সর্বশেষ আপডেট
সাকিবের শাস্তি কমাতে আইসিসিকে রাহুল দ্রাবিড়ের আহ্বান

সাকিবের শাস্তি কমাতে আইসিসিকে রাহুল দ্রাবিড়ের আহ্বান

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়ে তা না জানানোয় বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি। ব্যাপারটা লঘু পাপে গুরু দণ্ড ঠেকছে ভারতের সাবেক অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়ের কাছে। সাকিবের শাস্তি কমাতে আইসিসি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়ে তা গোপন করায় বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিবকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ দিয়েছে আইসিসি, যার মধ্যে এক বছরের শাস্তি দোষ স্বীকার করায় স্থগিত থাকবে। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাকিবের এই শাস্তির ঘোষণা দেয় আইসিসি। অপরাধ ও শাস্তি দুটোই মেনে নেয়ায় শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকছে না সাকিবের।

ফলে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্রিকেটে মাঠে নামতে পারবেন না বাংলাদেশের তারকা এই ক্রিকেটার। এই অপরাধে সাকিবের শাস্তি কিছুটা ‘কঠোর’ হয়ে গেছে বলে মনে করেন দ্রাবিড়। এ ব্যাপারে টুইটে তিনি লিখেছেন- “অবিশ্বাস্য! সাকিবের শাস্তিটা কি কঠিন হয়ে গেল না? সে কি ফিক্সিংয়ে জড়িত ছিল? আমি মনে করি, তার একটাই ভুল সে আইসিসি ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাবটি জানায়নি। এ জন্য দুই বছরের শাস্তি অনেকটা কঠোর। আমি আশা করি, আইসিসি এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।”

নন্দিত অলরাউন্ডারে সাকিব আল হাসান নিষিদ্ধ হতে পারেন এমন গুঞ্জনে টালমাটাল গোটা দেশ। পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের অনেকেই দুষছেন বিসিবি প্রধানকে, অনেকে ডাক দিচ্ছেন আন্দোলনেরও। ক’দিন ধরে দেশের ক্রিকেটে কালবৈশাখীর থাবা। ঝড় তুলেছিলেন সাকিব, সেই ঝড়ের সবশেষ নামটাও হতে যাচ্ছে সাকিব আল হাসান।

কদিন আগে যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন সেখানে বলেছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফিক্সিং বন্ধ করতে হবে। ফিক্সিং সংক্রান্ত বিষয়েই এবার জড়ালো নন্দিত অলরাউন্ডারের নাম। আন্দোলন নিয়ে এমনিতেই টালমাটাল গোটা ক্রিকেট অঙ্গন। দোষটা চাপাতে চায় বিসিবির কাঁধে। আইসিসির নিষেধাজ্ঞা পেতে যাচ্ছেন সাকিব-এমন খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উত্তাল।

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের পক্ষ নিচ্ছেন সবাই। অনেকেই দুষছেন বিসিবি সভাপতিকে। চাইছেন তার পদত্যাগ। কেউ কেউ ডাক দিচ্ছেন আন্দোলনেরও। এতদিন পর কেন এ খবর ছড়ালো সে প্রশ্ন করছেন অনেক সমর্থক। ভারত সফরের আগেই এমন খবর বের হওয়ায় আইসিসিকেও দুষছেন অনেকে। তথ্য প্রযুক্তিবিদ সালাউদ্দিন সেলিম তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নাজমুল হাসান পাপন কতটা শুদ্ধ আমরা তা দেখতে চাই। এসব আবর্জনা মার্কা মানুষ দিয়ে ভিলেজ পলিটিকস চলে কিন্তু আন্তজার্তিক অঙ্গনে টেকা যায় না।’

একজন সাকিবকে যেখানে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয় না সেখানে পাপনের মতো আবর্জনাকে বিসিবিতে কী দরকার বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সাকিবের সব ঘটনা সত্য হলেও নিজের ঘরের ফোন রেকর্ড কীভাবে আইসিসির হাতে যায়? এ সামান্য ব্যাপার যদি পাপন ওভারকাম করতে না পারেন তাহলে এমন অযোগ্য মূর্খ লোক বিসিবিতে থাকার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়াও সাংবাদিক যায়েদ খোকন লেখেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা চলছে। সাকিব ইস্যুই যার বড় প্রমাণ!’ ক্রিকেট সমর্থকদের মধ্যে নানা মত, পক্ষ-বিপক্ষ থাকবেই। তবে যে ঝড় বইছে, শক্ত হাতে সেটি না সামলাতে বড় ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে দেশের ক্রিকেটই।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]