সর্বশেষ আপডেট
গ্রে ‘ফ’তারের আগে যা বলল সেই ‘গাছ কা ‘টা’ নারী!

গ্রে ‘ফ’তারের আগে যা বলল সেই ‘গাছ কা ‘টা’ নারী!

‘আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি। গাছের প্রতি আমার ক্ষোভ নেই। তারা আমাকে বকাবাজি করেছে। তারা বলেছিল, আমাকে ছাদ থেকে ফেলে দিবে। তাই রাগের বশে আমি কাজটা করে ফেলেছি। আমি ঠিক কাজ করিনি। এ ঘটনায় আমি অনুতপ্ত। আমি যেহেতু ভুল করেছি তাই তাদের কাছে মাফ চাইব।’ বুধবার (২৩ অক্টোবর)সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সাভারের সিআরপি রোডে একটি বাড়ির ছাদে দা দিয়ে কুপিয়ে গাছ কেটে ফেলা সেই নারী। এদিকে, তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাভার মডেল থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ওই নারীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ছাদের গাছগুলোর মালিক হাবিবুর রহমানের দায়ের করা মামলায় ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয় বলেও জানান ওসি।

আরো পড়ুন… তিনি বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আ টক করেছি। সাভারের সিআরপি রোডের এমন ভয়াবহ এক ভিডিও সোশ্যাল সাইটে এল, তা দেখে আঁৎকে উঠেছেন সবাই! যে কোনো কারণেই হোক, এক মহিলা দা হাতে অন্য একজনের তৈরি করা ছাদবাগানের সব গাছ কেটে সাফ করে দিচ্ছেন!

গাছের মালিকের আকুতি, কান্না তাকে স্পর্শ করছে না। সঙ্গে আছে তার ছেলে আর গুণ্ডাপাণ্ডার দল! এই অমানুষিক ঘটনায় শিউরে উঠেছে সবাই! সুমাইয়া হাবিব নামের ভুক্তভোগী ওই নারী ফেসুবকে নিজের গাছের ওপর এমন বর্বর আচরণের ভিডিও আর বিবরণ পোস্ট করেন।

একপর্যায়ে তাকে দা দিয়ে আঘাত করতে উদ্যত হন সব গাছ কেটে ফেলা ওই নারী বিষয়টি নিয়ে কালের কণ্ঠের অনলাইন ভার্সনে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরে প্রশাসনের নজরে আসে। এজন্যই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার রাতে ওই নারীর ছেলে তার মাকে নি র্দোষ দাবি করে ফেসবুক লাইভে বক্তব্য দেন।

আরো পড়ুন… মাস তিনেক হলো চা বিক্রি করছেন নাজমুল। দিনে ক্লাস করেন। সন্ধ্যার পর ভ্যান নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চা বিক্রি করেন। প্রতিদিন দুই থেকে তিন শ টাকা আয় হয়। মো. নাজমুল হোসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই তিনি চা বিক্রি করেন। সেই রাতে যেমন ছিলেন বিজয় একাত্তর হলের সামনে। চা বিক্রির এই উপার্জনেই নাজমুল নিজে চলেন, সহায়তা করেন পরিবারকে। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতে মনে হলো, মানুষ শুধু মুখেই বলে—কোনো কাজকেই ছোট করে দেখা ঠিক নয়।

কিন্তু কেউ কেউ তা করে দেখায়। এই করে দেখানো মানুষদের একজন নাজমুল হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে অনেকের মতো নাজমুলও টিউশনি শুরু করেছিলেন। কিন্তু তেমন সুবিধা করতে পারেননি। মানবিক বিভাগের ছাত্র ছিলেন বলে সম্মানী পেতেন কম। সেমিস্টার ফাইনাল কিংবা জরুরি প্রয়োজনেও অনেক সময় ছুটি পেতেন না।

ঠিক এই ব্যাপারগুলোই মানতে পারেননি নাজমুল। তিনি চিন্তা করলেন এমন কিছু করা উচিত, যেখানে তাঁর নিজের স্বাধীনতা থাকবে। ইচ্ছে হলে কাজ করবেন, না হলে করবেন না। তাঁর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার কেউ থাকবে না। মায়ের জমানো হাজার চারেক টাকা আর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সহায়তা নিলেন। প্রথমে মুঠোফোন রিচার্জের কাজ শুরু করলেন।

বসতেন মিরপুর ১০ নম্বরের কাছেই। কিন্তু প্রতিদিন মিরপুরে যাওয়া-আসা, দোকান চালানো, পড়াশোনা…ঠিক কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না। তা ছাড়া ফুটপাতে ব্যবসারও আছে অনেক ঝামেলা। সব মিলিয়ে মুঠোফোন রিচার্জের দোকান বন্ধ করে দিলেন। অভাব–অনটনের কারণে একবার ভেবেছিলেন, পড়াশোনা ছেড়ে দেবেন। নাজমুল হোসেন ভাবলেন, ‘না, যেভাবেই হোক টিকে থাকতে হবে! শেষ করতে হবে পড়াশোনা।’ তখন চিন্তা করে বের করলেন, তিনি মোটামুটি চা বানাতে পারেন। তাহলে তা-ই সই! মুঠোফোন রিচার্জের কাজ ছেড়ে জমানো টাকায় এই বিশেষ ভ্যানটি বানিয়ে নিলেন আর কিনলেন চা বানানোর সরঞ্জাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের সামনে যেখানে সন্ধ্যার পর অনেকে আড্ডা দিতে আসে, সেখানে আরও দু–চারটি দোকানের পাশে ভ্যান নিয়ে বসে গেলেন নাজমুল। প্রথম দিন তাঁকে দেখে বন্ধু, পরিচিতজনেরা অ’বাক হয়েছিলেন। নানা জন নানা কথা বলেছিলেন। চা বিক্রি না করে কারও সহায়তা নেওয়ারও পরাম’র্শ দিলেন কেউ কেউ।

কিন্তু সাহায্য চাওয়ার চেয়ে কাজটাকেই তিনি বেছে নিলেন। সব মিলিয়ে ভালো আছেন নাজমুল। নিজের মতো চলছেন। নাজমুল বললেন, ‘টাকা জমাতে পারলেই কিস্তিতে একটা মোটরবাইক কিনে নেব। কোনো একটি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের হয়ে দিনের একটা সময় মোটরবাইক চালাব।’ তবে যত দিন না তা হচ্ছে, তত দিন চা বিক্রি ছাড়া উপায় কী’? স্বাধীনচেতা মন নিয়ে লেখাপড়া আর পেট—দুই যে তাঁকে চালাতে হবে!

নদী গিলেছে বসতভিটা: শরীয়তপুর জে’লার গোসাইরহাটের এক নিভৃত গ্রামে নাজমুল হোসেনদের বাড়ি। তবে এখন আর সেই বসতভিটা নেই।২০১২ সালে নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ভিটাবাড়ি। নিরুপায় হয়ে নাজমুলের বাবা সাত্তার হাওলাদার ও মা নাজমা বেগম পাড়ি জমান গাজীপুরে। চার সন্তান নিয়ে ঘোর সংকটে পড়েছিলেন নাজমুলের মা-বাবা। সামান্য পুঁজি নিয়ে বাবা একটা ছোট মুদিদোকান দেন।

এখনো সেই দোকানে কোনোরকমে সংসার চলে তাঁদের। নাজমুল হোসেন সবার বড়, ক’ষ্টেসৃষ্টে পড়াশোনা চালিয়ে নিয়েছেন। গাজীপুর সদরের হাতিমা’রা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এখন থাকছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্ম’দ মুহসীন হলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]