সুরমা নদীতে ধ’রা পড়’লো সোয়া ২ কেজি ওজনের রুপালী ইলিশ!

সুরমা নদীতে ধ’রা পড়’লো সোয়া ২ কেজি ওজনের রুপালী ইলিশ!

সিলেট জেলার সুরমা নদীতে এক জেলের জালে সোয়া দুই কেজি ওজনের একটিসহ ৫-৬টি রুপালী ইলিশ ধ’রা পড়েছে। খবর ইউএনবি’র। রবিবার বিকালে নদীর লামাকাজীতে জেলে হামিদ উদ্দিনের জালে ইলিশগুলো উঠে আসে।

‘আমরা দিনে অন্তত দুই-তিনবার সুরমার বুকে জাল ফেলি। কখনও এত বড় ইলিশের দেখা মেলেনি, বলছিলেন জেলে হামিদ। সিলেট সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দ্বিজরাজ বর্মণ বলেন, ‘সিলেটে যে ইলিশ মিলছে, ওটা সাগরের নয়, লোকাল (স্থানীয়) প্রজাতির।’

এর আগে, সিলেটের চেঙ্গেরখাল নদে এবং গত বর্ষা মৌসুমে হাকালুকি হাওরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধ’রা পড়েছিল। এছাড়া, সুরমা নদীতেও মাঝে মধ্যে ইলিশ জালে উঠে।

আরো পড়ুন… মৎস্য ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা নদীতে মা ইলিশ র’ক্ষায় অভিযান পরিচালনা করছিলেন। এ সময় নদীতে একটি ট্রলারে ৭-৮জন লোক দেখে চ্যালেঞ্জ করা হয়। পরে কাছে গিয়ে অভি’যান পরিচালনাকারীরা দেখেন ট্রলারে লুঙ্গি গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় রয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।সে ট্রলারে রয়েছে ইলিশসহ কারেন্ট জাল। ঘটনাটি পিরোজেপুরের কাউখালী উপজেলার।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে কাউখালি উপজেলার কালিগঙ্গা নদীতে জালসহ ট্রলারে থাকা ব্যক্তি হলেন কাউখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মনু মিয়া। জানা যায়, রাত প্রায় ২ টার দিকে অভিযানে থাকা পিরোজপুর জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অন্যান্যরা কাউখালী উপজেলার কালিগঙ্গা নদীতে যায়।

এসময় তাদের সাথে ছিল বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা। এ সময় নদীতে থাকা একটি ট্রলার দেখে চ্যালেঞ্জ করা হয়। ট্রলারের কাছে গিয়ে দেখা যায় ট্রলারে লুঙ্গি, গেঞ্জি ও গামছা পরিহিত অবস্থায় রয়েছে কাউখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মনু মিয়া। তার সাথে আরও ৭-৮ জন লোক ট্রলারে।

এছাড়া ট্রলারে দেখা যায় অবৈধ কারেন্ট জাল ও কয়েকটি ইলিশ। জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এ অবস্থায় দেখা হওয়ায় অনেকটাই ভড়কে যান উপজেলা চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি অভিযান পরিচালনাকারীদের বলেন, তিনিও লোকজন নিয়ে অভিযানে নেমেছেন। ট্রলারে থাকা জাল ও মাছ তিনি নদী থেকে উদ্ধার করেছেন।

প্রশাসনের লোক ছাড়া এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা যায় কিনা জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, তিনি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে ফোন দিয়েছিলেন কিন্তু মৎস্য কর্মকর্তা ফোন রিসিভ করেননি। তবে পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন জানান, মৎস্য বিভাগের কাউকে চেয়ারম্যানের ফোন দেবার বিষয়টি সঠিক নয়। ফোন চেক করেও দেখা হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, প্রশাসনের লোক ছাড়া নদীতে উপজেলা চেয়ারম্যানের অভিযান পরিচালনা করার যে বিষয়টি তিনি বলছেন তা দৃষ্টিকটু। চেয়ারম্যানের ট্রলারে থাকা জাল ও তাদের অভিযানে উদ্ধার হওয়া জাল একসাথে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। মাছ একত্র করে এতিমখানায় দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]