সর্বশেষ আপডেট
বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রাণ, সাকিব আল হাসান

বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রাণ, সাকিব আল হাসান

বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রাণ, সাকিব আল হাসান।ভুলভাল যাই হয়ে থাক, গোটা বাংলাদেশ সাকিবের পাশে। ক্রিকেট দুনিয়ায় বাংলাদেশকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন সাকিব, তা ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। আইসিসির নিষেধাজ্ঞা মানতেই পারছে না বাংলাদেশ। সামাজিক গণমাধ্যমে তোলপাড় চলছে ভক্তদের লেখায়। শুধু ক্রিকেটভক্তরাই নন, সাধারণ মানুষও মনে করছেন, সাকিবের সঙ্গে চাতুর্যপূ্র্ণ অন্যায় করা হয়েছে।

আইসিসি থেকে ২ বছরের নিষেধাজ্ঞা পাবার পর সাকিবকে নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। ফেইসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নেটিজেনরা। চলছে সাকিবের পক্ষে-বিপক্ষের সমালোচনাও। বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের অনেকেই দুষছেন বিসিবি প্রধানকে, অনেকে ডাক দিচ্ছেন আন্দোলনেরও।

সতীর্থ মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম, ফুটবলার আশরাফুল ইসলাম রানা, বিশ্বনাথ ঘোষ, মামুনুল ইসলামদের পাশাপাশি তার লাখো-কোটি ভক্তরা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন সাকিবের জন্য। সবারই প্রত্যাশা বাজে সময় কাটিয়ে সাকিব ফিরবেন তার স্বমহিমায়। মাশরাফির প্রতিক্রিয়ার কথা কাল রাতেই জেনে গেছেন সবাই।

তিনি লিখেছেন, দীর্ঘ ১৩ বছরের সহযোদ্ধার আজকের ঘটনায় নিশ্চিতভাবেই কিছু বিনিদ্র রাত কাটবে আমার। তবে কিছুদিন পর এটা ভেবেও শান্তিতে ঘুমাতে পারব যে, তার নেতৃত্বেই ২০২৩ সালে আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলব। কারণ নামটি তো সাকিব আল হাসান…!!! জাতীয় দলের ফুটবলার মামুনুল ইসলাম লিখেছেন, We are to blame that we could not ensure the respect you deserve as a world star. As a sportsperson and your senior from BKSP, I am really sorry for that. You are a real hero to the sports crazy people of Bangladesh. Come back soon!

সাংবাদিক মোস্তফা ইমরুল কায়েস মনের ভাব প্রকাশ করেছেন কবিতার মাধ্যমে। তিনি লিখেছেন, ‘পুড়লো কপাল সাকিবের নয় পুড়লো পুরো বাঙালীর, ফিক্সিংয়ের ছিটিয়ে টোপ তারা এখন খাবেন ক্ষীর। এই টোপেতে সফল তারা বাকী আরো খেলোয়ার, ধৈর্য্য ধরুন আস্থা ছাড়ুন নেই তো সময় বেশি আর।

দিন কয়েকে ভারত সফর তার আগে সাকিব ব্যান্ড, ধৈর্য্য ধরুন শুধুই দেখুন খুলবে ওরা সবার প্যান্ট। বলবে যখন তোমরা সেরা অপরাধীকে শাস্তি দাও, বুঝবে তখন বলছি এখন ক্রিকেট থেকে বিদায় নাও।’ বাঙালি বাংলা লিখেছেন, ২০১০ সালে এক বিস্ময়কর প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান।

ইংল্যান্ডে খেলতে গিয়েছিলো বাংলাদেশ দল, সব খেলা শেষে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড সাকিবকে অনেক টাকার বিনিময়ে তাদের হয়ে খেলার প্রস্তাব দিয়েছিলো যেমনটা তারা ইওন মরগানের ক্ষেত্রে করেছিলো। প্রস্তাবের মধ্যে তাকে সব রকম সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথাও বলেছিলো।এতো বড় প্রস্তাব পেয়েও সাকিব তা গ্রহণ করেননি।

তিনি একমাত্র নিজ দেশকে ভালোবাসেন বলেই তিনি এই দেশের হয়ে খেলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলাননি। তবে আজ ইওন মরগান যেখানে বিশ্ব চেম্পিয়ন দলের অধিনায়ক এবং মিলিয়ন মিলিয়ন পাউন্ড কামাচ্ছেন ইসিবি থেকে সেখানে আজ সাকিব আল হাসান বড় একটি নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার দারপ্রান্তে।

এমনও হতে পারতো যে,সাকিবও আজ বিশ্বকাপ জয়ি বা এমনও হতে পারতো যে সাকিব ইয়ন মরগানের জায়গায় নিজেই লিড দিয়ে ইংলেন্ডকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছেন। তবে তা হয়নি, কারণ তিনি এমন একটি দেশের হয়ে খেলে যেতে চেয়েছেন যে দেশ তাকে তার প্রাপ্য
সম্মানটুকুও দিতে বরাবরই ব্যর্থ।

বিশ্বকাপ চলাকালীন এক ধারাভাষ্যকার বলেছিলেন, “ইংল্যান্ডের হয়ে খেললে সাকিব এতদিনে নাইটহুড উপাধি পেয়ে যেতেন।” আশরাফ রহমান লিখেছেন, Don’t forget that Shakib Al Hasan refuse them 3 times! Our National Hero already request to all of us to beside him in this time how we love and support shown to him previously.

জাভেদ লিখেছেন, সাকিব Bangladesh cricket এর নবাব। নবাব যাদের জন্য আন্দোলন করেছে, তারা যদি সাকিবকে ছাড়া ভারত সফরে যায়, তারাই হবে বাংলার প্রকৃত মীরজাফর। সাব্বির মিথুন লিখেছেন, ১ বছর কোন লম্বা সময় না। ধরে নিব কোন ইনজুরিতে পড়েছেন। তবে দেশের ক্রিকেটটাকে যে এরকম অভিভাবকহীন অবস্থায় রেখে গেলেন, সে দায়ভারটা কে নিবে?

অভিজ্ঞ, বুদ্ধিদীপ্ত, লিডার সাকিবের কাছ থেকে এমন ভুল ক্ষমার অযোগ্য। ২৯ অক্টোবর। ৩৬৫ দিন। ভালো থাকুক দেশের ক্রিকেট!
মাহফুজ এইচ হৃদয় লিখেছেন, এই ১ বছর ক্রিকেটই দেখব না। জুয়েল অর নাইম, এই আইডি থেকে লেখা হয়েছে, প্রশ্নঃ সাকিব যে ২ বছর আগে ফিক্সং এর প্রপোজ পেয়েছিল সেটা ২ বছর পরে আইসিসি কি করে জানলো..???

উত্তরঃ ক্রিকেটাতের ধর্মঘট ইস্যুতে পাপন সংবাদ সম্মেলনে বলেছিল খুব শিঘ্রই আপনারা ম্যাচ ফিক্সং এর খবর পাবেন। এতে স্পষ্ট যে পাপনই সব কিছুর মুলে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের সকল ক্রিকেট প্রেমিরা জোড় দাবি জানাচ্ছি পাপন কে বিসিবি সভাপতি থেকে বহিষ্কার করা হউক । যে সভাপতি নিজের দেশের ক্রিকেট কে ধ্বংস করে সে কখনোই দেশের ক্রিকেট বা দেশের কোনো ভালো কাজে আসবে না।

আব্দুল্লাহ আল মামুন লিখেছেন, এতদিন বলতাম ” রাজার ঘরে যে ধন আছে, আমাদের ঘরেও সে ধন আছে” কিন্তু একটু ভুলের জন্য এক বছর মিস করবো আমাদের রাজার ধনকে। পাশে আছে বাংলাদেশ!!!!

মাহমুদুর রহমান জিন্নাহ লিখেছেন, আজকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে কষ্টের দিন। গত কয়েক দিন যাবত বাংলাদেশের ক্রিকেটে যা ঘটছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত ও কষ্টদায়ক। কারণ বাংলাদেশে ক্রিকেট একটা আবেগের জায়গা। তার মধ্যে সাকিবের বিরুদ্ধে আইসিসির এই সিদ্ধান্ত কষ্টকে বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।মিস ইউ সাকিব।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]