সর্বশেষ আপডেট
লাইভ শোতে ২ সৌদি সমকামি তরুণীর ভালোবাসা প্রকাশ! হঠাৎ মোটা হওয়ার কারণ জানালেন বুবলী ঝুড়িতে পাওয়া গেল কন্যা শি’শু, নাম দেওয়া হল ‘একুশে’ জরুরী আবহাওয়া বিজ্ঞপ্তিঃ সোমবার থেকে বৃষ্টি, চলবে তিনদিন! সুন্দরীর বিয়ের ফাঁদ, অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, এরপর বেরিয়ে আসল চাঞ্চল্যকর তথ্য… বাসে বাবার বয়সী ব্যক্তির যৌ’ন হয়’রানি, কেঁদে বিচার চাইলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী আরব আমিরাতে করোনাভাইরাসে বাংলাদেশি প্রবাসী আ’ক্রা’ন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কোরআন ছুঁয়ে শপথ নিলেন পুলিশ কর্মকর্তা গর্ভবতী হওয়া নিয়ে এবার মুখ খুললেন নায়িকা বুবলী, জেনে নিন নায়িকার স্বীকারুক্তি… কুমিল্লায় কয়েক হাজার কোটি টাকা নিয়ে শতাধিক কোম্পানি উধাও
১০ বছরে নিজের জন্য কাপড় কেনা হয়নি এই পুলিশ সদস্যের-

১০ বছরে নিজের জন্য কাপড় কেনা হয়নি এই পুলিশ সদস্যের-

মুহাম্মদ শওকত হোসেন পুলিশের ক’নস্টেবল হিসেবে ২৪তম ব্যাচে যোগ দেন ২০০৫ সালে। তখন তার মূল বেতন ছিলো ২ হাজার ৮৫০ টাকা। সবকিছু মিলিয়ে বেতন পেতেন ৫ হাজার টাকা। ওইসময় আর্থিক অনটনে দিন অতিবাহিত করতেন। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে তার মুক্তিযোদ্ধা বাবা ধৈর্য রাখতে বলতেন। বাবার অভয়ে তার পুলিশে প’থচলা শুরু। ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।

এরপর বদলি হয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে আসেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষার অধীনে মেডিক্যালের ওপর তিন বছরের ডিপ্লোমা ও দুই বছরের প্যারা মেডিক্যালের বিষয়ে লেখাপড়া করেন। অসহায় রোগীর পাশে সুপারহিউম্যান খ্যাত মানবিক পুলিশ সদস্য মুহাম্মদ শ’ওকত হোসেন ২০০৯ সালে কিছুদিন রাঙা’মাটিতে কর্মরত থাকার পর শওকত হোসেনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে বদলি হন।

দায়িত্ব ছিল রাঙামাটি থেকে আসা আহত পুলিশ সদস্যের সেবা দেওয়া। একসময় তাকে ওটির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন থেকে তার রোগীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে রাস্তার ধারে পড়ে থাকা ভারসাম্যহীন অ’সুস্থ রোগী’কে হাসপাতালে এনে সুস্থ করে তুলতেন তিনি। প্রথম দিকে নিজেই একা কাজ করলেও এখন তার সহযোগী আছেন ১০ জন। প্রতিদিনই কোনো না কোনো রোগীকে হাসপাতালে এনে সুস্থ করে তুলছেন শওকত হোসেন।

এসব রোগীকে দেখভাল করতে গিয়ে গত ১০ বছর ধরে নিজের জন্য একটি পোশাকও কিনতে পারেননি তিনি। বিভিন্ন পারিবারিক ও অফিসের অনুষ্ঠানে যেতেন সহকর্মীর পোশাক পড়ে। তার বেতনের অর্ধেকের বেশি টাকা ব্যয় হচ্ছে অসহায় এসব রোগীর পেছনে। শওকত বলেন, ‘রাস্তার পাশে পড়ে থাকা রোগী, যাদের শরী’র থেকে ছড়াতো উৎকট গ’ন্ধ, এমন মানুষের পাশে কেউ যেতেন না। আমি মনে করতাম, এই মানুষটি-তো আমিও হতে পারতাম বা আমার ভাইও হতে পারতো।

এইভেবে নিজে উদ্যোগী হয়ে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে এনে সুস্থ করে তুলতাম। তিনি বলেন, ‘প্রায় সময় এমন রোগী পেতাম কারও হাত, কারও পা ও কারও মুখ পচে গেছে। এসব রোগীর শরীর থেকে পোকাও বের হচ্ছে। এমন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতাম। নিজের টাকায় কয়েক সেট কাপড় কিনে তাদের পড়াতাম। সেই কাপড়ে প্রস্রাব, পায়খানা করলে কাপড়টি বদলিয়ে নতুন কাপড় পরা’তাম নিজ হাতে।

এভাবে সুস্থ করে তুলতাম।’ গত ১০ বছরে নিজের জন্য একটিও নতুন কাপড় কেনেননি উল্লেখ করে শওকত বলেন, ‘শত শত রোগীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। তবে অনেকে এগিয়ে এলেও টাকার পরিমাণ অপ্রতুল। নিজেরে বেশিরভাগ টাকা এসব রোগীর পেছনে চলে যাওয়ায় ১০ বছরে নতুন কোনো পোশাকও কিনি নি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতাম সহকর্মীর পোশাক পরে।

পরিচিতজনকে বলতাম, আমার কিছু গরীব মানুষের জন্য কাপড়-চোপড় দরকার। তখন তারা যে কাপড়গুলো দিতো, তা থেকে অসুস্থ রোগীকে দিতাম, নিজেও পরতাম। নিজে’র স্ত্রীকে নিয়েও দূরে কোথাও ঘুরতে যেতে পারিনি। আমার স্ত্রী’ও বিষয়টি বুঝেন, তিনি বরং আমাকে এ কাজে সাহায্য করেন। আমার আশা, দেশের মানুষ এসব রোগীর জন্য এগিয়ে আসবেন। সবাই এগিয়ে এলে তখনই আমার পরিশ্রম সা’র্থক হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme