“পুলিশের খামখেয়ালিতে বিনা দোষে ১৮বছর জেলে”

“পুলিশের খামখেয়ালিতে বিনা দোষে ১৮বছর জেলে”

অপরাধ না করেও দীর্ঘ আঠারো বছর মামলা মাথায় নিয়ে আদালত পাড়ায় বসে থাকতে হয়েছে দিনমজুর বাবুল শেখকে। কেউ তাকে সাহায্য করেনি, কেউ শুনেনি নিরপরাধ বাবলু শেখের কান্না। শুধুমাত্র তদন্তকারী পুলিশ এবং আইনজীবীর খামখেয়ালীর কারণে বাবুল শেখের জীবন থেকে ঝড়ে গেছে আঠারোটি বছর।

২০০১ সালের ১৫ এপ্রিল নাটোরে গাঙ্গইল জমি সংক্রান্ত একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাদী হয়ে মালেক ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় ৩ নম্বর আসামির নাম ছিল শ্রী বাবু। গেস ওয়াট, এরপর কি?

তৎকালীন সদর থানার উপ-পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম এবং হেলেনা পারভীন শ্রী বাবুর পরিবর্তে গ্রেফতার করে দিনমজুর বাবলু শেখকে যার সাথে ঐ মারামারির কোন লেনাদেনাই ছিল না। দুজনের নাম ‘বা’ দিয়ে শুরু তাই, শ্রী বাবুকে বাঁচিয়ে গ্রেফতার করা হয় বাবলু শেখকে।

এমনকি মারাত্মক এ ভুলের বিষয়টি আদালতকে না জানিয়েই বাবলু শেখকে গ্রেফতারের ছয় দিন পর আসামির আইনজীবী শ্রী বাবু পরিচয়ে বাবলু শেখের জামিন করান। এভাবেই বছরের পর বছর একজন সম্পুর্ন নিরপরাধ ছাপোষা মানুষকে অপরাধী বানিয়ে আদালতে চক্কর কাটানো হয়। বাবলু শেখকে কয়েক মাস জেলও খাটানো হয় ।

গরীব বাবলু শেখ দিন আনে দিন খায়, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তিটিকে মিথ্যা মামলায় জামিনের টাকা জোগাড় করতে হয়েছে, উকিলের টাকার যোগান দিতে হয়েছে, আদালতে বসে থাকতে হয়েছে দীর্ঘ আঠারোটা বছর।

পুলিশ এবং আইনজীবীর নিছক খামখেয়ালীর কারনে একজন নিরীহ অসহায় বাবলু শেখ ও তার পরিবার আঠারো বছর যে দুর্বিষহ যন্ত্রনা ভোগ করল তার উত্তর কি কেউ দিতে পারবে?

অন্যরা যা পড়ছে… যশোরে কখনো সাংবাদিক, আবার কখনো পুলিশ পরিচয়ে প্র’তারণা ও মা’দক বিক্রির অ’ভিযোগে চার সহযোগীসহ রেহেনা ওরফে লিপি (২৫) নামে এক নারীকে গ্রে’ফতার করেছে পুলিশ।এ সময় পুলিশের পোশাক, হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি রেহেনার কিছু ছবি জ’ব্দ করা হয়েছে। বুধবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে যশোর জিলা স্কুলের সামনে থেকে তাদের গ্রে’ফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

গ্রে’ফতার রেহেনা চৌগাছা উপজেলার মাশিলা নারায়ণপুর গ্রামের মিঠুর স্ত্রী। তিনি নিজেকে সাপ্তাহিক স্মৃতি পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে দাবি করেন।গ্রে’ফতার অপর চারজন হলেন, যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া বিল্লা মসজিদ রোডের পিয়া (২০), শংকরপুর সরকারি মুরগির খামার এলাকার সোহেল (১৯), রেলরোডের রেলবাজার এলাকার বিসমিল্লাহ সেলুনের পেছনের বাসিন্দা বাবু ও আশ্রম রোডের সাহেব বাবুর বাড়ির সামনের বাসিন্দা তুহিন।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সমীর কুমার সরকার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, মোটরসাইকেলের সামনে ‘প্রেস’ লিখে শহরময় ঘুরে বেড়ান এক নারী।সাংবাদিক পরিচয়ে তিনি শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করে আসছিলেন। তাকে গ্রে’ফতার করার জন্য কয়েকদিন ধরেই নজরে রাখা হয়েছিল।পরে বুধবার বিকেলে যশোর জিলা স্কুলের সামনে ওই নারীর সঙ্গীরা অবস্থান করছে জানতে পেরে তার চার সহযোগীকে গ্রে’ফতার করে পুলিশ।

এ সময় সোহেলের কাছে একটি ওয়াকিটকি পাওয়া যায়। ওয়াকিটকিটি সে ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ধারী রেহেনা ওরফে লিপির কাছ থেকে পেয়েছে বলে পুলিশকে জানায়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রেহেনাকে গ্রে’ফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রেহেনা জানান, তিনি একটি অনলাইন শপ থেকে ওয়াকিটকি সেটটি কিনেছেন। ওয়াকিটকি দেখিয়ে পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্র’তারণা করে আসছিলেন তিনি স্বীকার করেছেন। তাদের বি’রুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]