পিয়াজ ছাড়া রান্নায় বাজারে এল পিয়াজের পাউডার!

পিয়াজ ছাড়া রান্নায় বাজারে এল পিয়াজের পাউডার!

দেশের বাজারে এখনও কমেনি পিয়াজের দাম। অন্যদিকে প্রতিবেশি দেশ ভারতেও পিয়াজের ঝাজ বেড়েছে। তাই সেখানে পিয়াজ ছাড়া রান্নায় পিয়াজের স্বাদ পেতে পিয়াজের সুগন্ধিযুক্ত পাউডার বের করা হয়েছে। ফলে পিয়াজ ছাড়াই রান্নায় মিলবে পিয়াজের স্বাদ। আদা-রসুন বাটা প্যাকেট করে বহুদিন ধরেই বাজারে বিক্রি হলেও পেঁয়াজ সেভাবে প্যাকেটজাত হতে দেখা যায়নি। এই প্রথম এমনটি দেখা গেল ভারতে। সংস্থাগুলো দাবি করছে, আসল পিয়াজের নির্যাস থেকেই এই পাউডার আর সেন্ট বানানো হচ্ছে।

যদিও তা যাচাই করে দেখা হয়নি। পিয়াজের এই সেন্ট আর পাউডার আদৌ খাওয়ার উপযুক্ত কিনা তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন মানুষ ব্যবসায়ীদের দাবি, পিয়াজের দাম যে জায়গায় পৌঁছেছে তাতে কোনোভাবেই ব্যবহার করা সম্ভব নয়। পিয়াজের এই পাউডার বা সুগন্ধির দাম ধরা হয়েছে ৭০ গ্রাম ৮০ টাকা। তবে বাংলাদেশেও ই-কমার্স সাইটগুলোতেও পাওয়া যাচ্ছে এই পিয়াজ পাওডার।

উল্লেখ্য, বন্যায় ভারতের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হওয়ায় চলতি বছরে মৌসুমি পেঁয়াজ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই এ বছর ভারতের বাজারেও পেঁয়াজের মূল্য বেশ চড়া। তারই পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির সরকার রান্নার জন্য অতি প্রয়োজনীয় এ উপাদানটির রফতানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে,

রোববার ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সরকার বলছে, উৎপাদন ও মজুতের ঘাটতির কারণে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে পেঁয়াজ রফতানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণ বিষয়ক মুখপাত্র সীতাশু কর বলেন, ‘রফতানি নীতির সংশোধন করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে পেঁয়াজ রফতানি নিষিদ্ধ করা হলো।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের পেঁয়াজ রফতানিতে এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।’ ভারত হলো গোটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ রফতানিকারক দেশ। কিন্তু সম্প্রতি ভারতের বেশকিছু শহরে সবজির মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। উৎপাদন কম এবং বছরের শেষে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন। তাই ভোগ্যপণ্য বিষয়ে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানাচ্ছে রয়টার্স।

গত জুনে ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করলে সরকার তখন রফতানি ১০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দেয়। মূলত আগের বছরের মজুত থেকে এ বছরে পেঁয়াজ সরবরাহের পরিমাণ হ্রাস ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বপনে বিলম্ব হওয়ায় এমন পরিস্থিতিতে পড়েছে দেশটি। ভারতের বেশকিছু রাজ্যে চলতি বছরে দ্বিতীয় দফায় টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় অনেক আবাদি জমি প্লাবিত হওয়ায় পেঁয়াজের কাঙি্ক্ষত উৎপাদন হয়নি।

ব্যবসায়ীরা যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। আগামী অক্টোবরের শেষে নতুন ফসল ওঠা পর্যন্ত এ সঙ্কট থাকবে। দেশের বাজারেও পেঁয়াজের দাম এখন চড়া। ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি করে বাংলাদেশ। ভারতের রফতানি বন্ধের ঘোষণায় নতুন উৎসের খোঁজে আমদানিকারকরা। মিয়ানমারের পেঁয়াজ ঢাকার বাজারে আসতে শুরু করেছে। মিসর ও তুরস্ক থেকেও আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme