সর্বশেষ আপডেট
হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রবাসীর মৃত্যু, ১৫ লক্ষ টাকায় সমঝোতা । আরব আমিরাতের অবৈধ প্রবাসীদের জন্য সুখবর, শীগ্রই পাচ্ছেন নতুন ভিসা । বিয়ে করছেন নায়িকা বুবলি । মালয়েশিয়া ছাড়লো ৩৯ হাজার বাংলাদেশী, ডেড লাইন ৩১ ডিসেম্বর । বিপাকে পড়বেন কয়েক কোটি মুসলমান, ভারতীয় মুসলিমদের পাশে থাকার আহবান । বাসর ঘরে স্বামীকে বসিয়ে রেখে প্রবাসীর ছেলের সাথে বউ উধাও । যে কারণে স্বামীর পুরুষা’ঙ্গ ব্লে’ড দিয়ে কে’টে নিলো স্ত্রী । আজ ১৫/১২/২০১৯ তারিখ, দিনের শুরুতেই দেখে নিন আজকের টাকার রেট কত । এবার চাঁদপুরে মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিল বন্ধ ঘোষণা (ভিডিও) গঙ্গা ঘাটে আচমকা পড়ে গেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । (ভিডিও)
বিশ্বে ইসলাম ধর্মের অনুসারী কতো

বিশ্বে ইসলাম ধর্মের অনুসারী কতো

পৃথিবীতে বহু ধর্মের মানুষ রয়েছেন। কালের বিবর্তনের অনেক ধর্মের আবির্ভাব হয়েছে। তবে বর্তমানে খুব অল্পসংখ্যক ধর্মই টিকে আছে। জানা যায় পৃথিবীতে বর্তমানে চার হাজার ৩০০ ধর্মের অস্তিত্ব রয়েছে। অনুসারীর দিক দিয়ে বর্তমানে পৃথিবীর প্রধান ধর্ম ১০টি। এছাড়া বাকি ধর্মগুলোর অনুসারী কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা দেশের জনগোষ্ঠী।

খ্রিস্টধর্ম: যিশুখ্রিস্টের জীবন ও শিক্ষাকে কেন্দ্র করে বিকশিত হয়েছে খ্রিস্টধর্ম। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে, যিশু খ্রিস্ট ঈশ্বরের পুত্র এবং তিনি মানবজাতির ত্রাণকর্তা। পৃথিবীর খ্রিস্টধর্মের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২৪০ কোটি। খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বাইবেল।
ইসলাম ধর্ম: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মদ (সা.) তার প্রেরিত রাসুল- এটি ইসলাম ধর্মের মূল বিশ্বাস। ইসলাম হলো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। এ ধর্মের অনুসারী বর্তমানে পৃথিবীতে ১৮০ কোটি। তবে পৃথিবীর দ্রুত প্রসারমাণ ধর্ম ইসলাম। সাম্প্রতিক অনেক গবেষণায় বলা হচ্ছে, খ্রিস্ট অধ্যুষিত ইউরোপ অর্ধশতাব্দীকাল পর মুসলিমপ্রধান অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। পৃথিবীর ৫০টি দেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ।

হিন্দু ধর্ম: পৃথিবীর তৃতীয় বৃহৎ ধর্ম হিন্দু বা সনাতন ধর্ম। এর অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১২০ কোটি। হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা প্রায় সবাই ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাস করে। হাজার বছরের প্রাচীন এই ধর্মের সংগঠিত ও সমন্বিত যাত্রা শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ বছর আগে।
বৌদ্ধ ধর্ম: পৃথিবীর চতুর্থ বৃহৎ ধর্ম বৌদ্ধ। আনুমানিক ৫১ কোটি মানুষ এই ধর্মে বিশ্বাস করে। ভারতবর্ষের একজন সাধক পুরুষ গৌতম বুদ্ধ এই ধর্মের প্রবর্তক। তার প্রচারিত বিশ্বাস ও জীবনদর্শনই বৌদ্ধ ধর্মের ভিত্তি।

হান ধর্ম: জনসংখ্যায় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশ চীনের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সম্প্রদায় হলো হানজু বা হান সম্প্রদায়। তারা চীনা লোকধর্ম বা হান ধর্মে বিশ্বাসী। পঞ্চম বৃহৎ এই ধর্মকে অনেকে হান জাতি-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যের পরিবর্তিত সংস্করণ বলে থাকে। বর্তমানে এই ধর্মের অনুসারী ৪০ কোটির কাছাকাছি।
শিখ ধর্ম: অনুসারী বিবেচনায় শিখ ধর্মের অবস্থান ষষ্ঠ। বিশ্বজুড়ে আনুমানিক তিন কোটি মানুষ শিখ ধর্মে বিশ্বাস করে। একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী এই ধর্মানুসারীদের নেতাকে বলা হয় গুরু। শিখ শব্দটির অর্থই শিষ্য।

ইহুদি ধর্ম: অনুসারীর সংখ্যা বিবেচনায় বিশ্বের সপ্তম বৃহৎ ধর্ম ইহুদি। এই ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা এক কোটির বেশি, যার ৪৩ শতাংশই ইসরায়েলে বসবাস করে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বাস করে আরো ৪৩ শতাংশ ইহুদি। বাকিরা লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ায় বসবাস করে।
বাহাই ধর্ম: বাহাই ধর্মাবলম্বীরা পৃথিবীর অষ্টম বৃহৎ ধর্মীয় জনগোষ্ঠী। ঊনবিংশ শতাব্দীতে মির্জা হুসাইন আলী তথা বাহাউল্লাহ তৎকালীন পারস্যে (বর্তমান ইরান) এই ধর্মের প্রচার করেন। অনেকেই একে ধর্ম না বলে একটি বিশেষ বিশ্বাস হিসেবেও উল্লেখ করেন। ‘কিতাবুল আকদাস’ এই ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ। মানবজাতির ঐক্য ও মেলবন্ধনই এই ধর্মের মূল লক্ষ্য। বিশ্বের দুই শরও বেশি দেশে ৭০ লাখের বেশি মানুষ বাহাই মতবাদে বিশ্বাস করে।

জৈন ধর্ম: সংস্কৃত শব্দ ‘জৈন’ অর্থ বিজয়ী। জৈন ধর্মের মূল বিশ্বাস হলো, পৃথিবীতে ২৪ জন ‘তীর্থঙ্কর’ বা বিজয়ী মহাপুরুষের আগমন ঘটেছিল, যারা নিজ নিজ সময়ে মানবজাতির ত্রাণকর্তা ও শিক্ষক ছিলেন। এই ২৪ জনের মধ্যে সর্বপ্রথম পৃথিবীতে এসেছিলেন ঋষভ, যার আগমন ঘটেছিল লাখ লাখ বছর আগে। সর্বশেষ ২৪তম তীর্থঙ্কর মহাবীরের আগমন ঘটে খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকে। এটি একটি ভারতীয় ধর্ম

শিন্তো ধর্ম: জাপানের স্থানীয় এবং অনানুষ্ঠানিক একটি রাষ্ট্রীয় ধর্ম শিন্তো। এটা এমন একটি ধর্ম, যার কোনো ঈশ্বর নেই, প্রচারক নেই, ধর্মগ্রন্থ নেই, পরকাল নেই, নেই কোনো বিধিবদ্ধ রীতিনীতি। শিন্তো ধর্মের মূলকথা হলো, সৃষ্টিকর্তা বলতে কেউ নেই, তবে কিছু স্বাধীন আত্মা বা স্বর্গীয় সত্তা আছেন, যাদের নাম ‘কামি’। এই কামিরা পৃথিবীর মানুষের কল্যাণকামী। যে কোনো ধর্মের মানুষই শিন্তো মন্দিরে যাতায়াতের অধিকার রাখে। ধারণা করা হয়, পৃথিবীর ৪০ লাখ মানুষ শিন্তো মতবাদে বিশ্বাস করে।

শাক্ত ধর্ম: শাক্তধর্ম হিন্দুধর্মের একটি শাখাসম্প্রদায়। হিন্দু দিব্য মাতৃকা শক্তি বা দেবী পরম ও সর্বোচ্চ ঈশ্বর– এই মতবাদের উপর ভিত্তি করেই শাক্তধর্মের উদ্ভব। এই ধর্মমতাবলম্বীদের শাক্ত নামে অভিহিত করা হয়। হিন্দুধর্মের প্রধান তিনটি বিভাগের অন্যতম শাক্তধর্ম।
জরথুস্ত্র ধর্ম: জোরোয়াষ্টার বা জরথ্রুস্ট্রা, অথবা জরথ্রুস্ট, ছিলেন একজন প্রাচীন পারস্যীয় ধর্ম প্রচারক এবং জরথ্রুস্ট ধর্ম মতের প্রবর্তক। জরথ্রুস্ট এমন একটি ধর্ম, যা ছিলো প্রাচীন ইরানের আকামেনিদ, পার্থিয়ান এবং সাসানিয়ান সাম্রাজ্যের জাতীয় ধর্ম; যা মূলত বর্তমানে আধুনিক ইরানের জরথ্রুস্ট সম্প্রদায় এবং ভারতের পার্সী সম্প্রদায় কর্তৃক পালিত হয়।

ইয়াজিদি ধর্ম: ইয়াজিদি বা এজিদি হচ্ছে একটি কুর্দি নৃ-ধর্মীয় গোষ্ঠী, যাদের রীতিনীতির সাথে জরথুস্ত্র ধর্মমতের সাদৃশ্য রয়েছে। ইয়াজিদিগণ প্রধানত উত্তর ইরাকের নিনেভেহ প্রদেশে বসবাস করে। আমেরিকা, জর্জিয়া এবং সিরিয়াইয় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইয়াজিদিদের সাক্ষাৎ মেলে। ইয়াজিদিগণ বিশ্বাস করেন, ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি সাতটি পবিত্র জিনিস বা ফেরেশতার মাঝে এটাকে স্থাপন করেছেন। এই সাতজনের প্রধান হচ্ছেন মেলেক তাউস, ময়ুর ফেরেশতা।

কনফুসীয় ধর্ম: কনফুসীয় ধর্ম চীনের একটি নৈতিক ও দার্শনিক বিশ্বাস ও ব্যবস্থা যা বিখ্যাত চৈনিক সাধু কনফুসিয়াসের শিক্ষার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। অর্থাৎ কনফুসিয়াস হলেন কনফুসীয় ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা। এটি মূলত নৈতিকতা, সমাজ, রাজনীতি, দর্শন এবং ধর্মীয় বিশ্বাস ও চিন্তাধারাসমূহের সম্মিলনে সৃষ্ট একটি জটিল ব্যবস্থা যা একবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত পূর্ব এশিয়ার সংস্কৃতি ও ইতিহাসে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।

তাওবাদ ধর্ম: তাওবাদ বা দাওবাদ চীনের একটি প্রাচীন ধর্মমত। প্রাচীন দার্শনিক কনফুসিয়াসের সমসাময়িক লাও জে এই তাও মতবাদ প্রচার করেন। সামারিতান ধর্ম: সামারিতান হচ্ছে বর্তমান ইসরাইলের উত্তর প্রদেশে বসবাসকারী সেমেটিক সম্প্রদায়ের একটি সাম্প্রদায়িক শাখাবিশেষ। এ মতবাদটির ইহুদিবাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মিল রয়েছে।

এটি বাইবেলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা আধুনিক মতবাদ। গ্রিক ধর্ম: সবচেয়ে প্রাচীন ও শৈল্পিক ধর্ম হিসাবে ইউরোপে গ্রিক মিথ চালু ছিল । এ ধর্মের বিষয়বস্তু বর্তমানে রূপকথার গল্প হয়ে দাড়িয়েছে। বর্তমানে এর অনুসারী নেই বললেই চলে। গ্রিকদের লক্ষাধিক দেব-দেবী বিদ্যমান । তবে ধর্মটির প্রধান দেবতা হিসাবে জিউসকে ধরা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme