সর্বশেষ আপডেট
মেডিকেলে চান্স পেলো রাজমিস্ত্রির মেয়ে জাকিয়া সুলতানা কলেজে না গিয়েও এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় নেহা । বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশংসা করে যা বললেন মালয়েশিয়ার পুলিশপ্রধান । বাড়ির নিচতলায় গাড়ী চালকদের জন্য থাকা ও নামাজের ব্যবস্থা করতে হবেঃ প্রধানমন্ত্রী । প্রেমের টানে বাংলাদেশে ভারতীয় গৃহবধূ, সীমান্তে উত্তে’জনা । গোয়ালঘরে শিকলে বাঁধা বৃদ্ধা মা বললেন, মোর পোলারা ভালো । সাড়ে ৮ লাখ টাকা দিয়েও চাকরি হয়নি, কাঁদলেন প্রার্থী । গরু ছেড়ে নারীদের প্রতি বেশি যত্নবান হোনঃ মোদিকে এক নারী । যে কারণে তুহিনকে নি’র্মমভাবে হ’ত্যা করলেন বাবা । পিয়ন থেকে যেভাবে ১২০০ কোটি টাকার মালিক যুবলীগের আনিস ।
বুয়েটের প্রতিবাদী তরুণী ।

বুয়েটের প্রতিবাদী তরুণী ।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হ’ত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। বিশেষ করে বুয়েটে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। আবরার হ’ত্যার বিচার চেয়ে রাস্তায় নেমেছে সেখানকার শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার রুয়েটের উপাচার্যকে একপর্যায়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা।ওই সময় একজন নারী শিক্ষার্থীর কণ্ঠ বারবার শোনা গেছে। তিনি একের পর এক বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করে গেছেন ভিসিকে।

তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন রশিদ খান নামের এক ব্যক্তি। সেই স্ট্যাটাসটি এখানে তুলে ধরা হলো, ‘বুয়েটের আবরার ইস্যুতে গতকাল থেকে যতগুলো রিপোর্ট দেখেছি, সেখানে উচ্চস্বরে কেবল একজন বুয়েট ছাত্রীর শব্দ শুনি।

গতকাল পুলিশের চোখে চোখ রেখে বলতেছে, -আঙ্গুল তুলে কেন কথা বলতেছেন আমাদের সাথে? বুয়েটের শেরে বাংলা হলে পুলিশ প্রবেশের পর সকল ছাত্র-ছাত্রী সম্মিলিতভাবে পুলিশকে হল থেকে বের করে দেয়। সেখানে এই মেয়ের সাহসী উচ্চারণ -কার অনুমতি নিয়ে আপনারা আমাদের হলে প্রবেশ করেছেন?

আজকে ভিসিকে বলতেছে, -আপনার ছাত্রকে মে’রে ফেললো আপনি ঘরে বসে আছেন। আপনি কেমন ভিসি ক্যাম্পাসে আপনার ছাত্রের জানাজা হচ্ছে। কিন্তু আপনি উপস্থিত থাকেন না? আজকে বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালককে প্রশ্ন করতেছে -স্যার, আপনার ছাত্রদেরকে ধরে এনে পি’টিয়ে মে’রে ফেলা হচ্ছে, আপনি কিসের ছাত্র কল্যাণ দেখেন?

কী অদ্ভুদ একটা শক্তি এই মেয়েটার কণ্ঠে। সে ভু’য়া উচ্চারণ শুরু করে, বুয়েটের সমগ্র ক্যাম্পাস ভু’য়া ধ্বনিতে প্রকম্পিত হতে থাকে। মেয়েটার নাম জানি না। এসব অদম্য সাহসী মানুষের নাম জানারও দরকার হয় না। কিছু মানুষের “ভোকাল” তার নতুন পরিচয় হয়ে ওঠে। সময় এসব আড়ালে থাকা চেহারাকে নিজের প্রয়োজনে সামনে নিয়ে আসে। স্পার্ক রূপে, জ্ব’লন্ত আ’গ্নেয়গিরি রূপে অথবা হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা রূপে।’

সন্তান হারানোর শোকে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বির মা রোকেয়া খাতুন। আহাজারি করতে করতে ছেলে হারানো এই মা বলে চলেছেন, আমার ছেলে কী আপরাধ করেছিলো? কিসের জন্য তারা আমার ছেলেকে এভাবে হ’ত্যা করলো? আমার ছেলে অনেক মেধাবী।সে কারও সঙ্গে উচ্চস্বরে কথাও বলেনি। আর আমার ছেলেকে আজ হ’ত্যা করা হলো। আমি এর বিচার চাই। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।

আমার ছেলে কী অন্যায় করেছিলো যে তাকে প্রাণ দিতে হলো? আমার ছেলের মতো লাখে একটাও হয় না। সবার ঘরে বেটা থাকতে পারে, আমার ব্যাটার মতো বেটা ছিলো না। আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, এটা পরিকল্পিত হ’ত্যাকাণ্ড। যে ছেলেটা বিকাল ৫টায় ঢাকায় পৌঁছালো, তাকে ৮টার দিকে নি’র্যাতন করার জন্য ডেকে নিয়ে গেল। ছয় ঘণ্টা ধরে নি’র্যাতন চালালো। এটা অবশ্যই পরিকল্পিত।

আপনাদের কাছে আমি এর বিচার চাই।প্রসঙ্গত, রবিবার রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় ফাহাদকে উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃ’ত’ ঘোষণা করেন।ওই রাতে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন পিটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার ম’রদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। এ ঘটনায় বুয়েটের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে আবরার হ’ত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হ’ত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্।

শুধু সরকার প্রধান হিসেবে নয়, একজন মা হিসেবেও বুয়েট ছাত্র আবরার হ’ত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।মঙ্গলবার রাতে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সাক্ষাৎ করতে গেলে এ কথা বলেন তিনি।আবরার হ’ত্যাকা’ণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিভাবক হিসাবে উপাচার্যের স্পটে আরও আগেই যাওয়ার দরকার ছিল।

এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু দুষ্টু রাজনীতিক আবরার হ’ত্যাকা’ণ্ডকে পুঁজি করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করবে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা এ বিষয়ে কঠোর। মামলা হয়েছে, অনেককে ধরা হয়েছে, ধরা শুরু করেছি যখন সবই ধরব।আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্যকে বুয়েটে চলমান আন্দোলন নিয়ে ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন, বুয়েটে চলমান যিনি আন্দোলন নিয়ে ছাত্রলীগকে নীরব থাকতে হবে। আমরা এ ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করছি না। ছাত্রলীগ বা সরকার অপরাধীদের পক্ষ নেয়নি। তাই ছাত্রলীগকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে কেউ আন্দোলনটিকে রাজনৈতিক রং দিতে না পারে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অস্রের ঝনঝনানি ছিল। আমরা এসে সেগুলো বন্ধ করেছি। ক্যাম্পাস শান্ত আছে। ৭৫ পরবর্তী কোনো সরকার এরকম ব্যবস্থা নিতে পারিনি।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মো. আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এই তথ্য জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদ হ’ত্যার পর আবার ছাত্রলীগে শুদ্ধি অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন যে, আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। যারা এরকম ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে তাঁদেরকে চিহ্নিত করতে হবে এবং এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এই সমস্ত আবর্জনা দলে থাকার দরকার নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে এ ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, আমার ছাত্রলীগে যে সমস্ত অনুপ্রবেশকারী রয়েছে, অন্যদল থেকে যারা ছাত্রলীগে প্রবেশ করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, শোভন-রাব্বানির কমিটি হওয়ার আগেই ছাত্রলীগে অনেক জামাত-শিবির এবং ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশকারী ঢোকার তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়েছিল

গোয়েন্দা সংস্থা। প্রায় দুই হাজারের বেশি অনুপ্রবেশকারী ছাত্রলীগে প্রবেশ করেছিল এবং গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী এসমস্ত অনুপ্রবেশকারীরা ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছিল।

একারণেই আওয়ামী সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী নিজ হতে ছাত্রলীগের কমিটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। দীর্ঘ পরিক্ষা নীরিক্ষার পর তিনি শোভন-রাব্বানীর নেতৃত্বে কমিটি গঠন করেছিলেন।

কিন্তু আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন যে, ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশকারীদের বিস্তৃতি এত তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পরেছে এবং অনুপ্রবেশকারিদের অবস্থান এত দৃঢ় যে চটজলদি করে উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে অনুপ্রবেশকারিদের প্ররোচণায় শোভন-রাব্বানী বিপদে পরেছে বলে অনেক আওয়ামী লীগ নেতা মনে করেন। আর এই প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ শক্ত হাতে ছাত্রলীগে যারা অনুপ্রবেশকারী আছে তাদের বের করার উদ্যোগ নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, আওয়ামী লীগ তিনমাসের একটা ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করবে এবং এই তিনমাসের মধ্যে যারাই ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারি এবং যাদের বিরুদ্ধে ন্যুনতম অভিযোগ আছে তাদেরকে ছাত্রলীগ থেকে বের করে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে যারা বদনাম করবে তাদেরকে ছাত্রলীগের দরকার নাই। তিনি বরং মেধাবী এবং প্রকৃত শিক্ষার্থী তাদেরকে ছাত্রলীগে নিয়ে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন।

আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলছেন, ছাত্রলীগে এরকম অনুপ্রবেশকারী এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সংখ্যা বেশি হয়ে যাওয়ার কারণে এখন মেধাবী ছেলেমেয়েরাও ছাত্রলীগে আসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খুব শীঘ্রই ছাত্রলীগকে নির্দেশনা দিবো। কোন হল দখল করা যাবে না, মাস্তানি করা যাবে না, কোন ব্যবসায়ীক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা যাবে না সহ বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে আমরা একটি কঠোর বার্তা ছাত্রলীগে দিবো। যে এধরণের অপকর্মের দায়ভার ছাত্রলীগকে না নিতে হয়।-বাংলা ইনসাইডার।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]