সর্বশেষ আপডেট
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দরে নতুন নিয়ম, যে ভু;ল করলেই পাবেন শা;স্তি!

সৌদি প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দরে নতুন নিয়ম, যে ভু;ল করলেই পাবেন শা;স্তি!

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে কাস্টম ও বহির্গমন বিভাগ প্রবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম জারি করেছে। গত ২৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জেদ্দা দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে নোটিশের মাধ্যমে এ বিষয়ে অবহিত করেছে। নতুন নিয়মে যেসব বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবে প্রবেশ ও বহির্গমনকালে দেশটির কাস্টম রুল অনুসারে কোনো প্রবাসী যাত্রীর কাছে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, স্বর্ণের বার, মূল্যবান ধাতু,পাথর এবং জুয়েলারি পণ্য যা ৬০,০০০ (ষাট হাজার) সৌদি রিয়ালের সমমান বা এর বেশি দামের হলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করার বিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর অ’মান্য করলে দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী শা’স্তির বিধান রয়েছে মর্মে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের অবহিত করেছে।

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্র্টের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। বুধবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ই-পাসপোর্টের মাধ্যমে একজন বিদেশগামী অন্যের সাহায্য ছাড়া, নিজেই নিজের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে এক মিনিটেরও কম সময়ে। পৃথিবীতে এর চেয়ে নিরাপদ ও অত্যাধুনিক পাসপোর্ট এখন পর্যন্ত উদ্ভাবন হয়নি।

এটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে একটি এমবেডেড ইলেকট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর (মোবাইলের মেমোরি কার্ডের মতো) চিপ থাকবে। মাইক্রোপ্রসেসর চিপে পাসপোর্টধারীর বায়োগ্রাফি ও বায়োমেট্রিক (ছবি, আঙুলের ছাপ ও চোখের মণি) তথ্যসহ মোট ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা ফিচার থাকবে। ই-পাসপোর্টের বই হবে বর্তমান মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) মতোই। তবে এমআরপির প্রথম দুই পাতায় পাসপোর্টধারীর তথ্য থাকলেও ই-পাসপোর্টের দ্বিতীয় পাতাটি থাকবে একটি পালিমারের তৈরি কার্ডের মতো (ডেবিট/ক্রেডিট/এটিএম কার্ড-সদৃশ)।

কার্ডে পাসপোর্ট বাহকের নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখসহ বিভিন্ন মৌলিক তথ্য থাকবে। এছাড়া সেই কার্ডের ভেতরে একটি মাইক্রো চিপ থাকবে। তাতে পাসপোর্ট বাহকের সব গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য ও ডাটাবেজ সংরক্ষিত (তবে অদৃশ্যমান) থাকবে। ডাটাবেজে থাকবে পাসপোর্টধারীর তিন ধরনের ছবি, ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের এমআরপি দিয়ে ইমিগ্রেশন অফিসারের মাধ্যমে একজন যাত্রী খুব দ্রুত বন্দর পার হতে পারেন। তবে ই-পাসপোর্টের বড় সুবিধা হলো,

যাত্রী খুবই দ্রুত, সহজে এবং ই-গেটের মাধ্যমে নিজেই নিজের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এর মাধ্যমে ইমিগ্রেশন দ্রুত হবে। ই-পাসপোর্ট করতে আবেদনের ফরমে বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে কোনো ধরনের সত্যায়িত লাগবে না। দেশের বিমানবন্দরে ইতিমধ্যে ই-গেট স্থাপিত হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইতিমধ্যে তিনটি ই-পাসপোর্ট গেট বসানো হয়েছে। পাশপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর,

বেনাপোল ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আরও ৫০টি ই-গেট স্থাপন করা হবে। ই-পাসপোর্টধারীরা নির্দিষ্ট স্থানে পাসপোর্ট পাঞ্চ করে ই-গেটের সামনে দাঁড়ালে সেখানকার ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের ছবি তুলবে। পরে ই-গেটের মনিটরে নিজের আঙুলের ছাপ দিয়ে নিজেই নিজের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা যাবে। পাসপোর্টধারীর বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকলে বা তার তথ্য ও ছবিতে মিল পাওয়া না গেলে ই- গেটে পাঁচ ও ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে।

বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৩৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৫৫০০ ও অতীব জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা। ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫০০০ টাকা, জরুরি ফি ৭০০০ ও অতীব জরুরি ফি ৯০০০ টাকা। এছাড়া বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৭৫০০ ও অতীব জরুরি ফি ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৭০০০ টাকা, জরুরি ফি ৯০০০ ও অতীব জরুরি ফি ১২০০০ টাকা।

নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতীব জরুরি হলে তিনদিনে, জরুরি সাতদিনে এবং সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে ২১ দিনে পাসপোর্ট সরবরাহ করা হবে। পুরনো অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে অতীব জরুরি দুদিনে, জরুরি তিনদিনে এবং সাধারণ পাসপোর্ট সাতদিনের মধ্যে পাওয়া যাবে। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ই-পাসপোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১০০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৫০ এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১২৫ ও জরুরি ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৫০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২০০ এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৭৫ ও জরুরি ফি ২২৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী, যার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তার পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme