সর্বশেষ আপডেট
মেডিকেলে চান্স পেলো রাজমিস্ত্রির মেয়ে জাকিয়া সুলতানা কলেজে না গিয়েও এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় নেহা । বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশংসা করে যা বললেন মালয়েশিয়ার পুলিশপ্রধান । বাড়ির নিচতলায় গাড়ী চালকদের জন্য থাকা ও নামাজের ব্যবস্থা করতে হবেঃ প্রধানমন্ত্রী । প্রেমের টানে বাংলাদেশে ভারতীয় গৃহবধূ, সীমান্তে উত্তে’জনা । গোয়ালঘরে শিকলে বাঁধা বৃদ্ধা মা বললেন, মোর পোলারা ভালো । সাড়ে ৮ লাখ টাকা দিয়েও চাকরি হয়নি, কাঁদলেন প্রার্থী । গরু ছেড়ে নারীদের প্রতি বেশি যত্নবান হোনঃ মোদিকে এক নারী । যে কারণে তুহিনকে নি’র্মমভাবে হ’ত্যা করলেন বাবা । পিয়ন থেকে যেভাবে ১২০০ কোটি টাকার মালিক যুবলীগের আনিস ।
শামীমের শয্যা ও বাণিজ্যের নায়িকা-মডেলরা যা বলছে ।

শামীমের শয্যা ও বাণিজ্যের নায়িকা-মডেলরা যা বলছে ।

টেন্ডার মাফিয়া জি কে শামীম কাজ বাগাতে নগদ অর্থ উৎকোচ দেওয়ার পাশাপাশি প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবানদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থাও করতেন। বহুগামী শামীম ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন শোবিজে সুপরিচিত মডেল-অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্রের উঠতি নায়িকাদের সঙ্গে।টাকার বিনিময়ে তাদের নিজ শয্যাসঙ্গিনী করার পাশাপাশি বড় বড় টেন্ডার বাগিয়ে আনতে তাদের কাজে লাগাতেন। যুবলীগ নেতা শামীমের নিকেতন অফিসে প্রতিদিনই সুন্দরী মডেল ও নায়িকাদের আনাগোনা লেগেই থাকত।

এদের মধ্যে উঠে আসেছে বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী রত্না, এ প্রজন্মের নায়িকা মিষ্টি জান্নাত, রাহা তানহা খান ও শিরিন শীলার নাম। বুধবার এ প্রসঙ্গে তারা মুখ খুলেছেন। এ সংবাদের শেষ অংশে টেন্ডার মাফিয়া জি কে শামীমের সাথে তাদের কাজ ও পরিচয়ের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের অনেকেই মোটা অংকের টাকা পাওয়ার পরও দাবি করতেন সুন্দরী ললনার সঙ্গ।

চলচ্চিত্রের কমবয়সী নতুন নায়িকা ও সুন্দরী মডেলদের তারা শয্যায় পেতে চাইতেন।ধুরন্ধর শামীম কৌশলে দামি গিফটের বিনিময়ে শোবিজ-সুন্দরীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে তাদেরই টেন্ডার বাগানোর অ্যাসাইনমেন্টে পাঠাতেন। অর্ধশতাধিক সুন্দরী শামীমের এন্টারটেইন মিশনে নিয়মিত অংশ নিতেন।এ তালিকায় পাওয়া গেছে সুন্দরী প্রতিযোগিতার খেতাব বিজয়ী মডেলসহ দু’একটি সিনেমায় অভিনয় করে ঢাকাই চলচ্চিত্রে আলোচনায় উঠে আসতে না পারা চার নায়িকা, ছোটপর্দার তারকা অভিনেত্রী, সেলিব্রিটি র‌্যাম্প মডেল ও এয়ার হোস্টেসের নাম।

টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে জিকে শামীম টাকার বিনিময়ে তাদের ব্যবহার করতেন। টেন্ডার মাফিয়া শামীম কাজ পেতে ক্ষমতাবান কর্মকর্তাদের কাছে ছবিসহ সুন্দরীদের ‘সিক্রেট’ তালিকা পাঠিয়ে দিতেন।ওই তালিকা দেখে শয্যাসঙ্গিনী পছন্দ করতেন প্রভাবশালীরা। নিজের হাতের মুঠোয় থাকা সুন্দরীদের পাঠিয়ে দিতেন তারকা হোটেল কিংবা ফ্ল্যাটবাড়িতে গড়ে তোলা মধুকুঞ্জে।রূপসী মডেল-নায়িকা বগলদাবা করে কেউ কেউ বেরিয়ে পড়তেন কক্সবাজার ও সিলেটের প্লেজার ট্রিপে কিংবা ঢাকার আশেপাশের কোনো রিসোর্টে। এমনকি দেশের বাইরেও নিয়ে যাওয়া হতো তাদের।কেবল সরকারী কর্মকর্তারাই নয়, প্রভাবশালী নেতারা শামীমের কাছ থেকে শয্যাসঙ্গিনী গিফট পেয়েছেন। জি কে শামীমের এন্টারটেইন মিশনে যাওয়ার আগেই সুন্দরীদের কাছে পৌছে যেত মোটা খামে পিন-আপ করা ‘সম্মানী’।

মোটা অংকের টাকা কামাবার লোভে মডেল-অভিনেত্রী মুখিয়ে থাকতো তার ডাক পাওয়ার আশায়। অনেকেই আবার নির্মাতা-পরিচালকের পূর্বনির্ধারিত শিডিউল ফাঁসিয়ে দিয়ে সাড়া দিতো টেন্ডার-সম্রাটের ডাকে।শামীমের সুদৃষ্টি পড়ায় অল্পদিনেই ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাট বা দামি গাড়ির মালিক হয়েছেন একাধিক আলোচিত মডেল ও অভিনেত্রী। মফস্বল থেকে উঠে আসা ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক নায়িকা পর পর তিনটি ছবিতে ফ্লপ করে এখন প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।আরেক ব্যর্থনায়িকা এখন গুলশানে একটি ফ্যাশন হাউজ ও ধানমন্ডিতে একটি রেস্টুরেন্টের মালিক হয়েছেন। চলচ্চিত্রে শাবানার বিকল্প হিসেবে নিজেকে জাহির করা নিজ নামে নির্মিত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পরে চুপসে যাওয়া একনায়িকা জিকে শামীমের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ট বান্ধবী।

এই প্রমোদবাহিনীর আরেক সুন্দরী টিভিতে অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে পা রাখেন। পরে তাকে মডেলিংয়ে দেখা যায়। হালে চলচ্চিত্র নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।কলকাতায় নির্মিত যৌথ প্রযোজনার ছবিতেও অভিনয় করছেন। কলকাতাতেই শামীমের পাঠানো অতিথিদের তিনি সঙ্গ দিয়েছেন। নামকরা একটি ব্র্যান্ডের ম্যাংগো জুসের বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে পরিচিতি পাওয়া এক মডেল জি কে শামীমকে শয্যায় সঙ্গ দেওয়ার পাশাপাশি তার হয়ে প্রায়ই নানা জায়গায় গেছেন।সেলিব্রিটি এক ডিজেগার্লকেও বিভিন্ন পার্টিতে তার বাহুসংলগ্ন হয়ে থাকতে দেখা গেছে। লাক্সসুন্দরী হিসেবে খেতাব বিজয়ী একজন মডেল-অভিনেত্রীকে তিনি বড় কাজের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।

বিমানের দুজন আর রিজেন্ট এয়ারওয়েজের একজন কেবিন ক্রু শামীমের হয়ে সঙ্গ দেন প্রভাবশালীদের। রি’মান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ডিবির তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে যুবলীগ নেতা জি কে শামীম।গোয়েন্দা পুলিশকে তিনি জানান, চিত্তবিনোদনের জন্য গুলশান ও বনানীর একটি তারকা হোটেল ও কাকরাইলের একটি হোটেল ব্যবহার করা হতো। গাজীপুরের একাধিক রিসোর্টেও টেন্ডার পাওয়ার পার্টি দেয়া হতো।এসব পার্টিতে নিজ দলের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও সহযোগীরা উপস্থিত থাকতেন। পার্টিতে পশ্চিমা পোশাকে হাজির হতেন সুন্দরীরা। মাদকে বুঁদ হয়ে সুন্দরীদের মধ্য থেকে যাকে খুশি কাছে টেনে নিতেন।বেশ কয়েক পার্টি হয়েছে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায়। দেশ-্ বিদেশের এইসব সেলিব্রেশন পার্টিতে কখনও কখনও অতিথি হতেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক শীর্ষনেতা, ঢাকা মহানগর যুবলীগের প্রভাবশালী একজন নেতা ও একজন সংসদ সদস্য।

তবে নায়িকা মিষ্টি জান্নাত অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। সংবাদের প্রতিবেদনের বিষয়টি অসত্য দাবি করে তিনি বলেন, এরকম ভুয়া ও বানোয়াট প্রতিবেদন তৈরি করে আমাদের ক্ষতি করাটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত।আমাকে প্রুভ দেখাতে না পারলে আমি আইসিটি আইনে প্রতিবেদকের নামে মামলা করব। লিগ্যাল হলে তো অবশ্যই আমি সাধুবাদ জানাবো। কিন্তু ওই প্রতিবেদক আমাকে বলেছেন যে ভিডিও আছে, কিন্তু সে সেই ভিডিও দেখাতে না পারলে আমি লিগ্যাল অ্যাকশন নিয়ে নেব।আমি আজ ‘মানবজবিন’ পত্রিকার সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলব। আমি অভিযোগকারীদের বলব, আপনারা যদি ভালো মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে দয়া করে ভিডিওসহ প্রমাণ দিন। আর যদি না দিতে পারেন তাহলে আমি তখন অ্যাকশন নেবো।’মডেল ও অভিনেত্রী রাহা তানহা খানের মতে, ‘আসলে সাংবাদিকদের এভাবে এই সংবাদ কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া প্রকাশ করার নিয়ম নেই। যে লোকটিকে আমি চিনতাম না সেই লোকটি আমার নাম বললো আর আমার নামে সংবাদ ক্লু দিয়ে প্রকাশ করলেন তা কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। দয়া করে অযথা এই ধরণের বিভ্রান্তমূলক সংবাদ প্রকাশ করবেন না।

রাহা এই প্রতিবেদককে বারবার ‘ভাই’ সম্মোধন করে সংবাদ প্রকাশে করতে নিষেধ করেন। তবে আটক ক্যাসিনো মালিক ও টেন্ডারবাজ জি কে শামীমকে চেনেন না বলে তিনি জানিয়েছেন।রত্না বলেন, ‘প্রতিবেদনে আমার নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে তাদের বর্ণনা আমার সঙ্গে মিলে যায়। তাই আপনিসহ অনেকে মনে করছেন আমি সেই নায়িকা। তবে এসব বিষয়ে আমি কখনই জড়িত ছিলাম না। আর এমন কোনও বিষয়ে আমি জানিও না। আমি জি কে শামীম নামে কাউকে চিনি না।রত্না আরও বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে যাদের নাম ইঙ্গিত করা হয়েছে তাদেরও উচিত এটা নিয়ে স্টেটমেন্ট দেওয়া, যদি তারা সৎ থাকেন। তাতে করে তদন্তে সত্যটা বেরিয়ে আসবে।

অন্যদিকে শিরিন শিলার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। জানাগেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সদ্য বিদায়ী প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে একচ্ছত্র ঠিকাদার বাণিজ্য দখলে রাখতে মাফিয়া ডন জি কে শামিম ১ হাজার ১ শ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন।বিদায়ী উপ প্রধান প্রকৌশলীসহ ২০ কর্মকর্তাকে দিয়েছেন ৪ শ কোটি টাকা। র‌্যাবের অভিযানে আটক জি কে শামিম চলতেন সাত জন গা’নম্যান, ২০টি আধুনিক মোটরসাইকেল বহরে সাইরেন বাজিয়ে। স্বঘোষিত মাফিয়া মুঘল যিনি যুবদল থেকে যুবলীগে এসে টাকা ও ক্ষমতার খনি পেয়েছিলেন।

কোথায় কোথায় কত টাকা দিয়েছেন, কোথায় কোন কোন নায়িকা মডেল যৌ’ন বাণিজ্যের সে’ক্সগার্লদের পাঠাতেন সব রি’মান্ডে বলছেন। বলছেন নিজের অঢেল সম্পদ গড়ার কাহিনী।পুলিশ তদন্তের স্বার্থে সব জানাতে চাইছে না। সামনে তার সূত্রে আরো অপরাধী যাচাই বাছাই করে পাকড়াও করা হবে। এমনটাই নিশ্চিত করেছেন দায়িত্বশীলরা। অভিযানে যে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও মদ পাওয়া গেছে জিজ্ঞাসাবাদে তার চেয়ে ভয়ংকর সব কাহিনী ও অর্থ সম্পদের তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]