেখে এ পথ বেছে নেন তিনি। কিন্তু সে স্বপ্ন ভে’ঙে চুরমা’র হয়ে যায় যখন তিনি সৌদিতে পৌঁছান। এদিকে গত ২৮ এপ্রিল সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে নেমেই ওই তরুণী জানতে পারেন তাকে যৌ’নকর্মী হিসেবে চার লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

এরপর সেখান থেকে মালিকের বাড়িতে যাওয়ার পর পরই শুরু হয় নি’র্যাতন। প্রতিনিয়ত ধ’র্ষণ, মা’রধর আর অনা’হারে একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমন ঘটনার এক পর্যায়ে সৌদি পুলিশ তাকে উদ্ধা’র করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এর আগে গত ২৬ নভেম্বর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন ওই তরুণী। দেশে ফেরার দুদিন পর শ্রীমঙ্গলের ‘মু’ক্তি মেডিকেয়ার’ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানেই এমন নি’র্যাত’নের কথা তুলে ধরেন ওই তরুণী।

মু’ক্তি মেডিকেয়ারে চিকিৎসাধীন ওই তরুণীর সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের কথা হলে সৌদি আরবে নি’র্যাত’নের ভয়ং’কার বিবরণ দেন তিনি।তার ভাষায়, যৌ’নকর্মে রাজি না হলে তার ওপর চালানো হতো অ’মানবিক নি’র্যাতন। একটি অফিসে রেখে প্রতিদিন কয়েকজন পালাক্রমে তাকে ধ’র্ষণ করতেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘জ্ব’লন্ত সিগারেট দিয়ে আমার বুক, স্প’র্শকা’তর জায়গা ওরা পু’ড়িয়ে দিয়েছে। তার দিয়ে বেঁ’ধে পি’টিয়ে হাত-পা ও উরুতে জ’খম করে দিয়েছে।

দলবেঁধে ৪/৫ জন মিলে ধ’র্ষণ করত, তখন জ্ঞা’ন হারিয়ে ফেলতাম।’জানা যায়, ২০ বছর বয়সী ওই তরুণীর বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ৯ নম্বর ইসলামপুর ইউনিয়নে। বর্তমানে অর্থের অভাবে চিকিৎসা অ’সমাপ্ত রেখেই গতকাল রবিবার তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। এ ব্যাপারে ‘মু’ক্তি মেডিকেয়ার’ হাসপাতালের প্রধান সেবিকা দীপ্তি দত্ত সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মেয়েটার যৌ’না’ঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পো’ড়া ও আ’ঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ক্ষতগুলো সারতে সময় লাগবে।’এদিকে মান’সিকভাবে ওই তরুণীর অ’সুস্থতার কথা জানিয়ে হাসপাতলের চিকিৎসক সাধন চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘মাঝে মাঝে আত’ঙ্কগ্রস্ত হয়ে আবল-তাবল বকছে। দ্রুত তাকে মানসিক চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন।’ এ বিষয়ে ওই তরুণীর মা বলেন, ‘আমার ভালো মেয়ে বিদেশ থেকে এসেছে আধম’রা হয়ে। টাকা রোজগারের আশায় গেল, একটি টাকাও ওকে দেওয়া হয়নি।’ এদিকে দেশে থাকা ওই তরুণীর স্বামী নি’র্যাত’নের কথা ‘আদম ব্যাপারী’ মোস্তফাকে জানালে তিনি ‘মিথ্যা কথা’ বলে উড়িয়ে দেন।

তরুণীর স্বামী পুলিশ ও সাংবাদিকের ভ’য় দেখালে তিনি দাবি করেন, যে বাড়িতে কাজ পেয়েছিলেন, সেখান থেকে দুই হাজার ২০০ রিয়াল নিয়ে পালিয়ে গেছেন ওই তরুণী। তবে শেষ পর্যন্ত কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের শরণাপ’ন্ন হন ওই তরুণীর স্বামী। প্রশাসনের তৎপরতায় ছয় মাস ২৬ দিন পর বাংলাদেশ সরকার, দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহায়তায় দেশে ফেরেন তার স্ত্রী।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme