সর্বশেষ আপডেট
স্ত্রীকে ঘুমানোর সুযোগ দিতে ৬ ঘণ্টা প্লেনে দাঁড়িয়ে স্বামী ।

স্ত্রীকে ঘুমানোর সুযোগ দিতে ৬ ঘণ্টা প্লেনে দাঁড়িয়ে স্বামী ।

স্ত্রীর ঘুমে যেন ব্যাঘাত না ঘটে এজন্য প্লেনে একটানা ছয় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হলো স্বামীকে। এমন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ডেইলি মেইল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার প্রশিক্ষক কোর্টনি লি জনসন প্লেনের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার ছবি টুইটারে দিয়েছেন। তার সেই টুইটকে কেন্দ্র করেই ঘটনার পক্ষে বিপক্ষে নানা ধরনের মন্তব্যের ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কোর্টনি জানান, দীর্ঘ ফ্লাইটে অজ্ঞাত এই ব্যক্তি পুরো ছয় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার স্ত্রী তিনটি আসন জুড়ে ঘুমিয়ে পড়ায় তাকে না ডেকে লোকটি দাঁড়িয়ে ছিলেন ছয় ঘণ্টা। তিনি ঘটনাটিকে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর সত্য ভালোবাসা বলে উল্লেখ

করেছেন। এই ঘটনার সমালোচনা করেছেন অনেকে। কেউ কেউ লোকটিকে ‘বেত্রাঘাত’ করা উচিত বলে মন্তব্য করে তার স্ত্রীকে ‘স্বার্থপর বলেছেন। অনেকে আবার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এটি ফেক নিউজ বলে জানিয়ে তারা বলেন, প্লেনে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দিবে না কর্তৃপক্ষ। একজন বলেছেন, এটাই যদি ভালোবাসার নমুনা হয় তাহলে আমি একাই থাকবো, আমার ভালোবাসার দরকার নেই।কেউ কেউ বলেছেন, লোকটি সিটে বসে তার কোলে মাথা রেখে স্ত্রীকে ঘুমানোর সুযোগ দিতে পারতেন। তারা বলেন, লোকটি ‘নির্বোধ’ কিন্তু ‘সরল’ মনের মানুষ।অনেকে আবার একে বিখ্যাত চলচিত্র টাইটানিকের রোজ এবং ক্যাটের প্রেমের সঙ্গে তুলনা করেছেন। রোজের জীবন

বাঁচাতে ক্যাট বরফজমা আটলান্টিক সাগরে প্রাণ দিয়েছেন যেভাবে, এখানে স্ত্রীর ঘুমানোর জন্য লোকটিও সেভাবে অনেক কষ্ট করেছেন। তারা ঘটনাটিকে টাইটানিক-২ বলে অভিহিত করেছেন।অনেকে আবার বিষয়টি নিয়ে মজাও করেছেন। কেউ বলেছেন, এরা স্বামী-স্ত্রী নন, কারণ লোকটির হাতে কোন আংটি নেই। কেউ কেউ বলেছেন, দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে লোকটি স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পরিকল্পনা করছিলেন! স্বামীর দু’টি কিডনি অকেজো হওয়ার পর মৃ**ত্যু যখন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে তখনই জীবন বাঁচাতে হাত বাড়িয়ে দিলেন জীবন সঙ্গীনী। হ্যাঁ, এরই নাম ভালোবাসা! সেটা করে দেখালেন পতিব্রতা স্ত্রী। পরিবারের অন্য সদস্যরা যখন নিরব তখন শুধু হাতই নয়

নিজের একটি কিডনিই দিয়ে দিলেন তার স্ত্রী। এই ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায়। ওই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের মৃ**ত হোসেন মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমানের সাথে দীর্ঘ পাঁচ বছর পূর্বে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লোকড়া ইউনিয়নের আমজাদ আলীর মেয়ে লিজা আক্তারের বিয়ে হয়। সম্প্রতি স্বামী মিজানুর রহমান হটাৎ করেই গু**রতর অ*সুস্থ হয়ে যায়। এর কারণে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানো হয়। সেখানে ডাক্তার বিভিন্ন রকমের পরীক্ষা নীরিক্ষার করার পরামর্শ দেন। পরে ডাক্তার পরীক্ষার প্রতিবেদন দেখে জানায়, মিজানুর রহমানের দু’টি কিডনি অকেজো হয়ে গেছে। তাই তাকে বাঁচাতে হলে কমপক্ষে একটি কিডনির ব্যবস্থা করতে

হবে। ডাক্তারের পরামর্শে তারা বিভিন্ন কিডনি ব্যাংকে যোগাযোগ করেও কিডনি সংগ্রহ করতে পারেননি। পরে পরিবারের সবার কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয় কি করা হবে। কিন্তু সবাই নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। আসলে কেউ কিডনি দিতে রাজি হয়নি। পরে মিজানুর রহমানের স্ত্রী লিজা আক্তার রাজি হন কিডনি দিতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ঢাকা শ্যমলী সিকেডি কিডনি হসপাতালে দুই জনেরই একসাথে অপারেশন হয়। অপারেশন করে স্বামীর অকেজো দুইটি কিডনি ফেলে দিয়ে স্ত্রীর দেওয়া একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, অপারেশন সফল হয়েছে, রোগীকে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ হসপাতালে থাকতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme