সর্বশেষ আপডেট
মেডিকেলে চান্স পেলো রাজমিস্ত্রির মেয়ে জাকিয়া সুলতানা কলেজে না গিয়েও এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় নেহা । বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশংসা করে যা বললেন মালয়েশিয়ার পুলিশপ্রধান । বাড়ির নিচতলায় গাড়ী চালকদের জন্য থাকা ও নামাজের ব্যবস্থা করতে হবেঃ প্রধানমন্ত্রী । প্রেমের টানে বাংলাদেশে ভারতীয় গৃহবধূ, সীমান্তে উত্তে’জনা । গোয়ালঘরে শিকলে বাঁধা বৃদ্ধা মা বললেন, মোর পোলারা ভালো । সাড়ে ৮ লাখ টাকা দিয়েও চাকরি হয়নি, কাঁদলেন প্রার্থী । গরু ছেড়ে নারীদের প্রতি বেশি যত্নবান হোনঃ মোদিকে এক নারী । যে কারণে তুহিনকে নি’র্মমভাবে হ’ত্যা করলেন বাবা । পিয়ন থেকে যেভাবে ১২০০ কোটি টাকার মালিক যুবলীগের আনিস ।
যেভাবে চা’করি পে’লেন সেই ভা’ইরাল গ্রাজুয়েট রিক’শাচালক । (ভিডিও)

যেভাবে চা’করি পে’লেন সেই ভা’ইরাল গ্রাজুয়েট রিক’শাচালক । (ভিডিও)

কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায় এক যুবক রিকশা চালায়, অথচ তিনি কলেজ থেকে গ্রাজুয়েট করা একজন ছাত্র। চাকরির অভাবে আজ তাকে রিকশা চালাতে হয়। মোবাইলফোনে ধারণ করা ভিডিওটি রাতারাতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে সেই যুবকটিকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে।

দিনাজপুরের বিরামপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে গ্রাজুয়েট করার পর রাজধানীতে চাকরির খোঁজে এসেছিলেন মিলাদুল হোসাইন। কিন্তু ঢাকায় তেমন পরিচিত কেউ না থাকায় বিপাকে পড়েন তিনি। নিরুপায় হয়ে গার্মেন্টসে চাকরির সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সেখানেও চাকরির ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হন।

এদিকে জীবিকা নির্বাহের জন্য কিছু না করলেই নয়। তাই রিকশা নিয়ে নেমে পড়েন পথে। তার সেই সংগ্রামের ভিডিও ১৯ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওটি দেখার পর অনেকেই তাকে চাকরি দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। নেটিজেনদের কল্যাণে অবশেষে চাকরি পেয়েছেন সেই যুবক। একটি বেসরকারি কোম্পানিতে ট্রেইনি অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছেন মিলাদুল হোসাইন।

আরো পড়ুন… ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাহবাগগামী রাস্তায় মেট্রোরেলের কাজ চলার কারণে দু’পাশেই চলাচলের রাস্তা ছোট হয়ে এসেছে। একসঙ্গে বেশি যানবাহন চলতে শুরু করলেই যানজট শুরু হয়। আজ (মঙ্গলবার) এ এলাকার সাপ্তাহিক ছুটির কারণেই কি-না রাস্তা অনেকটাই ফাঁকা। দুপুর ১২টা। টিএসসি থেকে টুং টাং শব্দে বেল বাজিয়ে রিকশা, দ্রুত বেগে মোটরসাইকেল শাহবাগের দিকে ছুটে চলেছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইস’লামের সমাধিস্থলের গেটের বাইরে বসে থাকা আনুমানিক ৯-১০ বছর ও বছর চারেক বয়সী দুটি শি’শুর দিকে সবার দৃষ্টি ও সঙ্গে সঙ্গে আহারে বলে আফসোস করতে দেখা গেল।

নয়-দশ বছর বয়সী মেয়েটি বুকে আগলে রেখে ঘুম পাড়াচ্ছে তার চার বছর বয়সী বোনটিকে। হাঁটুর ওপর মাথা রেখে একটি হাত ছোট বোনের মাথার নিচে বিছিয়ে দিয়েছে। আরেক হাতে তার ভিক্ষার থালা। পাশেই একটি ছেঁড়া কাপড়ের ব্যাগ। বড় বোনটির মাথা টাক, পুরো শরীরে খোসপাচড়ার দাগ। ছোট বোনটিকে ঘুম পাড়াতে গিয়ে কখন যে বড় বোনটি ঘুমিয়ে পড়েছে তা নিজেও জানে না।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপাকালে বড় মেয়েটি জানাল তার নাম আকাশী। বাসা কাম’রাঙ্গীরচর। বাবা অ’সুস্থ ও বেকার। মা বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। সংসার চালাতে মাকে সহায়তা করতে প্রতিদিনই ছোট বোনটিকে নিয়ে হেঁটে শাহবাগ আসে। ঝড়-বৃষ্টিতে বোনকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ফুটপাতে ভিক্ষার থালা নিয়ে বসে থাকে। পথচারীরা দয়া করে টাকা দেন। তবে আজ দুপুর পর্যন্ত কেউ একটি টাকাও সাহায্য দেননি বলে জানায়। শি’শুটি বলে, সকাল থেকে যা টাকা সাহায্য পায় তা দিয়ে দুপুরের খাবার কিনে খায়। বাকি সারাদিনে যা পাওয়া যায় তা বাড়িতে মাকে দেয়।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জনৈক ব্যক্তি ২০ টাকা দিলে খুশিতে দু’চোখ চকচক করে ওঠে শি’শুটির। পরিচিত এক ব্যক্তির কাছে বোনকে দিয়েই সে দৌড় দেয়। লোকটি জানায়, সকালে না খেয়ে বাসা থেকে এসেছে। তাই টাকা পেয়ে ছোট বোনসহ তার জন্য ফুটপাতের দোকান থেকে আলুভর্তা, ডাল ও ভাত কিনে আনতে গেছে।

আরো পড়ুন… জন্মের ৪ মাস বয়সেই হার্টে ছিদ্র ধ’রা পড়ে ম’রিয়মের। এখন তার বয়স ৭ বছর। সেই চার মাস বয়স থেকেই মেয়ের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে গেছেন বাবা ঝালমুড়ি বিক্রেতা রবিউল ইস’লাম। তখন পরিবারের অবস্থা একটু ভালো থাকায় ডাক্তারের কাছে ছুটোছুটি ও বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করেছেন তিনি।

এছাড়াও প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা কিছু সহযোগিতা করেছেন তাকে। এখন মেয়ের অ’পারেশনের জন্য তিন লাখ টাকা প্রয়োজন। অথচ সেই টাকা আর জোগাড় করতে পারছেন না তিনি।

মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে রবিউল ইস’লাম এখন নিঃস্ব। দুই শতক জমির উপর বাড়ি-ভিটে আর সারাদিন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করে যে টাকা আয় করেন সেটা দিয়ে কোনো মতে সংসার চালান তিনি। সামান্য এ আয়ে মেয়ের অ’পারেশনের জন্য কোনো টাকা জমাতে পারেননি তিনি। চোখের সামনে মেয়ে বড় হচ্ছে। বড় হচ্ছে তার হার্টের ছিদ্রটি। পাশাপাশি বাড়ছে মেয়ের যন্ত্র’ণা। সব কিছুই তিনি দেখছেন, বুঝছেন কিন্তু কিছুই করতে পারছেন না। সন্তানের জন্য কিছু না করতে পারায় প্রতিটি দিন কাটছে তার নিরবে কেঁদে।

ম’রিয়ম বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার চাঁনপাড়া থাকে। সে আরাপপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী

পরিবারের সদস্যরা জানান, ম’রিয়ম আগে নিয়মিত স্কুলে যেত। এখন শরীর ভালো না থাকায় আর যেতে পারে না। তবে এখনও সে স্কুল যেতে বায় না করে। কিন্তু শরীর তাকে সাপোর্ট করে না। এজন্য সারাক্ষণ কা’ন্নাকাটি করে সে।

প্রতিবেশীরা জানান, ঝালমুড়ি বিক্রেতা বাবার পক্ষে মেয়ের হার্টের অ’পারেশনের টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। খুব ক’ষ্ট করে চলে তাদের সংসার। এমন ক’ষ্টের মাঝে মেয়ে অ’পারেশন করাবে কী’’ভাবে? তাই প্রতিবেশীরাও চেষ্টা করছেন তাকে কিছু সহযোগিতা করতে।

রবিউল ইস’লাম জানান, ম’রিয়ম ছোটবেলা থেকেই অ’সুস্থ। কিন্তু প্রথম দিকে তারা তেমন কিছু বুঝতে পারেনি। চার মাস বয়সে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন পরীক্ষা করে তারা জানান, ম’রিয়মের হার্টে ছিদ্র রয়েছে। যা ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। ওই সময়ই চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, দ্রুত ম’রিয়মের হার্টের অ’পারেশন করালে ভালো। না হলে সমস্যা আরও জটিল হবে। পরে পরিস্থিতি খা’রাপ হয়ে গেলে কিছুই করা যাবে না।

তিনি জানান, এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছে সহযোগিতা এবং বাাড়ির একমাত্র আবাদি জমি বিক্রি করে গত আগস্ট মাসে ম’রিয়মকে ভারতের রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব কার্ডিয়াক সাইন্স হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুকান্ত কুমা’র বেহারার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৪ আগস্ট ডাক্তার ম’রিয়মের বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে অ’পারেশনের পরাম’র্শ দেন। এ জন্য বাংলাদেশি প্রায় ৩ লাখ টাকার প্রয়োজন বলে তারা জানান। কিন্তু তাদের কাছে এত টাকা না থাকায় তারা ৫ দিন পর দেশে চলে আসেন। এখন ম’রিয়ম বাড়িতেই আছে।

রবিউল বলেন, তিনি পেশায় একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতা। সারাদিন ঝালমুড়ি বিক্রি করলেও ৩০০ টাকার বেশি আয় হয় না। সেটা দিয়ে চারজনের সংসার চলছে। দুই শতক জমির ওপর একটি আধা-পাকা ঘর রয়েছে। সেখানেই থাকি। এছাড়া চাষযোগ্য কোনো জমি নেই।

তিনি বলেন, আগে শুধু স্কুল টাইমে ঝালমুড়ি বিক্রি করতাম। এখন সারাদিন বিক্রি করি। গ্রামে বিক্রিও কম। ঝালমুড়ি বিক্রির টাকায় মেয়ের অ’পারেশন হয়তো কোনো দিনও করতে পারবো না। জানি না মেয়েটাকে বাঁ’চাতে পারবো কী’’না?

ম’রিয়ম যে স্কুলে পড়ে (আরাপপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) সেখানকার প্রধান শিক্ষক নিলুফার ইয়াসমীন জানান, বেশ মেধাবী ম’রিয়ম। সারাক্ষণ খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকতো। কিন্তু রোগের কাছে হেরে যেতে বসেছে মেয়েটি। তিনি জানান, বিদ্যালয় থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছেন। সমাজের অন্যরাও এগিয়ে এলে মেয়েটিকে বাঁ’চানো সম্ভব। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি ম’রিয়মকে সহযোগিতা করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন তা বাবা রবিউল ইস’লামের ০১৯২২৮১৬৬১৪ সঙ্গে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]