সর্বশেষ আপডেট
পাকিস্তানে যে নিরাপত্তার বেড়াজালে ‘বন্দি’ বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা

পাকিস্তানে যে নিরাপত্তার বেড়াজালে ‘বন্দি’ বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা

কী বিশ্বাস হচ্ছে না? হবে কিভাবে, সবাই তো জানেন বাংলাদেশ দল তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজ খেলতে গেল। এরিমধ্যে দুটি ম্যাচের ফয়সালাও হয়েছে। এখন হুট করে এমন খবর কেন।হ্যাঁ, সবই ঠিক আছে। কিন্তু এটা সত্য যে, পাকিস্তানে নিরাপত্তার বেড়াজালে এক প্রকার বন্দি দশার মধ্যে দিয়েই দিন পার করছেন তামিম-সৌম্যরা! কঠোর নিরাপত্তা, মন চাইলেই ঘুরতে যাওয়ার উপায় নেই। দুদণ্ড বিশ্রামেরও জো নেই।

ম্যাচের আগে কিংবা পরে কোনো হোটেলে খেতে বসবেন? চিন্তাও করা যাবে না।বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেল, কেবল ক্রিকেটার নয়, বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যারা গেছেন পাকিস্তান সফরে, তাদের অবস্থাও এমন।বাংলাদেশি সাংবাদিক, কোচিং স্টাফ, মিডিয়া ম্যানেজার, বোর্ড কর্তা কিংবা পরিচালক সবাই এখন এ রকম বন্দী সময় পার করছেন। দলের সঙ্গে মাঠে। এরপর মাঠ থেকে টিম হোটেল। এর বাহিরে কোথায়ও যাওয়ার সুযোগ নেই।

অবাক লাগছে তাই না। অথচ অন্য দেশে বাংলাদেশ দল যখন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে যেত, তখন সময়, সুযোগ পেলেই খেলোয়াড়রা নিজেদের মতো করে শপিং করতেন, কয়েকজন মিলে দর্শনীয় কোনো স্থানে ঘুরতে বের হতেন। আবার কেউ কেউ নামীদামী হোটেলেও যেতেন হরেক রকমের খাবারের স্বাদ নিতে।আর পাকিস্তান সফরটা তার পুরোই উল্টো। রোববার (২৬ জানুয়ারি) নেই কোনো ম্যাচ।

টানা দুই টি২০’র পর কিছুটা বিশ্রাম পেল ক্রিকেটাররা। কিন্তু গোটা একদিন কিভাবে পার করবে তারা। টিম হোটেলে টিভি দেখে, না-কি স্মার্টফোন গেমস খেলে। পিসিবির আর কী দোষ? এই সিরিজ নিয়ে জল তো কম ঘোলা হয়নি। শুরুতে বাংলাদেশ কিছুতেই রাজি ছিল না। এক পর্যায়ে শুধু টি২০’র জন্য ইয়েস বলে বিসিবি। কিন্তু পাকিস্তান নাছোড়বান্দা। তারা কোনো কিছু না বলে সোজা আইসিসির কাছে নালিশ করল।

শেষমেশ বিসিবি’রই বা কী করার থাকে। হেডস্যার-আইসিসি যখন বললেন যেতে হবে পাকিস্তানে। তখন তো ‘না’ বলার আর অপশন নেই।পাকিস্তান আগে থেকেই বলে রেখেছিল তারা কঠোর নিরাপত্তা দেবে। এখন তো সেটাই হচ্ছে। এ জায়গায় কিন্তু তারা ‘বেদের মেয়ে’ জোসনার মতো ফাঁকি দেয়নি। কথা দিয়ে ঠিকই কথা রেখেছে। নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে বাংলাদেশ দলকে নিরাপত্তা দিচ্ছে। তবে কোনো কিছু যে অতিরিক্ত হলে তোতো লাগে। এটা বোধ হয় তারা ভাবেনও না।

আলোচিত খবর… চোখে চোখ রেখে লড়াই, শেষ ওভারে হারল বাংলাদেশ। লক্ষ্যটা যেকোনো বিচারেই ছোট ছিল। তবে ১৪২ রানের এই লক্ষ্যই পাকিস্তানের সামনে পর্বতপ্রমাণ করে তুললেন বাংলাদেশের বোলাররা। প্রথম ধাক্কাটা দিয়েছিলেন শফিউল। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে পাকিস্তানকে চাপে রেখেছিলেন মুস্তাফিজ ও আমিনুল। শেষ পর্যন্ত শেষ ওভারে ৩ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ দুই উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান।

পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেছেন শোয়েব মালিক। এর আগে, একদম হতশ্রী দশাতে দেখা দিল বাংলাদেশ। আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল ধীরেসুস্থে খেলা দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল এখন টি-টোয়েন্টিতে অচল। তিনি কোনোভাবেই আধুনিক ক্রিকেটের সাথে মানিয়ে নিতে পারছেন না। তাঁর আজকের ওপেনিং সঙ্গী নাঈমও আহামরি কিছু করতে পারেন নি তবে অন্তত নাইম চেষ্টাটুকু করেছেন।

একের পর এক ডটের বন্যা বইয়ে বাংলাদেশ থেমেছে ১৪১ রানে। তামিম ও নাইম এক পর্যায়ে ছয় ওভারে তুলে ছিলেন ৩৫ রান। এ ধরনের স্ট্রাইকরেট কোনোভাবেই বর্তমান যুগে মেনে নেয়া যায় না। বিশেষ করে তামিম তো সিঙ্গেল নেয়াই ভুলে গিয়েছিলেন, একটানা শুধু ডট খেলেছেন। সত্যিকার অর্থেই এখন তামিমের বিকল্প নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। শুরুর এত ডটের জন্যেই হাতে পাঁচ উইকেট রেখেও বাংলাদেশ ১৪১ এর বেশি করতে পারে নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme