ফেসবুকে ভিডিও দেখে শিশু সানির চিকিৎসায় লাখ টাকা দিলেন কুমিল্লার এসপি

ফেসবুকে ভিডিও দেখে শিশু সানির চিকিৎসায় লাখ টাকা দিলেন কুমিল্লার এসপি

সড়ক দু’র্ঘটনায় আহ’ত শিশু শিক্ষার্থী সানি আহমেদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম। তিনি ফেসবুকে অসুস্থ ওই শিশুর ভিডিও দেখে তাদের ঠিকানা সংগ্রহ করে কুমিল্লায় এনে চিকিৎসার জন্য বুধবার বিকালে নগদ এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

শিশু সানি ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের সাত রওজা মাজার এলাকার রুবেল আহমেদের ছেলে এবং সে ঢাকার বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র, ক্লাসে তার রোল নম্বর ১। জানা যায়, সানির বাবা রুবেল আহমেদ একজন বংশীবাদক। ঢাকার শাহবাগের চারুকলা আর্ট কলেজ এলাকায় প্রতিদিন ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা বাঁশি বিক্রি করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন।

ওই কলেজের শিক্ষার্থীদের তিনি বিনামূল্যে বাঁশি শেখান। প্রায় ৪ মাস আগে বাসা থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে সড়ক দু’র্ঘটনায় তার শিশু সন্তান সানি আহমেদের ডান পা গুরুতর জখম হয়। গত ৪ মাসে এ শিশুর চিকিৎসায় ব্যয় হয় সাড়ে ৫ লাখ টাকা। সানির মায়ের গহনা বিক্রি করেও তার চিকিৎসায় ব্যয় করা হয়।

তার চিকিৎসার জন্য আরও এক লাখ টাকা প্রয়োজন বলে চিকিৎসক তাদের জানায়। এদিকে আহত শিশু সানি ও তার পরিবারের এমন দুঃষহ অবস্থার ভিডিওচিত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসার পর কুমিল্লা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম ওই পরিবারের খোঁজখবর নেন।

বুধবার দুপুরে ওই শিশু ও তার বাবাকে তাঁর কার্যালয়ে এনে শিশু সানির হাতে নগদ এক লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করেন। শিশু সানি জানায়, ‘দুর্ঘ’টনার পর এভাবে ঘরে বসে থাকতে আমার খুব খারাপ লাগে। আগে স্কুলে যেতাম, লেখাপড়া করতাম, বন্ধুদের সাথে খেলতাম, আনন্দ করতাম।

দুর্ঘ’টনার কারণে আর হয়তো পড়াশোনা হবে না এমন ভেবে কষ্ট পেতাম। এখন আশা করছি আবার আগের মতো স্কুলে যেতে পারব।’ সানির বাবা রুবেল আহমেদ জানান, ‘আমার বাবা লাবু মিয়া সারা জীবন বাঁশি বিক্রি করেছেন এবং অনেককে বাঁশি বাজানো শিখিয়েছেন। আমার ছেলে সানি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তার চিকিৎসা করে আসছি।

কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত কয়েকদিন আগে এক শুভাকাংখী আমার ছেলেকে ভিডিও করে ফেসবুকে দেয়। বিষয়টি দেখে এসপি স্যার আমাদেরকে ডেকে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে আসেন এবং ছেলের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। এতে আমি অনেক খুশি।’

কুমিল্লা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, শিশু সানির অসুস্থতার বিষয়টি ফেসবুকে দেখে আমার খুব মায়া হয়। কিন্তু ফেসবুকের এ ভিডিওতে ওই শিশুর ঠিকানা না থাকায় খুঁজে পেতে কিছুটা বিলম্ব হয়। ঠিকানা সংগ্রহ করে লোক পাঠিয়ে সানি ও তার বাবাকে কুমিল্লায় আনা হয়।

তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে একজন শিশু অর্থাভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে তা মেনে নিতে পারছিলাম না। তাই তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছি এবং আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। মেধাবী শিশু সানি সুস্থ হয়ে স্কুলে যাবে, পড়াশোনা করে আদর্শ মানুষ হবে এবং দেশকে এগিয়ে নেবে- এটাই আশা করছি।’

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]