সর্বশেষ আপডেট
প্রেমিককে পেতে কনকনে শীতে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসলো ১৪ বছরের কিশোরী । আমাদের নিয়ে আযহারী হুজুর ছাড়া আর কেউ এমন কথা বলেনিঃ হিজড়া প্রধান । প্রভাকে বিয়ে করলেন ইন্তেখাব দিনার । বিয়েতে সৌদি নারীদের পছন্দের শী’র্ষে বাংলাদেশি পুরু’ষরা । আজ ১৯/০১/২০২০ তারিখ, দিনের শুরুতেই দেখে নিন আজকের টাকার রেট কত । দেহ ব্যবসা করতে করতে যেভাবে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন হলেন আলিয়া । শারীরিক সম্পর্কে মোটা পুরুষেরা বেশি সক্রিয়, বলছে গবেষণা । ওয়াজে তারেক মনোয়ারের বক্তব্য নিয়ে ফেসবুকে তুমুল আলোচনা । পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে হোটেলে গিয়ে যেভাবে খু’ন করা হল গৃহবধূকে । ফেব্রুয়ারির ১ তারিখে হচ্ছেনা এসএসসি পরীক্ষা ।
স্ত্রীদের সঙ্গে রাসূল (সা.) এর আচরণ ও বিনোদন

স্ত্রীদের সঙ্গে রাসূল (সা.) এর আচরণ ও বিনোদন

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ তথা নীতিমালা।’ (সূরা: আল আহযাব (৩৩), আয়াত: ২১)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের প্রতিটি দিকই মুসলিম উম্মাহর সব নারী-পুরুষের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। কোরআনের ভাষায় তা উসওয়াতুন্নবী বা নবীর আদর্শ। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যক্তিগত জীবনও আনন্দে পরিপূর্ণ। তিনি তার স্ত্রীদের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্ত কাটিয়েছেন।

বিনোদন করেছেন। যা সব নারী-পুরুষের দাম্পত্য জীবনের জন্য আদর্শ। পারিবারিক জীবনে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনন্দঘন মুহূর্তগুলোর হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় উঠে এসেছে- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম স্বামী যে তার স্ত্রীর সঙ্গে ভাল ব্যবহার করে। আর আমি আমার স্ত্রীদের সঙ্গে সবচেয়ে ভাল ব্যবহার করি।’ রাসূল (সা.) এর স্ত্রীদের প্রতি ভালবাসা: রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের এতটা ভালোবাসতেন যে, হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা পাত্রের যে স্থানে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতেন।

তিনিও সে স্থানে মুখ দিয়ে পানি পান করতেন। আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁড়ের যে জায়গা থেকে গোস্ত খাওয়া শুরু করতেন হজরত আশয়া রাদিয়াল্লাহু আনহাও হাড়ের ওই জায়গা থেকে গোস্ত খাওয়া শুরু করতেন। রাসূল (সা.) এর স্ত্রীদের সঙ্গে খোশ গল্প: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝে মাঝে স্ত্রীদের সঙ্গে বসে বিভিন্ন ঘটনা, কাহিনী ও খোশ গল্প করতেন।

সব স্ত্রীই তাকে নতুন নতুন কাহিনী শুনাতেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে নিজেও স্ত্রীদের কিসসা শুনাতেন। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, তিনি আমাদের মধ্যে এমনভাবে হাসতেন, কথা বলতেন ও বসে থাকতেন, আমাদের মনেই হতো না যে তিনি একজন মহান রাসূল। রাসূল (সা.) এর স্ত্রীদের সঙ্গে খেলাধূলা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে খেলাধূলায় মেতে উঠতেন। একবার তিনি হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা দিয়ে ইচ্ছা করে হেরে যান। কিছুদিন পর পুনরায় দৌঁড় প্রতিযোগিতায় হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হেরে যান। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আয়েশা!

আজ আমি তোমাকে হারিয়ে দিয়েছি, তুমি আমার সঙ্গে পারনি। এটা হলো প্রথম প্রতিযোগিতায় জিতে যাওয়ার বদলা। রাসূল (সা.) এর স্ত্রীদের সঙ্গে ভাব-বিনিময়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো স্ত্রীদের ভৎসনা কিংবা তিরস্কার করতেন না। তাদেরকে কোনো বিষয়ে কটাক্ষ করে কথা বলতেন না। বরং হৃদয় উজাড় করে দিয়ে মায়া ও মন জুড়ানো আকর্ষণীয় ভাবভঙ্গি ও কথা বলতেন।

স্ত্রীদের কোনো কথা তাঁর মনের বিপরীত হলে তাদের সে কথা থেকে মনোযোগ ফিরিয়ে অন্য চিন্তা করতেন। তিনি বিবিগণকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তাদের আদর, সোহাগ ও মায়া-মমতায় রাখতেন। কখনো কখনো তাদের উরুতে মাথা রেখে শুয়ে থাকতেন। রাসূল (সা.) এর স্ত্রীদের সঙ্গে সালাম বিনিময়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বাহির থেকে ঘরে ফিরতেন তখন অত্যন্ত খুশি মনে মুচকি হাসতে হাসতে ঘরে প্রবেশ করতেন।

দরদমাখা কণ্ঠে সালাম দিতেন। কোনো ব্যাপারেই তিনি দোষ ধরতেন না। বিশ্রামের সময় বিছানার ব্যাপারেও দোষ ধরতেন না। তিনি যেভাবে বিছানা প্রস্তুত পেতেন তার ওপরই শুয়ে পড়তেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাম্পত্য জীবন মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। যার বাস্তবায়নে পারিবারিক জীবনে শান্তি ও সহাবস্থান ফিরে আসতে বাধ্য।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে বুঝা যায় যে, সুখ ও শান্তিময় জীবন যাপনে স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্কে বিকল্প নেই। জীবনকে সুখ-শান্তি ও আনন্দময় করে তুলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুসরণ ও অনুকরণে মুমিন মুসলমানের জন্য একান্ত আবশ্যক। মহান রাব্বুল আরামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাম্পত্য জীবনকে অনুসরণ ও অনুকরণ করার মাধ্যমে সুখ ও শান্তিময় জীবন যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme