সর্বশেষ আপডেট
বাবরি মসজিদ ও মুসলমানদের পক্ষে লিখলেন ভারতীয় হিন্দু লেখিকা । যুক্তরাজ্যে নিজ ঘরের পাশ থেকে এক বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার । আবিষ্কৃত হলো ‘কৃত্রিম পাতা’ তৈরি করতে পারে ১০ শতাংশ বেশি জ্বালানি । আরো এক রেমিটেন্স যোদ্ধা কুয়েত প্রবাসী ভাই যেভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন পরপারে । লেবাননের গণআন্দোলনে অবৈধ প্রবাসীদের দেশে ফেরার কর্মসূচি ব্যাহত । ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে দেশে ফিরছেন গৃহকর্মী সুমি । আজ (১১ নভেম্বর) ঢাকায় আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় মূল্য । চার্জার লাইট থেকে উদ্ধার হলো ৪ কোটি টাকার স্বর্ণবার । আরব আমিরাতের পুরুষ প্রবাসীকর্মীদের জন্য সুখবর, শুরু হল নতুন ওয়ার্ক পারমিট সুবিধা । ৩ বছরে সহজ উপায়ে কানাডা যাবে ১০ লাখ মানুষ ।
মাদরাসার মওলানার কাছ থেকে শুনে শুনেই কোরআন শরীফ মুখস্ত করেছেন দৃষ্টিহীন সাজ্জাতুল ইসলাম ।

মাদরাসার মওলানার কাছ থেকে শুনে শুনেই কোরআন শরীফ মুখস্ত করেছেন দৃষ্টিহীন সাজ্জাতুল ইসলাম ।

আল্লাহ্‌ তাআলা প্রদত্ত নিয়ামত স্বরূপ দুটি চোখ। এই চোখ থাকতেও যেখানে আমরা কোরআন মাজীদ শিখতে আপ্লুত হই না, সেখানে দৃষ্টিহীন সাজ্জাতুল শুনে শুনে কোরআন শরীফ মুখস্ত করেছেন। শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার আলাওয়ালপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মৃত জবেদ আলী মাল ও সায়েদা বেগমের ছোট ছেলে সাজ্জাতুল। বাহ্যিক দৃষ্টি নেই তার। কিন্তু অন্তর দৃষ্টি তার প্রখর। তারা চার ভাই, চার বোন। জন্ম হওয়ার পাঁচ বছর পরই সাজ্জাতুল চোখের দৃষ্টি হারান। দেখতে পাচ্ছেন না

দুচোখেই। চোখে দেখতে না পেলেও মাদ্রাসার মাওলানার কাছ থেকে শুনে শুনে মুখস্ত করেছেন পবিত্র কোরআন শরীফ। হাফেজ সাজ্জাতুল ইসলাম বলেন, তার বয়স যখন পাঁচ বছর তখন শরীরে হাম ওঠে। হামে তার দু’চোখের দৃষ্টি চলে যায়। ৮ বছর বয়সে চাঁদপুর নেছারিয়া আরাবিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় হেফজ খানায় ভর্তি হন তিনি। মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমানের মুখে শুনে শুনে দুই বছরেই কোরআন মুখস্ত করেছেন তিনি। পরে চট্টগ্রাম জামিয়া আহমদিয়া কামেল মাদ্রাসায়

মিজান কিতাব শেষ করেন। সাজ্জাতুল আরও জানান, তিনি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে শরীয়তপুর জেলার আংগারিয়া সমন্বিত অন্ধ শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে ভর্তি হন। তিনি সরকারি খরচে সেখানে পড়ালেখা করছেন। তিনি আরও জানান, অন্যের ঘাড়ে বোঝা হয়ে না থেকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য শুরু করেছেন পড়ালেখা। বড় হয়ে প্রতিবন্ধীদের শিক্ষক হতে চান তিনি। দাঁড়াতে চান তাদের পাশে। আংগারিয়া সমন্বিত অন্ধ শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় সমাজসেবা

অধিদফতরের রির্সোস টিচার মো. এনামুল হক বলেন, আমরা প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের লেখাপড়া করিয়ে থাকি। সাজ্জাতুল এ বছর ৮ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। ছাত্র হিসেবে খুবই ভালো সাজ্জাতুল। ইচ্ছা ও মনোবল থাকলে প্রতিবন্ধী হয়েও অনেক কিছু করা যায়। সাজ্জাতুল তার বড় প্রমাণ। আরো পড়ুন… ৭৬ বছরের এক মিশরীয় বৃদ্ধা। পুরো নাম জায়নাব আব্দুল গনি মুহাম্মাদ হুসাইন। সাত বছরের কর্মসাধনায় তিনি পবিত্র কোরআনের ৩০টি পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছেন।

পুণ্যবতী এ নারী মিশরের মিনিয়া প্রদেশের আল-তালিন গ্রামের অধিবাসী। তিনি ৬ষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। জীবনসায়াহ্নে এসে নিজ হাতে পবিত্র কোরআনের ৩০টি পাণ্ডুলিপি লিখে তিনি অনন্যতার পরিচয় দিয়েছেন। নিজের লিখিত কোরাআন হাতে জায়নাব আব্দুল গনি মুহাম্মাদ হুসাইন প্রাসঙ্গিকতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার পাঁচ ছেলে এবং দুই মেয়ে রয়েছে। আমার পিতা সম্পূর্ণ কোরআনের হাফেজ ছিলেন। তিনি এডুকেশন সেক্টরে কাজ করতেন।তিনি আরো বলেন, আমি প্রায় ৭ বছর পূর্বে

কোরআন লেখার কাজ আরম্ভ করি। সম্পূর্ণ কোরআন হেফজ করার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সময়স্বল্পতা ও আনুসাঙ্গিক বিভিন্ন কারণে পরিনি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৬ পারা মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছি। এ জন্য আমার সবসময় খুব দুঃখবোধ কাজ করে। কিন্তু আমাদের এলাকার একজন নারী আমাকে পবিত্র কোরআন নিজ হস্তাক্ষরে লেখার জন্য পরামর্শ দেন। তার পরামর্শ আমাকে বেশ অনুপ্রাণিত করে। এরপর থেকে আমি প্রতি রাতে ঘুম থেকে উঠে প্রথম ৬ দিনে এক হাজার আয়াত লিখি। এতে আমার আগ্রহ

আরো বেগ পায়। তাই সম্পূর্ণ কোরআন লেখায় মনোনিবেশ করি। গুরুত্ব ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সঙ্গে তিনি আরো বলেন, আমি মাত্র ২৫ দিনে সম্পূর্ণ কোরআন লিখে শেষ করতে পেরেছি। আমার সন্তান ঈমান ওমরার যাওয়ার সময় সঙ্গে করে একখণ্ড পাণ্ডুলিপি নিয়ে যাবে। আশা করছি, পবিত্র কোরআনের বিশেষজ্ঞরা আমার তৈরিকৃত পাণ্ডুলিপিটি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করবেন। যদি মনের জোর থাকে ইস্পাতের মতো দৃঢ়, তাহলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। বয়োবৃদ্ধ এক নারী দৈনিক ৭ ঘণ্টা ব্যয় করে

নিজ হাতে সম্পূর্ণ কোরআন শরীফ লিখে অনন্য কীর্তি স্থাপন করেছেন ৭৫ বছর বয়সী সাইয়েদা সাদ আবদুল কাদের। মিশরীয় এ নারীর ইচ্ছে ছিল কোরআন হেফজ করবেন। কিন্তু বয়সের আধিক্য ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ায় তার পক্ষে পূর্ণাঙ্গ কোরআন মুখস্ত করা সম্ভব নয়। কিন্তু কি করা যায় এ ভেবে তিনি তার নাতির সঙ্গে পরামর্শ করলেন। নাতি পরামর্শ দিলেন কোরআন লিখতে। এরপর প্রবল আগ্রহ ও উৎসাহবোধে কাজ করলেন টানা ৪ বছর। আর শেষ পর্যন্ত তিনি তার উদ্দেশ্যে সফল হলেন। সৃষ্টি

করলেন কোরআন লেখার অনন্য নজির। এদিকে জানা যায়, সাইয়েদা সাদ ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর তার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর নিজেদের মানুফা প্রদেশ থেকে আলেকজান্দ্রিয়ায় চলে যেতে হয়। পারিবারিক ও সাংসারিক বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে তিনি কোরআন মুখস্ত করতে পারেননি। কিন্তু প্রচণ্ড আকাঙ্ক্ষা ও আগ্রহবোধ কাজ করতো প্রতিনিয়ত। এ ব্যাপারে তিনি জানান, তার আগ্রহের কারণে কোরআন মুখস্ত করতে না পারলেও আল্লাহ তাকে এমন মহৎ কাজ করার তাওফিক দান করেছেন। এদিকে কোরআনের পাণ্ডুলিপিটি তৈরিতে তিনি ৪০টি কলম ব্যবহার করেন। শব্দগুলোতে হরকত দিয়েছেন কালো রং দিয়ে। আর আল্লাহ শব্দ ও আয়াতের সংখ্যা লেখায় লাল রং এবং অন্যান্য শব্দ আঁকায় নীল রংয়ের কালি ব্যবহার করেন। তিনি আশা করছেন, তার সন্তানরা পাণ্ডুলিপিটি শিগগির প্রিন্ট আকারে প্রকাশ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme