স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বে’রিয়ে যা বললেন আ’স’ম আব্দুর রব

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বে’রিয়ে যা বললেন আ’স’ম আব্দুর রব

কারারুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স’ঙ্গে দেখা করতে কারও বাধা নেই বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের বলেছেন। আমরা ড. কামালসহ দেখা করতে চাইলে আইজি প্রিজনকে বলে দেবেন বলেও মন্ত্রী বলেছেন। সোমবার (২১ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের স’ঙ্গে দেখা করে বে’রিয়ে যাওয়ার সময় ঐক্যফ্রন্ট নেতা আ’স’ম আব্দুর রব সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন বেগম খালেদা জিয়ার স’ঙ্গে দেখা করতে চান। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স’ঙ্গে সে বিষয়ে আলোচনা করার জন্য এখানে এসেছিলাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের কথা শুনেছেন এবং বলেছেন যে কেউ খালেদা জিয়ার স’ঙ্গে দেখা করতে পারে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ঐক্যফ্রন্টের এই নে’তা বলেন, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হ’ত্যাকা’ণ্ডের বি’চারের দা’বিতে আগামীকালের রাজধানীর সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করার কথা ছিল। কিন্তু এ সমাবেশের অ’নুমতি সরকার আমাদেরকে এখনও দেয়নি। এর প্র’তিবাদে আমরা আলোচনা করে ক’র্মসূ’চি দেব।

এর আগে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স’ঙ্গে দেখা করতে সচিবালয়ে আসেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। আ’স’ম আব্দুর রব ছাড়াও প্রতিনিধি দলে ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিকল্পধারার আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নুরুল আলম ব্যাপারী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, জেএসডির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা জাহাঙ্গী’র আলম মিন্টু।

আরো পড়ুন… গত সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেননের পর এবার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াও দুর্নীতির আওতামুক্ত নয়। আগারগাঁওস্থ ইটিআই ভবনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম যুগোপযোগীকরণ এবং ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত ফরমসমূহ পুনর্বিন্যাসকরণ শীর্ষক কর্মশালায় রোববার (২০ অক্টোবর) এমন মন্তব্য করেন তিনি।

মাহবুব তালুকদার বলেন, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ দুঃখজনক। একটি দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন সর্বদাই জাতির প্রত্যাশা। দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াও দুর্নীতির আওতামুক্ত নয়। যে সকল জনপ্রতিনিধি অবৈধ উপায়ে বা দুর্নীতির মাধ্যমে নির্বাচনে জয়যুক্ত হন, তাদের নির্বাচনের কোনো বৈধতা থাকে না। জনগণের প্রতি অবৈধ জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন ওঠে না।

এতে গণতন্ত্র সুসংহত ও যথাযথভাবে সংরক্ষিত হতে পারে না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই জাতির অভীষ্ট। গণতন্ত্রবিহীন জাতি আত্মমর্যাদাহীন। আমরা বিশ্বসভায় মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আত্মপরিচয় সমুন্নত রাখতে চাই। প্রসঙ্গত, দেশব্যাপী যখন ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদার হয়েছে তখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দুর্নীতি নিয়ে মন্তব্য করলেন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির এ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, কোনো সুষ্ঠু-সুন্দর আইনানুগ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্ব শর্তই হল- সুষ্ঠু, সত্য ও বিশ্বস্ত ভোটার তালিকা। সত্য ও বিশ্বস্ত শব্দ দুটি এখানে বিশেষভাবে প্রযোজ্য। এর কারণ হচ্ছে- এক সময় ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক অস্তিত্বহীন বা দ্বৈত ভোটার চিহ্নিত হয়। বিভিন্ন জরিপ প্রতিবেদনে তার সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়। তৎকালীন ভোটার তালিকাটি ছিল অকার্যকর।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটে ছবিসহ নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নে। ছবিসহ বায়োমেট্রিক ডাটাবেজ তৈরি দেশের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এখন পর্যন্ত সেই ডাটাবেজ ধরেই আমরা ভোটার তালিকা হালনাগাদ করছি। তিনি আরো বলেন, এ কথা অনস্বীকার্য যে অস্তিত্বহীন বা ভুয়া ভোটার তালিকা নির্বাচনের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সেই অবস্থা থেকে আমরা পরিত্রাণ পেয়েছি।

প্রসঙ্গত, মনে রাখা প্রয়োজন যে, নির্বাচন কমিশন যদি সরকার বা রাজনৈতিক দলের অঙ্গুলিহেলনে আন্দোলিত হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন সত্তার বিকাশ ও প্রকাশ সম্ভব নয়। ভোটার তালিকা তৈরির সূচনা থেকে ভোটের ফল প্রকাশ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন না থাকলে সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য স্বাভাবিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না।

এবারের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম যুগোপযোগীকরণের পর সামনে একটি বড় চ্যালেজ্ঞ রয়েছে উল্লেখ করে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে ছলে, বলে বা কৌশলে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের ভোটার করার বিষয়ে যদি কোনো নির্বাচন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

একই সঙ্গে মৃত ব্যক্তিদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে সর্বদা সচেষ্ট থাকা দরকার। নবাগতদের ভোটার তালিকায় যুক্ত করার জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ জনবল গড়ে তোলার পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। তিনি আরো বলেন, ভোটার তালিকার বর্তমান ব্যবস্থায় তথ্য সংগ্রহ ও বায়োমেট্রিক গ্রহণ কার্যক্রম এবং ভোটার তালিকা আইন ২০০৯ ও ভোটার তালিকা বিধিমালা ২০১২-এর অসঙ্গতি দূরীকরণ একসঙ্গে সম্পন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে।

এ জন্য নানাবিধ সংশোধন, সংযোজন ও পরিবর্তন অপরিহার্য। তাছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদের পদ্ধতি যুগোপযোগী করার জন্য বিদ্যমান ফরমগুলো সহজতর করা আবশ্যক। দুই দিনব্যাপী কর্মশালার মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি উন্নতর কর্মপদ্ধতি নিরূপণ করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]