জার্মানিতে ৫ কেজি পেঁয়াজের দাম ৪৫ টাকা, প্রবাসীর ভিডিও ভাইরাল(ভিডিওসহ)

জার্মানিতে ৫ কেজি পেঁয়াজের দাম ৪৫ টাকা, প্রবাসীর ভিডিও ভাইরাল(ভিডিওসহ)

দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। ‘পাগলা ঘোড়ার গতিতে’ বাড়ছে এর দাম। দেশি পেঁয়াজ ২০০-২২০ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ১৮০-২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এর আগে কখনও পেঁয়াজের দাম এমন অস্বাভাবিক হয়নি। পেঁয়াজ নিয়ে বাংলাদেশে যখন এই পরিস্থিতি তখন জার্মানির বার্লিন শহরে খুবই কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ নিয়ে ফেসবুকে জার্মান প্রবাসীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি সুপার স্টোরে পাঁচ কেজি পেঁয়াজের দাম মাত্র ০.৯৯ ইউরো (বাংলাদেশি ৯২.২৫ টাকা) ধরা হয়েছে। তবে তা ৫০% ছাড়ে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে বাংলাদেশি টাকায় পাঁচ কেজি পিয়াজের দাম পড়ছে ৪৬ টাকা। অর্থাৎ এক কেজি পিয়াজের দাম পড়ছে ৯ টাকা ২০ পয়সা! ‘ছড়িয়ে দিন জীবনের সব রঙ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ওই ভিডিওটি শেয়ার করার পর তা ছড়িয়ে পড়ে। ‘পিয়াজ নিয়ে হক কথা, বার্লিন, জার্মানি। ১০/১১/২০১৯’ শিরোনামে ভিডিওটি পোস্ট করা হয় ওই পেজে। ভিডিওতে তানভীর নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি বার্লিন শহরের একটি বাজারের সুপার শপে পিয়াজ কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে তার বর্ণনা দিচ্ছিলেন। ইতিমধ্যে তার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

অন্যদিকে, বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে বেড়েই চলেছে পেঁয়াজের দাম। প্রতিদিনই কেজিতে বাড়ছে ১০ থেকে ২০ টাকা। বর্তমানে ঝিনাইদহের বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকা দরে।গতকাল বৃহস্পতিবার ১৪ (নভেম্বর) ঝিনাইদহের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৯৫ টাকা থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) একই পেঁয়াজ ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাজারের একটি দোকানের সামনে প্রায় ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে অন্তত ছয়জন ক্রেতাকে পেঁয়াজের দাম শুনে ভ্রু কুচকাতে দেখা যায়।

অন্য দুটি দোকানে গিয়েও আবার ২০০ টাকার বেশি দাম দেখেন তারা। এক পর্যায়ে পেঁয়াজ না কিনেই ফিরে যান এসব ক্রেতা। এর মধ্যে এ দোকান থেকে মাত্র একজনকে আধা কেজি পেঁয়াজ কিনতে দেখা যায়। বাজারে পেঁয়াজ বিক্রেতা লাল্টু মিয়া বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়াই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। গতকালের পেঁয়াজ আজ পর্যন্ত অর্ধেকও বিক্রি করতে পারিনি। তাই আজকে আর নতুন করে পেঁয়াজ কিনিনি। কারণ কাস্টমাররা দাম শুনে যা তা মন্তব্য করছেন। তিনি বলেন, ৭০০ টাকা কেজি দরে মানুষ খাসির মাংস কিনে খেতে পারছেন আর ২৭০ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনতে এত কষ্ট কিসের!

বাজারে অন্য এক পেঁয়াজ বিক্রেতা মুরাদ হোসেন বলেন, পাইকারি বাজার থেকে প্রতি কেজি ১৭০ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনে এনেছেন তিনি। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ যোগ করে এখন তিনি প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৭০ টাকায় বিক্রি করছেন।তিনি বলেন, কী করবো ভাই দাম বেশি পড়ছে। এখন পেঁয়াজ বিক্রিও কমে গেছে। আগে অনেক বেশি বিক্রি হতো। আজ সারাদিনে ১০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি।ক্রেতারা জানান, বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ রয়েছে তবুও প্রতিদিনই দাম বাড়ছে।

বাজার মনিটরিং না করার কারণেই বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে মনে হচ্ছে নতুন পেঁয়াজ বাজার আসার আগে সাড়ে ৩০০ টাকা হয়ে যাবে। বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক নারী সুপিয়া বেগম বলেন, এক কেজি পেঁয়াজ কিনতেই যদি খরচ করতে হয় তাহলে অন্যান্য সদাই করব কীভাবে। পেঁয়াজের এত দাম আমার জীবনে দেখিনি।বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা মো. রনি জানান, নিউজে দেখছি অন্যান্য জেলায় বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।

অথচ ঝিনাইদহের বাজারে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বাজার মনিটরিং করার থেকে তাদের বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বিভিন্ন দিবস পালন করা আর ফেসবুকে ছবি দেয়া। ক্রেতারা অভিযোগ করছেন বাজার সঠিকভাবে মনিটরিং না করার কারণেই পেঁয়াজ বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে। এমন প্রশ্নে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আরিফ-উজ-জামান রেগে গিয়ে বলেন, এ বিষয় নিয়ে আমাকে বিব্রত করছেন কেন? এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। তবে পরে তিনি বলেন, ক্রেতারা বাজারে না থেকে অভিযোগ করলে হবে না। আমাদের অভিযান চলছে।

পিয়াজ নিয়ে হক কথা, বার্লিন, জার্মানি। ১০/১১/২০১৯ ইং

Posted by ছড়িয়ে দিন জীবনের সব রঙ on Sunday, November 10, 2019

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme