সর্বশেষ আপডেট
এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অসহায় মায়ের কান্না । সৌদিতে না’রী ক’র্মীর বিষয়টি খুবই জটিলঃ পররা’ষ্ট্র ম’ন্ত্রী । মালয়েশিয়ার আদালতে ৪ বাংলাদেশি না’রীর কা’রাদ’ন্ড।, নেপথ্যে যে কারণ… ইতালিতে ম’সজিদে এ’কযো’গে হা’মলার প’রিক’ল্পনাঃ বিপুল পরিমান অ’স্ত্র উ’দ্ধার । মক্কায় ক্রে’ন দু’র্ঘটনাঃ আ’হত বাংলাদেশিকে যে প’রিমাণ ক্ষ’তিপূ’রণ দেয়া হলো । সৌদিতে গৃ’হক’র্মী নি’র্যা’ত’ন, দ্রু’ত’ই আ’সছে না কোন সু’সংবা’দ । গুলতেকিনের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে যা বললেন বড় ছেলে নুহাশ । সৌদি থেকে ফিরেছে ৫৩ নারীর মরদেহ, যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী । কিশোরগঞ্জে কুমারী মাতার সন্তান প্রসব নিয়ে তোলপাড় । মেয়েরা মিলনের চেয়েও বেশি পছন্দ করে এই বিষয়গুলো ।
সবকিছুকে হার মানিয়ে মায়ের কোলে চড়ে পরীক্ষা দিলো মাদরাসার শিক্ষার্থী হামিদ ।

সবকিছুকে হার মানিয়ে মায়ের কোলে চড়ে পরীক্ষা দিলো মাদরাসার শিক্ষার্থী হামিদ ।

মায়ের কোলে চড়ে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে খাগড়াছড়ির পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার শিক্ষার্থী ১৪ বছরের কিশোর মো. আব্দুল হামিদ। মাদরাসার শিক্ষার্থী আব্দুল হামিদ হাঁটতে না পারলেও অফুরান প্রাণশক্তি তার। শারীরিক প্রতিবন্ধতাকে পেছনে ফেলে এ বছর পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হিসেবে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে সে। গতকাল শনিবার মা হামিদা বেগম ছেলেকে কোলে নিয়ে আসেন পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে।

নির্ধারিত আসনে বসিয়ে বাইরে অপেক্ষা করেন মা। পরীক্ষা শেষে আবারো মায়ের কোলে বাড়ি ফিরলো আব্দুল হামিদ। পানছড়ি উপজেলার কলাবাগান এলাকার মো. আব্দুল আলী (পিঠা মেম্বার) ও হামিদা বেগম দম্পতির সাত ছেলে-মেয়ের মধ্যে ৭ম মো. আব্দুল হামিদ। মায়ের কোলে চড়েই পিএসসি শেষ করে এখন জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে। স্থানীয়রা জানান, পানছড়ি উপজেলার কলাবাগান এলাকার মো. আব্দুল আলী ও হামিদা বেগম দম্পতির সাত সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট হামিদ। শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও শিক্ষায় পিছিয়ে নেই সে।

মায়ের অদম্য চেষ্টায় আজ জেডিসির মঞ্চে হামিদ। তার পিতা আলী মাদ্রাসার সামনে একটি টঙ দোকানে চা বিক্রি করে সংসার চালায়। পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কাশেম বলেন, হামিদের উচ্চতা ৩২ ইঞ্চি। মায়ের কোলে করেই নিয়মিত ক্লাশে আসতো। শারীরিক প্রতিবন্ধী হামিদ নিজের পায়ে ভর করে হাঁটতে না পারায় মায়ের কোলে করেই নিয়মিত ক্লাসে আসতো। প্রতিবন্ধী হওয়ায় আমরাও সবসময় তার প্রতি একটু যত্নশীল ছিলাম। তিনি আরও বলেন, মায়ের এ অসাধারণ ত্যাগ, পরিশ্রম ও ভালোবাসার সঙ্গে কারো ভালোবাসার কখনই তুলনা হয়।

মা শুধুই মা। অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কাশেম তিনি জানান, আব্দুল হামিদসহ তার দুই ছেলে প্রতিবন্ধী এবং দুজনেই শিক্ষা ভাতা পায়। আব্দুল হামিদের বাবা মো. আব্দূল আলী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দু’দুবার বসতবাড়িসহ দোকান আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হওয়া মো. আব্দুল আলী পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার সামনে একটি টঙ দোকানে চা বিক্রি করেন। আর শীতের মৌসুমে ভাপা পিঠা বিক্রি করেন। একটি ছোট্ট চা দোকানই তার ভরসা। পুঁজি সঙ্কটে ব্যবসা ও সংসারের ব্যয়ভার চালাতে হিমসিম খেলেও সন্তানের জন্য সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন তিনি।

পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, হামিদ পরীক্ষা কেন্দ্রের নিয়ম অনুযায়ী সুবিধা পাবে। লেখাপড়ার প্রতি তার আগ্রহ আমাকে মুগ্ধ করেছে। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ কুয়েট, হল ছেড়েছেন শিক্ষার্থীরা… ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দু’টি হলের ছাত্রদের মধ্যে মা’রামা’রির জের ধরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল ও ফজলুল হক হলের ছাত্রদের মধ্যে সং’ঘ’র্ষের পর গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে কুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এদিকে, দুই হলের ছাত্রদের সং’ঘ’র্ষের ঘটনা তদন্তে শনিবার সন্ধ্যায় ভার্সিটির ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. নূরুন্নবী মোল্লাকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে যথা শিগগির তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কুয়েটের রেজিস্ট্রার জি এম শহিদুল আলম জানান, শনিবার বিকেল ৫টার মধ্যে ছাত্রদের ছয়টি এবং আজ রোববার সকাল ১০টার মধ্যে ছাত্রীদের একটি হল খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর শনিবার নির্ধারিত সময় বিকাল ৫টার মধ্যেই ছাত্ররা হল ছেড়ে চলে যায়। উল্লেখ্য, কুয়েটের ২০টি বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। এরমধ্যে একটি ছাত্রী হলসহ ৭টি হলে তিন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করে। কুয়েট সূত্র জানায়, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার রাতে কুয়েটের অমর একুশে হল ও ফজলুল হক হলের ছাত্রদের মধ্যে সং’ঘ’র্ষ ঘটে। এতে উভয় হলের ৫/৬ জন ছাত্র আ’হত হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে হল গুলোতে তীব্র উ’ত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এরপর পরবর্তী অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে কুয়েটের সকল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ সহ কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের ছয়টি ও ছাত্রীদের একটি হল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। শনিবার সকালে কুয়েট ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, সং’ঘ’র্ষের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আ’ত’ঙ্ক কাটেনি। ইটের আ’ঘা’তে ক্যাম্পাসের অমর একুশে হল ও ফজলুল হক হলের জানালার গ্লাস ভে’ঙ্গে গেছে। হলের জানালার কাঁচের টুকরো নিচে পড়ে আছে। শুক্রবার মধ্যরাতে হল ত্যাগের নির্দেশে চরম বিপাকে পড়ে শিক্ষার্থীরা। তবে কুয়েটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র থাকায় যথারীতি সকাল থেকে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

কুয়েটের একটি সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে কুয়েটের এমএ রশীদ হল ও ফজলুল হক হলের মধ্যে আন্তঃহল ফুটবল খেলা চলছিলো। খেলা চলাকালীন বিকাল ৫টার দিকে রেফারির একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দু’টি হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উ’ত্তে’জনা দেখা দেয়। সন্ধ্যা নাগাদ এ উ’ত্তে’জনা এম এ রশীদ হল, অমর একুশে হল ও ফজলুল হক হলে ছড়িয়ে পড়ে। রাতে উ’ত্তে’জনা চরম আকার ধারণ করলে কুয়েট প্রশাসন জরুরি সভা ডেকে শুক্রবার মধ্যরাতেই অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন।

শুক্রবার মধ্যরাতে হল ত্যাগের নির্দেশে বিপাকে পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবকটি হলের শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ করতে শুরু করে। শিক্ষার্থীরা জানান, আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টে অমর একুশে হল এবং ড. রশিদ হলের মধ্যকার ম্যাচে রেফারির দেওয়া একটি সিদ্ধাকে কেন্দ্র করে অমর একুশে হলের সমর্থকদের মধ্যে উ’ত্তে’জনার সৃষ্টি হয়। খেলা গোল শূন্য ড্র হলে অমর একুশে হলের সমর্থকরা রেফারি শাহ আলমের উপর হামলা চালায়। এ সময় তার সহকর্মী আকবার তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ওপরও হামলা চালায় অমর একুশে হলের ছাত্ররা।

ওই সময় ফজলুল হক হলের সমর্থকরা রেফারির ওপর হামলার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করার সময় অমর একুশে হলের সঙ্গে ফজলুল হক হলের ছাত্রদের হা’তাহা’তি হয়। এ খবর হল গুলোতে ছড়িয়ে পড়লে অমর একুশে এবং ফজলুল হক হলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা সং’ঘ’র্ষে রূপ নেয়। রাতে দুই হলের মুখোমুখি অবস্থানের সময় হল প্রভোস্টরা হলে ছিলেন না। পরে তারা ঘটনার খবর শুনে হলে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। রেফারী ও তার সহকারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. নূরুন্নবী মোল্লাকে সভাপতি করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে যথা শিগগির তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ফুটবল মাঠের উত্তেজনা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে এ জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার রাতেই ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]