সর্বশেষ আপডেট
পানিতে ডুবে মৃ’ত্যুর পরও ফুরালো না ভাই-বোনের ভালোবাসা ।

পানিতে ডুবে মৃ’ত্যুর পরও ফুরালো না ভাই-বোনের ভালোবাসা ।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বেলটিয়া গ্রামে পানিতে ডুবে তাবাচ্ছুম (১৩) ও রাহাত (৬) দুই চাচাতো ভাইবোনের মৃ’ত্যু হয়েছে। পুকুর থেকে তাদেরকে গলাগলি ধরা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের বেলটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে জানা গেছে, ওই গ্রামের হান্নান মোল্যার ছেলে শিশু শ্রেণির ছাত্র রাহাত মোল্যা এবং চাচাতো বোন ওহিদুজ্জামান মোল্যার মেয়ে সিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তাবাচ্ছুম খানম বাড়ি সংলগ্ন মোনায়েম মোল্যার পুকুরে গোসল করতে যায়।

দীর্ঘ সময় পরও তারা বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই পুকুর ঘাটে তাদের জামাকাপড় ও স্যান্ডেল দেখতে পেয়ে পরিবারের লোকজন পুকুরের পানিতে নেমে খুঁজতে থাকে।

দীর্ঘ সময় খোঁজার পর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তাদেরকে পুকুর গলাগলি ধরা অবস্থায় উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃ’ত ঘোষণা করেন।

মৃ’ত রাহাত ও তাবাচ্ছুমের চাচা হেমায়েত হোসেন জানান, উভয়ের পিতা চট্রগ্রামে জাহাজের মাস্টার পদে কর্মরত আছেন। লোহাগড়া থানার ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। collected: Daily Jugantor আরো পড়ুন… উপজে’লা প্রতিনিধি সাভার (ঢাকা) : জীবনে র’ক্তের গুরুত্ব অ’পরিসীম। এক ব্যাগ র’ক্ত একটি জীবন বাঁ’চাতে অমূল্য ভূমিকা পালন করে। জীবনে র’ক্তের প্রয়োজন কতটা তা উপলব্ধি করেছেন হয়তো সবাই। তেমনি একজন মো. জাবেদ নাছিম। তিনি বাংলাদেশের ‘ও’ নেগেটিভ গ্রুপের একজন সর্বোচ্চ র’ক্তদাতা। এ পর্যন্ত ১৬৯ বার র’ক্ত দান করেছেন তিনি। এর মধ্যে ৪৮ বার (৩০-১৫০ মিলি) শি’শুদের এবং ১১৯ বার (৪৫০ মিলি) হোল ব্লাড এবং ২ বার প্লা’টিলেট দিয়েছেন।

মো. জাবেদ নাছিম মানুষকে র’ক্ত দিয়ে প্রশান্তি পান। তিনি মনে করেন, তার র’ক্তেই মিশে আছে মানুষের উপকারে ছুটে চলার প্রবল নে’শা। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজে’লার বাংগরা থা*নার পীর কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার র’ক্তদান শুরুটা সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার লাইনগুলোর মতোই ‘আঠারো বছর বয়স কী’ দুঃসহ, স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁ’কি। ১৯৮৬ সালে ২৭ অক্টোবরে মাত্র ১৮ বছর বয়সে র’ক্তদান শুরু করেন তিনি।

বাংলাদেশ টেলিভিশনে এক মুমূর্ষু রোগীর জরুরি র’ক্তের প্রয়োজন এমন একটি বি’জ্ঞপ্তি চোখে পড়ে তার। সেই থেকেই নাছিমের র’ক্তদানের আগ্রহের সূচনা। তবে নাছিম তখনও নিজের র’ক্তের গ্রুপ স’ম্পর্কে অবগত নন। তৎকালীন জগন্নাথ কলেজে (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছায় র’ক্তদান কর্মসূচি চলছিল। এ সুযোগে নিজের র’ক্তের গ্রুপ জেনে নিলেন তিনি। নিজের র’ক্তের গ্রুপ ‘ও’ নেগেটিভ জানার পরে তার উল্লাস দেখে কে! আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেন তিনি।

এ উল্লাসের অন্যতম কারণ সমাজে ‘ও’ নেগেটিভ র’ক্তের বিশেষ গুরুত্ব। শুধু র’ক্ত দিয়েই নয়, ১৯৮৭ সালে করেছেন ম’রণোত্তর চক্ষুদান নিবন্ধন। নাছিম কোয়ান্টাম ব্লাড ব্যাংক ও পু’লিশ ব্লাড ব্যাংকের একজন গোল্ডেন ক্লাব সদস্য। মো. জাবেদ নাছিল জানালেন, জীবনে অন্যের জন্য কিছু করতে না পারলে মানুষ হয়ে কেন জন্মানো! সব কিছুতে টাকা থাকতে হবে, এমনটা নয়। এখানে মানুষের কল্যাণে কাজ করার ইচ্ছায় মূল বিষয়। র’ক্তদানের জন্য নাছিম ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদকও পেয়েছেন।

এর মধ্যে, আইজিপি পদক, জে’লা পু’লিশ পদক, কুমিল্লা জে’লা থেকে সেরা র’ক্তদাতা সম্মাননা স্মা’রক ছাড়াও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে সম্মাননা স্মা’রক পেয়েছেন তিনি। নাছিম জানালেন, পুরস্কার বা সম্মাননা পাওয়া মুখ্য বিষয় নয়, মানুষের উপকারে আসতে পেরেছি এতেই আনন্দ বোধ করি। শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও র’ক্ত দিয়েছেন নাছিম। পেশাগত প্রয়োজনে ভ্রমণ করেছেন বিশ্বের ১৭টি দেশে। এ সময় সিঙ্গাপুরে ৩ বার, ভিয়েতনামে ২ বারসহ দেশের বাইরে মোট ৭ বার র’ক্তদান করেছেন তিনি।

নাছিম জানালেন তার র’ক্তদানের ৩৩ বছরের অ’ভিজ্ঞতার কথা। তিনি জানালেন, শি’শুদের র’ক্ত দেয়ার জন্য ৪ মাস অ’পেক্ষা করতে হয়নি। মাত্র ৩০-১৫০ মিলি র’ক্ত, ৪ মাসের আগেই দিয়ে দিয়েছি।গল্পের মাঝে এক ভয়ঙ্কর সত্য তুলে ধরলেন তিনি। ১৯৯৮ সালের ২৫ নভেম্বর মৃ’ত্যু হয় নাছিমের সন্তানের। তখন হাসপাতালে এক শি’শুর র’ক্তের প্রয়োজন ছিল। সন্তানের দুঃখ ভুলে চলে গেলেন অ’পরের প্রয়োজনে। র’ক্ত দিলেন ৬০ মিলি। এরপর নিজের সন্তানের জন্য বাকি কর্তব্যটুকু পালন করেন তিনি।

সিলেট মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, ঢাকার রেড ক্রিসেন্ট, কোয়ান্টাম ব্লাড ব্যাংক, পু’লিশ ব্লাড ব্যাংকসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের বেশ কিছু জায়গায় র’ক্ত দিয়েছেন তিনি। এরমধ্যে সন্ধানীতেই বেশি র’ক্ত দিয়েছেন তিনি।নাছিম আরও জানালেন, র’ক্ত দিলে মানুষের উপকার হয়। কিছুদিন পরেই তো শরীরে নতুন র’ক্ত তৈরি হয়। মানুষের যখন র’ক্তের প্রয়োজন হয়, তখন র’ক্ত দিলে মানসিক যে তৃপ্তি, পৃথিবীর অন্য কিছুর বিনিময়ে সেই তৃপ্তি পাওয়া যাবে না।

আমা’র র’ক্তে একজন মানুষ বেঁচে উঠছেন এর চেয়ে আনন্দদায়ক আর কী’ হতে পারে জীবনে! মানুষ তো মানুষের জন্যই। র’ক্তদান নিয়ে দুঃখের স্মৃ’তিও রয়েছে নাছিমের। নাছিম তখন গাজীপুরে বসবাস করতেন। ঢাকার সিএমএইচে একজনের র’ক্তের প্রয়োজন। গাজীপুর থেকে ঢাকায় আসতে আসতে অনেকটা সময় লাগে নাছিমের। অনেক রাত হয়ে যায় আসতে আসতে। হাসপাতালে রাত ১০টার পরে কোনো র’ক্ত নেয়া হয় না। এতে করে রাতে আর র’ক্ত দিতে পারেননি তিনি।

পরে ওই রাত হাসপাতালেই কাটে তার। সকালে প্লা’টিলেট দিলেও পরে লোকটা মা’রা যায়। এছাড়া একই দিনে ঢাকায় নিজের ভাগিনা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি রোগীকে র’ক্ত দেয়ার অ’ভিজ্ঞতাও রয়েছে নাছিমের। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও জানালেন নাছিম। থ্যালাসিমিয়া, আ’গুনে পোড়া ও গরিব রোগীদের জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করে একটি ব্লাড ব্যাংক করতে চান তিনি। যেখানে বিনা খরচে সবাই র’ক্ত নিতে পারবে। এজন্য সমাজে বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. এড্রিক বেকার ব্লাড ফাউন্ডেশনের সদস্য আনিকা মোস্তাফিজ জানান, আমা’র দাদু কিডনি ডায়লাইসিসের রোগী হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি ছিলেন। অনেকদিন ধরে দাদুর জন্য দুর্লভ ও নেগেটিভ র’ক্ত খুঁজেও মেলেনি। র’ক্ত না পেয়ে খুব হতাশ ছিলাম এমন সময় জাবেদ নাছিমের খোঁজ পাই। পরে তিনি এবং তার ভাগিনা ১৬৯তম র’ক্তদান করেন।

নতুন প্রজন্মের কাছে জাবেদ নাছিম দাদু হিসেবে পরিচিত। নতুন প্রজন্মের অনেকেই তাকে দাদু বলে সম্বোধন করেন। এ প্রজন্মের পরাম’র্শও দিলেন তিনি। মানুষের জন্য কাজ করার মতো মহৎ কিছু পৃথিবীতে আর নেই! তরুণ প্রজন্মকে র’ক্তদানে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। যেকোনো ধরনের খা’রাপ নে’শা থেকে বিরত থাকতে হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সামাজিক ও মানবিক কাজগুলো করার পরাম’র্শও দিলেন তিনি।সূত্র: জাগো নিউজ

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]