সর্বশেষ আপডেট
লাইভ শোতে ২ সৌদি সমকামি তরুণীর ভালোবাসা প্রকাশ! হঠাৎ মোটা হওয়ার কারণ জানালেন বুবলী ঝুড়িতে পাওয়া গেল কন্যা শি’শু, নাম দেওয়া হল ‘একুশে’ জরুরী আবহাওয়া বিজ্ঞপ্তিঃ সোমবার থেকে বৃষ্টি, চলবে তিনদিন! সুন্দরীর বিয়ের ফাঁদ, অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, এরপর বেরিয়ে আসল চাঞ্চল্যকর তথ্য… বাসে বাবার বয়সী ব্যক্তির যৌ’ন হয়’রানি, কেঁদে বিচার চাইলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী আরব আমিরাতে করোনাভাইরাসে বাংলাদেশি প্রবাসী আ’ক্রা’ন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কোরআন ছুঁয়ে শপথ নিলেন পুলিশ কর্মকর্তা গর্ভবতী হওয়া নিয়ে এবার মুখ খুললেন নায়িকা বুবলী, জেনে নিন নায়িকার স্বীকারুক্তি… কুমিল্লায় কয়েক হাজার কোটি টাকা নিয়ে শতাধিক কোম্পানি উধাও
প্রথা ভেঙে যৌনকর্মীর জা’নাজা পড়লেন শত শত মানুষ !!

প্রথা ভেঙে যৌনকর্মীর জা’নাজা পড়লেন শত শত মানুষ !!

দেশের বৃহত্তর যৌনপল্লী অবস্থিত রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌল’তদিয়ায়। এই যৌনপল্লীতে কয়েক হাজার যৌন’কর্মী রয়েছে। দৌলতদিয়ার এই যৌন’পল্লীতে এতো দিন কোন যৌনকর্মীর মৃ’ত্যু হলে পদ্মা নদীতে লা’শ ডুবিয়ে দেওয়া হতো বলে। পরে পল্লীর পাশে একটি গোরস্থান হলেও সেখানে জানাযার নামাজ ও কাফনের কাপড় ছাড়াই যৌন’কর্মীর মৃ’তদেহ মাটি চাপা দেওয়া হতো।

গত ২ ফেব্রুয়ারি রোববার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর একজন ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা প্রাক্তন যৌনকর্মী হামিদা বেগমের মৃ’ত্যু হয়। প্রথা ভেঙে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আশিকুর রহমান, পিপিএম (সেবা) মৃ’তের জানাজার নামাজ ও দাফন কাফনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ঐ দিন রাত ৯টায় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে ওসি ছাড়াও দৌ’লতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল,

ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল সহ স্থানীয়রা অংশ নেন। হামিদা বেগমের জানাজা পড়াতে ইমামকে রাজী করাতে ভূমিকা রেখেছিলেন স্থানীয় পুলিশ প্রধান আশিকুর রহমান। তাকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ‘ইমাম প্রথমে জা’নাজা পড়াতে রাজী হচ্ছিলেন না। আমি তাকে বললাম, ইসলামে কি কোথাও নির্দেশ আছে যে যৌন’কর্মীর জানাজা পড়ানো নিষেধ। আমার এই প্রশ্নের কোনো উত্তর ইমাম সাহেবের ছিলনা।’

পরে ঐ ইমাম জানাজা পড়াতে রাজী হন। আশিকুর রহমান বলেন, ‘অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল সেদিন। জানাজায় অংশ দিতে অনেক মানুষ অনেক রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন। যৌন’কর্মীদের চোখে পানি টলটল করছিল।’ ঝুমুর বেগম নামে স্থানীয় যৌনকর্মী’দের একজন নেত্রী হামিদা বেগমের জানাজা পড়া’নোর দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। মৃ’ত্যুর পর যৌনকর্মীদের করুণ পরিণতি সম্পর্কে তিনি বলেন,

‘আমরা যদি কাউকে দা’ফন করতে যেতাম, গ্রামবাসীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের তাড়া করতো।’ প্রয়াত হামিদা বেগমের মেয়ে লক্ষ্মী, যিনি নিজেও একজন যৌ’নকর্মী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমি স্বপ্নেও ভাবিনি যে এত সম্মানের সাথে আমার মায়ের শেষ বিদায় হবে। আমাকে মাকে মানুষ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে’ বলেন তিনি। দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল বলেন,দৌলতদিয়া যৌ’নপল্লীতে যারা রয়েছে তারা তো আমাদের দেশেরই মানুষ। তারা যে কাজটা করছে সেটা তাদের পেশা। তারাও আমাদের মত অধিকার রাখে বেঁচে থাকার। মা’রা গেলে এখন ধর্মীয়ভাবে জানাজার নামাজ ও দা’ফন হচ্ছে এটা অনেক ভালো উদ্যোগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme