আদালতে অ’ঝোরে কাঁদলেন রিফাতের মা

আদালতে অ’ঝোরে কাঁদলেন রিফাতের মা

বরগুনার রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলার সাক্ষ্যগ্রহণের দ্বিতীয় দিন আ’দালতে সাক্ষ্য দেন রিফাতের মা ডেইজি বেগম। একই দিন এ মা’মলায় সাক্ষ্য দেন রিফাতের বোন ইসরাত জাহান মৌ ও চাচাতো বোন নুসরাত জাহান অনন্যা।বরগুনার জে’লা ও দায়রা জজ আ’দালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তিন সাক্ষীকেই জেরা করেন আ’সামিপক্ষের সাত আইনজীবী।

আ’দালত সূত্র জানায়, জে’লা ও দায়রা জজ আ’দালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামানের আ’দালতে রিফাত হ’ত্যা মা’মলার সাক্ষ্য দেয়ার সময় অঝোরে কেঁদেছেন নি’হত রিফাতের মা ডেইজি বেগম। এ সময় তাকে শান্ত থাকতে বলেন বিচারক, সেই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণ থামিয়ে তাকে শান্ত হওয়ার সময় দেয়া হয়।কিছুটা শান্ত হওয়ার পর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এবারও ছেলে হা’রানোর বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে আ’দালতে মূর্ছা যান রিফাতের মা ডেইজি বেগম।

এর আগে বুধবার (০৮ জানুয়ারি) রিফাত হ’ত্যা মা’মলার প্রথম সাক্ষ্যের দিন প্রথমে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আ’দালতে অঝোরে কাঁদেন রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ। ওই দিন মূর্ছা যান তিনিও। তাকে শান্ত থাকতে বলার পাশাপাশি সাক্ষ্যগ্রহণ থামিয়ে দুবার স্বাভাবিক হওয়ার সময় দেন আ’দালত। বৃহস্পতিবার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আ’দালত প্রাঙ্গণ ত্যাগের সময় সন্তান হা’রানোর শোকে কাতর এবং বিম’র্ষ হয়ে যান রিফাতের মা ডেইজি বেগম। তাকে দুজন স্বজন ধরে গাড়িতে তুলে দেন।

আ’দালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রিফাতের বোন ইসরাত জাহান মৌ বলেন, আমা’র একমাত্র বড় ভাইয়ের হ’ত্যা মা’মলায় আমি আ’দালতে সঠিক সাক্ষ্য দিয়েছি। মিন্নির যে নয়ন ব’ন্ডের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল, এটি আম’রা জানতাম না। আমা’র ভাই মা’রা যাওয়ার পর এ বিয়ের কথা জানতে পেরেছি আম’রা।ইসরাত জাহান মৌ বলেন, মা’রা যাওয়ার চার-পাঁচদিন আগ থেকে মিন্নির সঙ্গে ক*লহ শুরু হয় রিফাতের। মিন্নির অ’বৈধ স’ম্পর্কের জেরে এই ক*লহ শুরু হয়।

আমি ভাইয়ের হ’ত্যাকারীদের বিচার চাই, দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই খু’নিদের। একের পর এক আ’সামির জামিন হওয়ার ক্ষুব্ধ মৌ বলেন, আ’দালতের কাছে আমাদের প্রার্থনা থাকবে যাতে অ’প’রাধীরা আর জামিন না পায়। এভাবে অ’প’রাধীদের জামিন হলে আমাদের হৃদয়ের র’ক্তক্ষরণ আরও বাড়বে। এ বিষয়ে রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মুজিবুল হক কিসলু বলেন,

রিফাত হ’ত্যা মা’মলার সাক্ষ্যগ্রহণের দ্বিতীয় দিনে রিফাতের মা ও একমাত্র বোন এবং চাচাতো বোন আ’দালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আ’সামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বারবার কা’ন্নায় ভেঙে পড়েন রিফাতের মা ডেইজি বেগম। তাকে বারবার শান্ত হওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক থাকার জন্য সময় দেন আ’দালত। তিনি বলেন, এরপরও আ’দালতে রিফাত হ’ত্যার বর্ণনা সঠিকভাবে দিতে পেরেছেন ডেইজি বেগম।

হ’ত্যার সঠিক বর্ণনা দিয়েছেন রিফাতের দুই বোনও। আগামী ১৪ জানুয়ারি এ মা’মলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আ’দালত। গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ড সংগঠিত হয়। এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ২৪ জনকে অ’ভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক ও অ’প্রাপ্তবয়স্ক; দুই ভাগে বিভক্ত করে আ’দালতে ত’দন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পু’লিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অ’প্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন।

গত ১ জানুয়ারি রিফাত হ’ত্যা মা’মলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আ’সামির বি’রুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার জে’লা ও দায়রা জজ আ’দালত। ৮ জানুয়ারি এ মা’মলার অ’প্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আ’সামির বি’রুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শি’শু আ’দালত।এ মা’মলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আ’সামি মো. মু’সা এখনো পলাতক। এছাড়া নি’হত রিফাতের স্ত্রী’ আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ চারজন আ’সামি জামিনে রয়েছেন। অন্য আ’সামিরা কারাগারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme