এবার নতুন দাবি নিয়ে বুয়েটে শুরু হচ্ছে আন্দোলন

এবার নতুন দাবি নিয়ে বুয়েটে শুরু হচ্ছে আন্দোলন

আবরার ফাহাদকে নি র্মম ভা বে হ ত্যা করার পর থেকেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ রয়েছে সব একাডেমিক কাজ। মাঝখানে ভর্তি পরীক্ষা হয়ে গেলেও কোন অভ্যন্তরীণ ক্লাস পরীক্ষা হয় নি। গণশপথের মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সমা প্তি ঘটলেও টার্ম ফাইনাল দেয় নি চারটি ব্যাচ। এবার শোনা গেল বুয়েটের শিক্ষকবৃন্দ আন্দোলনে নামছেন ভিসির পদত্যা গের দাবিতে।

এ বিষয়ে সোমবার (২৮ অক্টোবর) বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম মাসুদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরা অ টল। এজন্য প্রয়োজনে নতুনভাবে আন্দোলন গড়ে তোলা হতে পারে। আমরা অদক্ষ ও অযোগ্য ব্যক্তির অধীনে থাকতে চাই না। তার (ভিসির) কারণে বুয়েটের সার্বিক পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠছে।’

ইতোমধ্যে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে আমরা তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছি, যদিও তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা পোষণ করেননি। এ বিষয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত শিক্ষকরা ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, প্রতিবছর কতজন শিক্ষার্থী বুয়েটে ভর্তি হয় তা ভিসির কাছে জানতে চেয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। জবাবে ভিসি বললেন, ‘প্রতিবছর কতজন শিক্ষার্থী বুয়েটে ভর্তি হয় এ তথ্য এ মুহূর্তে আমার মাথায় নেই।’ভিসির এমন কথায় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা উপহাসের ভঙ্গিতে হেসে উঠেন।শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বুয়েটের অডিটরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

বক্তব্যের শুরুতেই ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি। বলেন, ‘আমার কিছুটা ভুল হয়েছে, আমি তোমাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমার ভুল আমি স্বীকার করেছি, তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দাও।’ ‘আব’রার আমার সন্তানের মতো ছিল। তোমাদের যেমন কষ্ট লাগছে তার মৃ’ত্যুতে আমারও অনেক খারাপ লেগেছে। এটি আমি মেনে নিতে পারিনি। তার মৃ’ত্যুতে দুঃখ তোমরা পেয়েছ, আমিও পেয়েছি।

আমরা সকলেই ম’র্মাহত।’আ’বরার ফাহাদ হ’ত্যায় বুয়েটের অভিযুক্ত ১৯ জনকে অস্থায়ী বহিষ্কার এবং বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষি’দ্ধ ঘোষণা করেছেন ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। জানিয়েছেন, আবরারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। মামলার খরচ বুয়েট কর্তৃপক্ষ বহন করবে। বিচারকাজ দ্রুত শেষ করতে সরকারকে চিঠি দেয়া হবে।

ল্লেখ্য, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার জের ধরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে রোববার (৬ অক্টোবর) রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দুইতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার ম’রদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ম’র্গে আবরারের ময়নাত’দন্ত সম্পন্ন হয়।

ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ লাশের ময়নাত’দন্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ছেলেটিকে পি’টিয়ে হ’ত্যা করা হয়েছে।’ নি’হত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। আবরার হ’ত্যাকা’ণ্ডের বিচার দাবিসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনে উত্তাল রয়েছে বুয়েট ক্যাম্পাস।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হ’ত্যাকা’ণ্ডের ঘটনায় ক্ষো’ভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে অভিভাবক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক যাওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনি এসব বলেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের ভাষ্যনুযায়ী, পুরো বৈঠকটি ছিল একটা আবেগঘন পরিবেশের। শেখ হাসিনা বলেন, ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে, একটি ছেলেকে এভাবে পি’টিয়ে মে’রে ফেলা হবে, সেটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এই ঘটনার দোষীদের ছাড় দেয়া হবে না। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তি দেয়া হবে।বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচায্যকে বুয়েটে চলমান আন্দোলন নিয়ে ব্রিফ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]