একস’ময়কা’র ‘দো’র্দণ্ড প্র’তাপশালী’ যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে ব’হিষ্কার ।

একস’ময়কা’র ‘দো’র্দণ্ড প্র’তাপশালী’ যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে ব’হিষ্কার ।

সি’নোকাণ্ডে একস’ময়কা’র ‘দোর্দ’ণ্ড প্র’তাপশালী’ যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে ব’হিষ্কার ক’রা হ’য়েছে। রোববার গ’ণভ’বনে প্রধানমন্ত্রীর স’ঙ্গে যুবলীগ নেতাদের বৈঠকে এ সি’দ্ধান্ত হয়। বৈঠক সূত্রে এ ত’থ্য জানা গেছে।

এর আগে বিকালে সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স’ঙ্গে বৈঠকে বসেন যুবলীগ নে’তারা। তবে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না ওমর ফারুক চৌধুরী। এছাড়া সংগঠনটির প্র’ভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরন্নবী চৌধুরী শাওনকেও বৈঠকে দেখা যায়নি।

যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদের নে’তৃত্বে যুবলীগের জ্যেষ্ঠ নে’তারা গ’ণভ’বনে যান। প্র’সঙ্গত সম্প্রতি যুবলীগের বিভিন্ন নে’তার বি’রুদ্ধে দু’র্নীতি, অ’বৈধ ক্যা’সিনো ব্য’বসা ও টেন্ডারবাজির অ’ভিযোগে আ’ইনশৃ’ঙ্খলা বা’হিনীর অ’ভিযানের পর থেকে ওমর ফারুক চৌধুরীর নামও উঠে আসে।

আ’ইনশৃ’ঙ্খলা বা’হিনীর ক্যা’সিনোবি’রোধী অ’ভিযানে গ্রে’ফতার করা হয় যুবলীগের ঢাকা মহানগর দ’ক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী স’ম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া, যুবলীগ নে’তা জি কে শা’মীমসহ অনেকেই। যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর স’ম্পৃক্ত’তাও বেরিয়ে আসে।

তার আলোকে ইতিমধ্যেই ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব তলব করা ছাড়াও তার বিদেশে যাত্রার ওপর নি’ষেধাজ্ঞা জা’রি ক’রা হ’য়েছে। এর পর থেকেই আড়ালে চলে যান ওমর ফারুক। উদ্ভূত প’রিস্থিতিতে তাকে ছাড়াই সম্মেলনের প্র’স্তুতি নিতে শুরু করেছেন সংগঠনটি। তাকে ছাড়াই হয়েছে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সভা। ক্যা’সিনোকাণ্ডে সু’বিধাভোগী হিসেবে নাম আসায় ওমর ফারুককে গ’ণভ’বনে প্রবেশেও নি’ষেধাজ্ঞা আ’রোপ করা হয়। নতুনসময়/আইকে

আরো পড়ুন… পাঁচ দিন ধরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকা’ণ্ড নিষি’দ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আবরার ফাহাদ হ’ত্যা মা’মলার এজাহারভুক্ত ১৯ শিক্ষার্থীকে বুয়েট থেকে সাময়িক ব’হিষ্কার করা হয়েছে বলে উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন। শুক্রবার বিকালে বুয়েট অডিটোরিয়ামে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক বৈঠকের শুরুতেই উপাচার্য তাদের এ দুটি দাবি পূরণের কথা জানান।

বিস্তারিত আসছে… আরো পড়ুন… আবরার হ’ত্যার চারদিন আজ। বুয়েট ক্যাম্পাসে আজকেও চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। নৃ’শংসভাবে আবরার হ’ত্যার অন্যতম ইস্যু হলো র‍্যাগিং। বুয়েটের একটি ফেসবুক পেইজে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা জানান নিজেদের সাথে ঘটে যাওয়া র‍্যা’গিং এর ভ’য়াবহ সব গল্প। সেই গল্পগুলো তুলে ধরা হলো: সিভিল’১৮ ব্যাচের অর্ণবের ভ’য়ানক অভিজ্ঞতা:

এক বুধবার রাতে আমাকেসহ মোট পাচঁজনকে ‘আউলা’র ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অপরাধ ছিল ভাইরা আমাদের গণরুম থেকে র‍্যান্ডমলি দুই/তিনজনকে পাঠায় দিতে বলছিল। ভ’য়ে কেউ প্রথমে যাইনি। তিনজন ভাই এসে র‍্যান্ডমলি আমাদের পাঁচজনকে ধরে নিয়ে যায়।ছাদে আমাদের পাঁচজনকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ম্যানার, বুয়েট পলিটিক্স কেন সবার থেকে আলাদা সেটা শেখায়।

আমাকে একজন ভাই টিশার্ট ধরে ধা’ক্কাধা’ক্কি করে গালে পাঁচটা (আস্তে, বাট চড় তো চড়ই) চড় মে’রেছিলো। আর প্রায় ঘণ্টার মতো একপায়ে দাঁড় করে রেখেছিলো। সেখানে আরেক ভাই বলেছিলো, একটু পর পর পা চেঞ্জ করতে পারিস। বাকিদেরকে অনেক হেনস্থা করা হয়। যাই হোক, এই দেড়ঘণ্টা পর পুরো NTS (আউলার একটা গণরুম) কে ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়।

তারপর সেখানে কী হয় আশা করি বাকি যারা ছিল বলবে।হলের প্রথমদিকে হলের পপুলার দুই ভাই পালা করে করে রুমে নিয়ে গিয়ে র‍্যাগ দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে আমাকে আর অরুপকে (CSE) রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমাকে দিয়ে অরুপকে এবং অরুপকে দিয়ে আমাকে মা’রা হয়। আমাদের ভাইদের সাথে জোর করে প’র্নো দেখানো হয় এবং আইটেম সংয়ের সাথে আমাদের নাচানো হয়। আমি ভাইদের মে’ন্টাল ট’র্চারগুলো নিতে পারি নি। এ রকম অনেক ঘটনা সবার সাথে প্রায় ঘটতো। ১৮ ব্যাচের সবার সাথেই এরকম কম-বেশি হয়েছে।

তারা হয়তো মজা করে করেছে, বাট তাদের মজাগুলো সবাই নিতে পারেনি। অনেক রাতে বাথরুমে কান্নাকাটি করেছি। প্রথমে আমি অনেক পড়ালেখা করলেও এই ভাইদের জন্য পড়ালেখা প্রায় ছেড়ে দিয়েছি। আমি প্রথম দিকে অনেক একটিভ, হাসিখুশি ছিলাম; বুয়েটে কয়েকদিন থাকার পরের অবস্থা ব্যাচমেটকে/ক্লোজ ভাইদের জিজ্ঞাসা করলেই জানতে পারা যাবে। বুয়েটকে বাইরে দেখে অনেক ভালো লাগত, ভিতরে এতো খারাপ অবস্থা ভর্তি পরীক্ষায় আর দুইটা অঙ্ক ভুল করলে কোনোদিন জানতাম না।

সালাম না দেয়ায় স্টাম্প দিয়ে পি’টানো হয় আমরা রশিদ হল ১৭ সবে মাত্র এক-দুইতে উঠেছি। বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার (এক্সাক্টলি মনে নাই) রাতে কমন রুমে ডাকা হলো। এর আগে সাধারণত বুধবার রাতে ডেকে র‍্যাগের নামে ধমক, ব্যাচমেটকে দিয়ে থাপ্পর এবং মজা নেওয়া হত। কিন্তু ওইদিন রাত্রে আমাদের একজন ব্যাচমেটকে দিয়েই স্টাম্প আনানো হল। তারপর একে একে স্টাম্প দিয়ে পিটানো শুরু করল। প্রথমে একজনকে জিজ্ঞেস করলো সালাম দেয়নি কেন? সালাম না দেয়ার কারণে তাকে ১৬ ব্যাচের রামকৃষ্ণ তন্ময় তাকে ৫ মিনিট পিটায়।

তারপর একজন কেন অ্যাডমিশন রিলেটেড পেইজে মোটিভেশনাল পোস্ট দেয় সেজন্য তাকেও পেটা’নো হল। তারপর কয়েকজনকে এভাবে পি’টানোর পরে রামকৃষ্ণ তন্ময় ক্লান্ত হয়ে পরে, পে’টানোর দায়িত্ব নেয় ১৬ ব্যাচের মোহাইমিনুল সৌরভ। তারপর ৫/৬ জন করে এককাতারে দাঁড় করিয়ে পে’টায়। একজন কেন মেয়ে ক্লাসমেট নিয়ে ঘুরলো সেই জন্যও তাকে মা’রা হল। তারপর আরেকজন কেন ভাই এর সিলেক্ট করা রুমে ওঠে নাই, সেজন্যও তাকে মা’রা হয়। তাকে পায়ে ও পাছায় অন্তত ৪০টি আ’ঘাত করা হয়।

এভাবে প্রায় ২০/২৫ জনকে দুইজন মিলে মা’রে। এর মধ্যে কয়েকজনকে কোনো কারণ ছাড়া মা’রা হয়। তারপর এভাবে ৩/৪ ঘণ্টার অমানবিক নি’র্যা’তন শেষে আমাদের ছাড়া হয়। এই নি’র্যা’তনের পরে অনেকেই হাটতে পারছিলো না। অ’ত্যাচারে বুয়েট ছাড়তে চেয়েছিলেন একজন ১৫ ব্যাচের আমার একজন প্রিয় বড় ভাই আছেন। আমাকে যখন আউলার এক্সটেনশনে র‍্যাগ দেয়, তখন ইনি কিছুই করেন নাই তেমন।

বরং র‍্যাগ শেষে ভাই নিজেও অনেক দু:খ করেছিলেন। সেই ভাই অনুতপ্ত। কিন্তু যে তিনজন আমাকে ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত আরো দশ/বারোজন দিলে র‍্যাগ দিছে, পুরো ফার্স্ট ইয়ার আমার লাইফ হেল করে ফেলেছিলো। তারা এখন সাধু সেজে বেড়াচ্ছে। এতোই মানসিক প্রেশারে ছিলাম যে, সবসময় ভয় হতো এই বুঝি আবার আমার দোষ ধরে। আবার না র‍্যাগ খাই। এমন অবস্থা হয়েছিলো যে, কাঁদতে কাঁদতে এদেরকে বলেছিলাম, ‘বুয়েটেই আর থাকবো না’।

‘আউলা ১৬’ এর প্রত্যেকের ক্ষেত্রে এই ব্যক্তি ছিলো কমন। এ আমাকে ফার্স্ট ইয়ারে অসহায় বানিয়েছিলো। আমি হল পর্যন্ত ছাড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু ঢাকায় থাকার মতো কোনো জায়গা বা আত্মীয় নেই। আবার মেসে থাকবো, সেই টাকা কোথায় আমার। আমি গ্রামের ছেলে অনেক কষ্ট, স্ট্রাগল করে এই বুয়েটে এসেছিলাম। আর এসে এসব হারামিদের হাতে পড়েছিলাম। সে সময়ের মানসিক ট’র্চার আমি সারাজীবনেও ভুলতে পারবো না। কতটা অসহায় বানিয়েছিলো এই আমাকে। আমাকে যখনই দেখতো, তখনই কোনো না কোনো দোষ ধরে যে র‍্যাগ দিতো। সারাজীবনেও এই হারামিকে ভুলতে পারবো না।

র‍্যাগের নামে হ’স্তমৈ’থুনের অভিনয় করানো হতো ‘আমাদের হলে শুরু থেকে প্রতিটি বুধবার রাত থেকেই আমাদের মধ্যে আত’ঙ্ক ছিলো। কারণ এইদিন আসলেই আমাদের ডাক পড়তো র‍্যাগ খাবার জন্য। বিশ্বাস করেন, আমাদের র‍্যাগ মোটেই কোনো সুন্দর কিছু ছিল না। আমাদের শুরু থেকেই হাওয়াই চেয়ার বানানো হতো, অসংখ্যবার কান ধরে উঠবস করানো হতো, বুকডন দেওয়ানো হতো। এগুলো তাও আমরা মেনে নিতাম।

আমাদের প’র্নো দেখানো হতো জো’র করে এবং বলা হতো আরেক ক্লাসমেটকে এভাবে করে দেখাতে। প’র্নোতে যে রকম শব্দ হয় ঠিক সে রকম করতে বলা হতো আমাদের। আমাদের প’র্নো দেখায় হ’স্ত মৈ’থুনের অভিনয় করানো হতো। চুপচাপ করলেও হতো না, আমাদের ফিলিংস এনে শব্দ করতে বলা হতো। এ রকম না করলে আরো হু’মকি করা হতো। ভাইরা মাঝে মাঝে বলতো কারো খারাপ লাগে কি না? খারাপ লাগে যদি বলতো কেউ তাকে আরো এ’ক্সট্রিম আচরণ করা হতো।

আগস্ট মাসের শেষ দিকে একবার আমাদের সবাইকে ডাকা হয় এবং আমাদের কয়েকজনকে রেখে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপর আমাদের ছাদে তোলা হয়। ছাদে ৭ জন ভাই ছিল ১৭ ব্যাচের। তারা আমাদের সবাইকে অনেক অনেক লেম রিজন দেখিয়ে মা’রতেই থাকে।একজনকে মা’রে এই কারণে যে, সে ভাইদের না বলে হলের বাইরে কি করতে গিয়েছিল?

সে যখন বলে মা-বাবা এসেছিল তখনও তাকে মা’রতেই থাকে স্ট্যাম্প দিয়ে। সবাই ঘুরে ফিরে মারে তাকে। আরেকজন ভাইদের না বলে টিউশনিতে যাওয়ায় তাকে মা’রতে থাকে অমা’নবিকভাবে। একজন তার গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরতে যাওয়ায় মা’র খায়। আর ভাইকে দেখার পরও সালাম দেয় নাই কেন এজন্য আরো মা’র খায়। পাশাপাশি এটার জন্যও মা’র খায় কারণ তার হাঁটার স্টাইল ভাইদের পছন্দ নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]