সর্বশেষ আপডেট
বিবিসির প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় রোহিঙ্গা তরুণী জেসমিন ।

বিবিসির প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় রোহিঙ্গা তরুণী জেসমিন ।

বিশ্বের ১০০ অনুপ্রেরণাদায়ী ও প্রভাবশালী নারীর তালিকায় উঠে এসেছে রোহিঙ্গা বংশোদ্ভূত বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক ক্রিকেটার জেসমিন আক্তারের নাম। বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেন জেসমিন।

শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর পর ব্র্যাডফোর্ড শহরের অল-এশিয়ান গার্লস ক্রিকেট দলে খেলে নিজের খেলোয়াড়ি নৈপুণ্যের প্রমাণ দেন জেসমিন। এ বছর পথশিশুদের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ইংল্যান্ড দলের হয়ে খেলেন জেসমিন।

জানা গেছে, পরিবেশ, জ্ঞান, নেতৃত্ব, সৃষ্টিশীলতা, খেলাধুলা ও পরিচয়-এমন ছয় ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত তালিকাটি তৈরি করা হয়। এসবের ভিত্তিতে ওই তালিকায় জায়গা করে নেয় সারা বিশ্বের ১০০ নারী। এতে প্রত্যেকের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হয়। সেই হিসেবে জেসমিনের দেশ পরিচয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য লেখা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেন জেসমিন। এরপরে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে যাওয়ার পর ব্র্যাডফোর্ড শহরের অল-এশিয়ান গার্লস ক্রিকেট দলে খেলে নিজেকে ক্রীড়াবিদ হিসেবে মেলে ধরেন জেসমিন। এমনকি এ বছর পথশিশুদের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ইংল্যান্ড দলের হয়ে খেলেন তিনি।

আরো পড়ুন… চলতি বছরের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে মেডিকেলে ভর্তির মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়েছেন নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা শহরের কয়ানিজপাড়া মহল্লার রাজমিস্ত্রি জাকারিয়ার মেয়ে জাকিয়া সুলতানা। মেধা তালিকায় তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। মঙ্গলবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের পর তার এ কৃতিত্বের খবরে শহরজুড়ে আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা যায়, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা শহরের কয়ানিজপাড়া এলাকার রাজমিস্ত্রি জাকারিয়া ও মোছা: শহিদা বেগম দম্পতির তিন মেয়ে ও এক ছেলে। বাবা জাকারিয়া রাজমিস্ত্রির কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালালেও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে ছিলেন খুবই মনোযোগী। একারণে শত কষ্টের মধ্যেও তিনি সন্তানদের শিক্ষা কার্যক্রমে কোনোরকম ব্যাঘাত ঘটতে দেননি। বাবার এরকম মানসিকতা আর মায়ের যত্নে সন্তানরাও লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয় প্রতিটি ক্লাসে।

জাকিয়া সুলতানার বড় বোন জয়নাব আরা স্মৃতি ঢাকা নার্সিং কলেজে পড়ছেন। দ্বিতীয় সন্তান জাকিয়া সুলতানা সৈয়দপুর সরকারি কারিগরী মহাবিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চলতি বছর সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এরপর তৃতীয় সন্তান জিহাদ নাহার ঋতু সৈয়দপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত। ছোট ভাই আব্দুল্লাহ প্রামাণিক স্মরণ শিশু শ্রেণির ছাত্র।

এদিকে জাকিয়া তার এই কৃতিত্বের জন্য বাবা-মাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সৈয়দপুরের মেডিকেল ভর্তি কোচিং সেন্টার ‘বিট’স্ এর পরিচালক আব্দুল হাফিজ হাপ্পুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।রাজমিস্ত্রির মেয়ে মেডিকেলে চান্স পাওয়ার খবরে শহরের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জাকিয়াকে দেখতে তার বাড়িতে আসছেন এবং তার ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনায় দোয়া করছেন। সৈয়দপুর পৌর মেয়র অধ্যক্ষ মো: আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, মেডিকেলে চান্স পাওয়া জাকিয়া সুলতানার পাশে আমি আছি, আগামীতেও থাকবো। তার যে কোনো প্রয়োজনে আমাকে জানানো হলে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

আরো জানুন… ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস কোর্সের প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন তৌফিকা রহমান নেহা।তৌফিকা রহমান নেহা সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। প্রকাশিত ফলাফলে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮৯ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় হওয়ার গৌরব অর্জন করেন নেহা।সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে সাড়ে ১০ হাজারেরও বেশি আসনের বিপরীতে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৯ হাজার ৪১৩ জন। মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক কাজী আসাদ জাগো নিউজকে বলেন, তৌফিকা রহমান নেহা মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তবে খুব বেশি কলেজে আসতো না নেহা। শুধু নেহা নয়, বিজ্ঞান বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষার্থী কলেজে আসতে চায় না। সেক্ষেত্রে বলা যায়, ঠিকমতো ক্লাস না করেও দ্বিতীয় হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে নেহা। তবে এটা বলতেই হবে নেহা খুবই মেধাবী শিক্ষার্থী। ঠিকমতো ক্লাসে না আসায় তার বিষয়ে আমাদের বিস্তারিত জানা নেই।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আফাজাল হোসেনের কাছে তৌফিকা রহমান নেহার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নেহার ব্যাপারে বিস্তারিত কিছুই আমি জানি না। তবে শুনেছি মেডিকেলের পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়েছে নেহা।মেধা তালিকায় দ্বিতীয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়ার পর তৌফিকা রহমান নেহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি তিনি। পরে এসএমএস করলেও তার রিপ্লে দেননি নেহা।

এ বছর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন রংপুরের রাগীব নূর অমিয়। তার টেস্ট স্কোর ৯০.৫০। তিনি রংপুর ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করেন। এসএসসিতে দিনাজপুর বোর্ডে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন। এর আগে তিনি রংপুর জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেছেন।অনুভূতি জানাতে গিয়ে রাগীব নূর অমিয় বলেন, ফলাফল পেয়ে ভীষণ খুশি আমি।

এমন ফলাফলের পেছনে মা-বাবাসহ শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানবতার সেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চাই। এ বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ৪৯ হাজার ৪১৩ জন পাস করে। পাসকৃতদের হার অনুযায়ী ছাত্র ৪৬ দশমিক ৩১ শতাংশ ও ছাত্রী ৫৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকারিতে নেয়া হবে ৪ হাজার ৬৮ জন আর বেসরকারিতে নেয়া হবে ৬ হাজার ৩৩৯ জন।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]