সর্বশেষ আপডেট
করোনাভাইরাসে মৃ’তের সংখ্যা বেড়ে ৮০, আ’ক্রান্ত ৩ হাজার অবশেষে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে সফল চীন! জেনে নিন যে ভ্যাকসিনে কাবু হবে এই ভাইরাস… আ’ক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসকরাও, টিউবে করে আনা হচ্ছে রোগীদের বেলজিয়ামে সড়ক দু’র্ঘ’টনায় প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ নি’হ’ত কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী ‘কে’য়ামত’ খুব বেশি দূরে নয় চীনের প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে যেভাবে ‘লাভবান’ ভারত! এবার নেট দুনিয়ায় ভাইরাল প্রায় ৩ শত বিয়ে করা যুবক আরব আমিরাতে একজন ভারতীয় ব্যাংক কর্মচারীর বি’রুদ্ধে ১.৭ মিলিয়ন দিরহাম চু’রির অ’ভিযোগ ১৬ ঘণ্টার ব্যবধানে মুন্সীগঞ্জে জ্বরে চাচী-ভাতিজার মৃত্যু, পরিবারের শঙ্কা ‘করোনাভাইরাস’ লম্বা ছেলে না পাওয়ায় বিয়ে হচ্ছে না মৌসুমীর
প্রতিপক্ষকে মে’রে নেতা হবার দিন শেষঃ ঢাবি অধ্যাপিকা ।

প্রতিপক্ষকে মে’রে নেতা হবার দিন শেষঃ ঢাবি অধ্যাপিকা ।

তারাপদ রায়ের সেই কবিতাটির কথা মনে পড়েছে, “আমাদের সর্বনা’শ হয়ে গেছে”! “আমারা যে গাছটিকে কৃষ্ণচূড়া গাছ ভেবেছিলাম, যার উদ্দেশ্যে ধ্রূপদী বিন্যাসে কয়েক অনুচ্ছেদ প্রশাস্তি লিখেছিলাম গতকাল বলাই বাবু বললেন, ‘ঐটি বাঁদরলাঠি গাছ’।অ্যালসেশিয়ান ভেবে যে সারমেয় শাবকটিকে, আমরা তিন মাস বকলস পরিয়ে মাংষ খাওয়ালাম, ক্রমশ তার খেঁকিভাব প্র’কট হয়ে উঠছে।………আমরা বুঝতে পারিনি আমাদের কবে সর্বনা’শ হয়ে গেছে।”

ছাত্ররাজনীতিতে কিছু একটা ঘটনা ঘটলেই আমার ইনবক্স বন্যার মতো ভেসে যায় ছাত্রদের মেসেজে। নুরুলের ওপর হাম’লা কিভাবে হয়েছে, কী হয়েছিল সেদিন, বিষয়টি লিখছিনা কেনো, কেন চুপ করে আছেন, ইত্যাদি মেসেজে ভরপুর! কিন্তু আর কতবার, কিভাবে আর কতটা লিখলে পরে ছাত্ররাজনীতির ধরন-ধারণে পরিবর্তন আসবে আমার জানা নেই! আদৌ লেখা লেখির কোন মূল্য আছে কিনা তাও জানিনা। মাঝে মাঝে ভাবি, এসব লেখা লেখি করেই বা কী হবে? কে শুনে কার কথা?

তা নাহলে কিভাবে আমাদের ছাত্ররাজনীতির অতীত গৌরবময় ইতিহাস ঐতিহ্য অহংকারের যে উত্তরাধিকারিত্ব, তা এতোটা নিচে নেমে যেতে পারে? তারাপদ রায়ের মতো আজ বলতেই হচ্ছে, “আমরা বুঝতে পারিনি, আমাদের কবে সর্ব’নাশ হয়ে গেছে।” কিন্তু আসলেই কি আমরা বুঝতে পারছিনা? নাকি বুঝেও না বুঝার ভান করছি কেবল? যারা এই ঘটনাটির সাথে জড়িত ছিল, তারা সম্ভবত ডাকসু ভবনের মূল্যই অনুধাবন করতে পারেনি!

তা না হলে কিভাবে ডাকসু ভবনের উপর থেকে ছাত্র ফে’লার মত ঘটনা ঘটাতে পারে? কিভাবে তারা এতোটা ঐতিহ্যময় ভবনের উপর কালিমা লেপন করতে পারলো? ভবন হতে ফেলে দেয়া ছাত্র এখন মৃ’ত্যুর মুখোমুখি! ডাকসু ভবন এর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গর্বের কথা কি তারা আদৌ জানে? যদি জানতো তবে কি এমন ভাবে ক’লং’কিত করতে পারতো? এভাবে এই ধরণের কিছু ঘটেছিল কি পূর্বে? হ্যাঁ অনেকেই বলবেন, আগে অ’স্ত্র মহড়া হতো ক্যাম্পাসে!

কিন্তু সে অনেক কাল আগের কথা, আগের সেই যুগ কি এখন আছে? না আছে সেই পরিস্থিতি! বিশ্বায়নের এই যুগে এই ধরনের স’ন্ত্রা’সী কর্মকা’ণ্ড কি এখন বে’মানান নয়? কী হবে এসব করে? দলে অভিনন্দন পাবে, পদ পদবী’র আশায়?দুঃখিত সময় পাল্টেছে, আর দল এতো শক্তিশালী ও ক্ষ’মতার জায়গায় যে, এই ধরনের স’ন্ত্রা’সীদের ছুঁ’ড়ে ফেলে দিতে সময় নেবে না, অ’ভিনন্দিত করা তো দূরের কথা!

তাহলে ব্যক্তি মানুষগুলোর কী লাভ হলো এসব স’ন্ত্রা’সী কাজ করে? কেবল ঘৃ’ণা অর্জন ছাড়া? আওয়ামী লীগের রাজনীতি না বুঝে করা নিজের বিপদ ডেকে আনার সামিল! এই দল যখন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিশ্বের দরবারের অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় বাংলাদেশকে ও বাংলাদেশের ইমেজকে তুলে ধরতে সর্বদা কাজ করে চলছে, তখন এর অঙ্গসংগঠন এর বাহক হিসেবে কে কি করে বেড়াচ্ছে সেটা নিশ্চয়ই আমলে আনা হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় কথা, এই সময়ে যখন পুরো জাতি প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘মুজিববর্ষ’ পালনের ঠিক এই সময়টিতেই কেন ছাত্ররাজনীতিতে এই সং’কট তৈরি করা হচ্ছে- এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে হবে। নয়তো আমরা বুঝতেই পারবোনা, “আমাদের কবে সর্বনা’শ হয়ে গেছে।” আরেকটি কথা, নুরুল হক ডাকসুর নির্বাচিত ভিপি। পারলে এবং সাহস থাকলে শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা নিয়ে ভিপি হবার প্রতিযোগিতা করার আশা করা যেতে পারে, সেইজন্য কাজ করা যেতে পারে কিন্তু নির্বাচিত একজন ভিপিকে মে’রে ঘৃণা অর্জন করে কী লাভ?

এই বোধ না থাকলে রাজনীতির বোধ আসবে কি করে মনে? শিক্ষার্থীদের মন জয় না করে, প্রতিপক্ষকে পি’টিয়ে মে’রে আর যাই হউক, নেতা হবার দিন শেষ হয়ে গেছে! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাকে নির্বাচিত করেছে, এমন একজন নির্বাচিত ভিপির ওপর আ’ক্র’মণ করার পরবর্তী ফলাফল কী হতে পারে, তা নিয়েও ভাবছে না কেউ!! আমরা কেউ ভাবছি না। কী হবে এই ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ! হায় ছাত্র রাজনীতি, আমরা কবে বুঝবো যে, আমাদের সর্বনা’শ হয়ে গেছে….। লেখিকাঃ রাশেদা রওনক খান, সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme