সর্বশেষ আপডেট
বাবরি মসজিদ ও মুসলমানদের পক্ষে লিখলেন ভারতীয় হিন্দু লেখিকা । যুক্তরাজ্যে নিজ ঘরের পাশ থেকে এক বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার । আবিষ্কৃত হলো ‘কৃত্রিম পাতা’ তৈরি করতে পারে ১০ শতাংশ বেশি জ্বালানি । আরো এক রেমিটেন্স যোদ্ধা কুয়েত প্রবাসী ভাই যেভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন পরপারে । লেবাননের গণআন্দোলনে অবৈধ প্রবাসীদের দেশে ফেরার কর্মসূচি ব্যাহত । ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে দেশে ফিরছেন গৃহকর্মী সুমি । আজ (১১ নভেম্বর) ঢাকায় আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় মূল্য । চার্জার লাইট থেকে উদ্ধার হলো ৪ কোটি টাকার স্বর্ণবার । আরব আমিরাতের পুরুষ প্রবাসীকর্মীদের জন্য সুখবর, শুরু হল নতুন ওয়ার্ক পারমিট সুবিধা । ৩ বছরে সহজ উপায়ে কানাডা যাবে ১০ লাখ মানুষ ।
অপারেশন থিয়েটারে রোগীকে বাঁচিয়ে প্রা ণ গেল চিকিৎসকের

অপারেশন থিয়েটারে রোগীকে বাঁচিয়ে প্রা ণ গেল চিকিৎসকের

‘ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগী মা’রা গেল’ – ভয়ঙ্কর ডাক্তার বিরোধী পাবলিক প্রপাগান্ডাকে নিজের জীবনের বিনিময়ে মিথ্যা প্রমাণ করে গেলেন ডাক্তার আববার আহমেদ। অ’পারেশন টেবিলে থাকা ম’রণাপন্ন রোগীকে বাঁচিয়ে , অ’পারেশন সফল , সুসম্পন্ন করেই মৃ’ত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তিনি।

এক্ষেত্রে মানবপ্রেমী ডাক্তার বাস্তবে নিজের অ’সুস্থতা স্বত্ত্বেও অ’পারেশন করতে এসেছিলেন। সে দায়িত্ব পালন করে রোগীর জীবন রক্ষা করেন। তারপর নিজেই প্রয়াত হলেন। রোগীকে বাঁচিয়ে তুললেও বাঁচলেন না তিনি । অ’পারেশনের শেষ কজরে মৃ’ত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তিনি। প্রয়াত এই মহান জীবনদরদী ডাক্তার হলেন , বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আবরার আহম্মেদ।

২০ অক্টোবর বরিশাল নগরীর বান্দ রোডস্থ রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে অ’পারেশনকালে তিনি অ’সুস্থ বোধ করেন। কিন্তু চিকিৎসকের মহান দায়িত্ব পালনের পবিত্র ব্রত পালন করতে গিয়ে তিনি তা সহকর্মীদের বুঝতে দেন নি। সুন্দর ভাবে অ’পারেশন করে রোগীর পূণর্জীবন দান করেন। তারপর অ’সুস্থতা বোধের কথা সহকর্মীদের জানালে তাৎক্ষনিক তাকে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানেই এই মহান মানবসেবীর মহাপ্রয়াণ ঘটে। এ এক পবিত্র মৃ’ত্যু। নাক-কান-গলা বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবরার আহমেদ ২০১০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ এর ২৬ তম অধ্যক্ষ ছিলেন। এর আগে দীর্ঘ সময় তিনি একই মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন।

মৃ’ত্যুকালে তিনি স্ত্রী’ ও দুই কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তার বড় মেয়ে বুশরা আবরার ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক এবং ছোট মেয়ে প্রকৌশলী রাইসা আবরার আমেরিকায় থাকেন। দুপুরে শেবাচিম হাসপাতালের কেন্দ্রীয় জামে ম’সজিদে ডাক্তার আবরার আহমেদে জানাযা শেষে সড়ক পথে ঢাকায় ধানমন্ডি ৬ নম্বরে তার নিজ বাড়িতে নেয়া হয়।

ডা. আবরার আহমেদ এর একান্ত সহকারী ফরিদ হোসেন জানান, ‘আবরার আহমেদ বরিশাল নগরীর সদর রোডস্থ শাহ’জাহান চৌধুরীর বাড়িতে বসবাস করতেন। গত শনিবার রাত থেকে তিনি ডায়েরিয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন। তার মধ্যে সকালে রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের অ’পারেশন থিয়েটারে এক রোগীর অ’পারেশন করেন নিবিড় দায়িত্বশীলতায়।

৩ ঘন্টা ব্যাপী অ’পারেশনের শেষ পর্যায়ে বুকে ব্যথা অনুভব করেন। কাজ শেষ করেন। তাপর তিনি বুকে হাত দিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। সহকর্মীদের সহায়তা চান। তাৎক্ষনিকভাবে তাকে উ’দ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে ভর্তি করার কিছুক্ষণ পরেই বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শেষ নিঃশ্বা’স ত্যাগ করেন।

স্বজনরা জানান, ‘ডা. আববার আহমেদ’র এর ঠিকানা কুমিল্লায়। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হন। ৫ম বর্ষে থাকাবস্থায় সেখান থেকে তিনি বদলি হয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে আসেন। ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে শেবাচিমে ৪র্থ ব্যাচ হিসেবে ইন্টার্ন কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৮৪ সালে সরকারি চাকুরিতে যোগদানের পর থেকে শেবাচিম হাসপাতালের বিভিন্ন পদের দায়িত্ব পালন তিনি।

চাকুরি জীবনের এক পর্যায়ে তিনি শেবাচিম হাসপাতালের ইএনটি’র আরএস ছিলেন। সেই থেকেই বরিশালে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। তার মৃ’ত্যুতে বরিশালে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃ’ত্যুর খবর পেয়ে শেবাচিম হাসপাতালের সাবেক ও বর্তমান সকল পর্যায়ের চিকিৎসক , সাধারণ উপকারভোগী মানুষ হাসপাতালে ছুটে যান তাকে শেষ বিদায় জানাতে। এই মানবসেবীর প্রয়াণে বরিশালে সর্বস্তরে কা’ন্নার রোল।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme