সর্বশেষ আপডেট
মেডিকেলে চান্স পেলো রাজমিস্ত্রির মেয়ে জাকিয়া সুলতানা কলেজে না গিয়েও এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় নেহা । বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশংসা করে যা বললেন মালয়েশিয়ার পুলিশপ্রধান । বাড়ির নিচতলায় গাড়ী চালকদের জন্য থাকা ও নামাজের ব্যবস্থা করতে হবেঃ প্রধানমন্ত্রী । প্রেমের টানে বাংলাদেশে ভারতীয় গৃহবধূ, সীমান্তে উত্তে’জনা । গোয়ালঘরে শিকলে বাঁধা বৃদ্ধা মা বললেন, মোর পোলারা ভালো । সাড়ে ৮ লাখ টাকা দিয়েও চাকরি হয়নি, কাঁদলেন প্রার্থী । গরু ছেড়ে নারীদের প্রতি বেশি যত্নবান হোনঃ মোদিকে এক নারী । যে কারণে তুহিনকে নি’র্মমভাবে হ’ত্যা করলেন বাবা । পিয়ন থেকে যেভাবে ১২০০ কোটি টাকার মালিক যুবলীগের আনিস ।
এক লিটার পানিতেই বাইক চলে ৫০০ কিলোমিটার ।

এক লিটার পানিতেই বাইক চলে ৫০০ কিলোমিটার ।

অবিশ্বাস্য এক বাইক আবিস্কার করেছেন ব্রাজিলের পাবলিক অফিসার রিকার্দো আজাভেদো। পেট্রল-ডিজেল কিংবা ব্যাটারি নয়, এই বাইক চলে পানি দিয়ে। বাইকের মাইলেজও মাথা খারাপ করে দেয়ার মতো। মাত্র ১ লিটার পানি দিয়ে ৫০০ কিমি পাড়ি দিতে পারে এই পানি-চালিত মোটরবাইক। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো,

এই বাইক চালাতে কোনও বিশেষ ধরনের পানিরও প্রয়োজন হয় না। একেবারে সাধারণ পানিই বাইকের জ্বালানির ট্যাঙ্কে ব্যবহৃত হতে পারে। জানা গেছে, এর ইঞ্জিন গঠিত প্রধানত দু’টি অংশ নিয়ে- ওয়াটার ট্যাঙ্ক, অপরটি ব্যাটারি। ব্যাটারির ইলেকট্রিসিটি জলের হাইড্রোজেন মলিকিউলগুলিকে বিশ্লিষ্ট করে দেয়। তারপর একটি পাইপের মাধ্যমে সেই হাইড্রোজেন প্রবাহিত হয় ইঞ্জিনে। এই হাইড্রোজেনই বাইককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপযোগী শক্তি উৎপাদন করে।

রিকার্দোর তৈরি করা এই বাইক সব দিক থেকেই পরিবেশবান্ধব। একে তো এই বাইকে কোনও রকম খনিজ তেল খরচ হওয়ার ভয় নেই। পাশাপাশি এই বাইক কোনও রকম ধোঁয়াও উৎপাদন করে না। ফলে পরিবেশ থাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।

অন্যরা যা পড়ছে… বাংলাদেশের নারীরা পি’ছিয়ে নেই। শ্রম, মেধা ও দ’ক্ষতার পরিচয় দিয়ে বিশ্বের স’ঙ্গে তাল মি’লিয়ে এগিয়ে চলেছে তারা। এরই মধ্যে দুঃ’সাহ’সী ও চ্যা’লেঞ্জি ক’র্মকা’ণ্ডে সফলতার স্বা’ক্ষর রেখেছে তারা। এই ধা’রাবাহি’কতা এখন শুধু শহরে নয় উপজেলা ও প্রত্যন্ত গ্রামেও যুক্ত আছেন বিভিন্ন কর্ম’কা’ণ্ড ও মানব সেবায়। নানা রকম যু’দ্ধ পাড়ি দিয়ে একমাত্র নিজের সা’হসিক’তায় অনেক নারীর স’ফলতার গল্প আমরা শুনেছি। তবে আজ জানাবো অন্যরকম এক গল্প।

গ্রামের সবাই যাকে চিনেন নানী নামে। তিনি হলেন জহিরন বেওয়া। বয়স ৯২ বছর পেরিয়ে গেছে কিন্তু মনের উদ্যমতা, সাহসিকতা, ক’র্মের দ’ক্ষতা-সখ্যতা কমেনি তার। স্থা’য়ীয় এমপিও কারো কাছে অপরিচিত হলেও গ্রামের সবার কাছে নানী জহিরন বেওয়া এক পরিচিত নাম।

৯২ বছর(তার দাবি) বয়সী জহিরন বেওয়া লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউপির সীমান্তবর্তী গ্রাম তালুক দুলালীর মৃ’ত সায়েদ আলীর স্ত্রী। মু’ক্তিযুদ্ধে’র চার বছর আগে স্বামীর মৃ’ত্যুতে ভে’ঙ্গে পড়া এ সংগ্রামী নারী তিন ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে সংসার সংগ্রাম শুরু করেন। আট বছর আগে বড় ছেলে দানেশ আলী ৬৮ বছর বয়সে মৃ’ত্যুব’রণ করায় ভে’ঙ্গে পড়েন জহিরন বেওয়া। ছোট ছেলে তোরাব আলীর (৫৯) সংসারে এই সং’গ্রামী নারী এখনো সচল, সজাগ আর কর্ম’ উদ্যা’মী হয়ে বেঁচে আছেন।

দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু সংসারে অ’ভাব-অনা’টন ছিল প্রতি’ক্ষণের চিন্তা। সমাজের কথা উ’পেক্ষা করে ১৯৬৮ সালে জহিরন পরিবার প’রিবল্প’নার অধিন স্বা’স্থ্যসে’বা ও পরিবার প’রিক’ল্পনা বিষযে চয়মাসের প্র’শিক্ষণ গ্রহন করে চু’ক্তিভি’ত্তিক মাসিক মজুরিতে কালিগঞ্জ স্বা’স্থ্য কমপ্লেক্সে ক’র্মে যো’গ দেন। নিজ গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে বাইসাইকেল চালিয়ে গ্রামবাসীদের স্বাস্থ্য’সেবা দিতেন। ২শ’ থেকে ৩শ’ অবশেষে ৫শ’ টাকা মাসিক মজুরিতে ১০ বছর চা’করি করে অ’বসরে যান জহিরন। কিন্তু বাড়িতে বসে থাকতে পারেননি।

জহিরন বেওয়া ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি শুধু সাধারণ রোগ যেমন জ্বর, মাথাব্যথা, বমি শা’রীরিক দুর্ব’লতাস’হ অন্যান্য রোগের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি। চিকিৎসার জন্য আমাকে কোনো অ’র্থ দিতে হয় না, তবে আমি বাজারমূল্যে তাদের কাছে ওষুধ বি’ক্রি করি। এতে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ টাকা আয় হয়।

তিনি আরো বলেন, আদিতমারী উপজেলার ৩০টি গ্রামে প্রায় দুই হাজারের বেশি পরিবারের স’ঙ্গে রয়েছে আমার যো’গাযো’গ। আমি প্রতিদিন বাইসাইকেল চালিয়ে কমপ’ক্ষে সাতটি গ্রামের ৭০টি বাড়িতে যাই এবং তাদের খোঁ’জখবর নিই। এমনটি দা’বি করে জহিরন বেওয়া জানান, গত ৫০ বছরে তিনি কোনো রো’গে আক্রা’ন্ত হননি।

আদিতমারীর গ্রামবাসীরা জানান, গত ৪৫ থেকে ৫০ বছর ধরে জহিরন বেওয়াকে দেখছি তিনি সাইকেল চালিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে দ’রিদ্র রো’গীদের স্বা’স্থ্যসে’বা দিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ কোনো অ’সুখ-বি’সুখ হলে আমরা তার কাছেই চিকিৎসা নিই। আর তিনি কখনোই আমাদের কাছে টাকা নেননি। মাঝে মধ্যে ওষুধও বিনামূল্যে দেন।

তারা জানান, উনি এখন গ্রামের সবার জাতীয় নানী। সবাই তাকে নানী বলেই ডাকে, হয়তো ছেলে দেখলে তাকে নানী বলে ডাক দেয়, ছেলের বাবাও দেখলে নানী বলে ডাকে। অনেকে আবার আদর করে উনাকে নানী বুড়ি বলে ডাকেন। আমাদের এই অঞ্চলে সবাই নানী বুড়ি বললে জহিরন বেওয়াকে এক নামে চিনে, এমনকি আমাদের এমপিরে কেউ চিনুক না চিনুক কিন্তু এই নানী বুড়িকে আশেপাশের সব লোক এক নামে চিনে।

তারা আরো জানান, নানীকে ভালোবেসে অনেকে পরামর্শ দেয়- নানী তোমার বয়স হইছে, এখন সাইকেল চালানো বাদ দাও, বাড়ি বাড়ি যাওয়া বাদ দাও, রাস্তা ঘাটে কখন কি ঘটে যায় কে জানে। তবে শুনেছি, নানী এসব বাদ দিতে পারেন না, উনার একটা অ’ভ্যাস হয়ে গেছে। সকাল হলেই উনি ক’টা ভাত মুখে তুলে সাইকেল নিয়ে বের হয়ে যান। তারপর, আশেপাশের গ্রামের সবার খোঁ’জ খবর নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেন। নানী যদি কখনো নিজে অ’সুস্থ থাকেন, উনার খোঁজ খবর নিতে উনার নিজের বাড়িতে লোকজনের ঢল নামে।

ভেলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, জহিরন বেওয়া নিজেকে সবসময় হাসি-খুশি রাখেন আর গ্রামবাসীকেও আনন্দ দিয়ে হাসি-খুশি রাখেন। তাই জহিরন বেওয়া গ্রামের সবার কাছে জনপ্রিয়, হয়ে উঠেছেন সবার নানী, লালমনিরহাট তথা বাংলার নানী। আমরা তাকে বাংলা নানী বলে স’ম্বোধন করি আর এতে তিনি বেশ খুশি থাকেন।

জহিরন বেওয়ার নাতি আব্দুর রাজ্জাক ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, তিনি বার বার চে’ষ্টা করে যাচ্ছেন দাদিকে সাইকেল চালিয়ে বাইরে যেতে না দিতে কি’ন্তু পা’রছেন না। দাদি ক’ষ্ট করে তার ছেলে-মেয়েদের মানুষ করেছেন তেমনি আমাদের মানুষ করার ক্ষে’ত্রেও তার অ’বদান রয়েছে।

আমরা হয়তো বইয়ে পড়েছি বেগম রোকেয়া, মাদার তেরেসা, ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের কথা- কিন্তু এমন অ’ন্তরা’লে লু’কিয়ে থাকা নানীদের অ’বদান তাদের চেয়ে কোন অং’শে ক’ম নয়। কেউ তার কাজের ব্য’প্তি নিয়ে দী’প্তি ছ’ড়িয়েছে’ন, কেউবা নানীর মত ছোট্ট প’রিসরের আ’লোকি’ত সে’বক।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]