ভারত সবসময়ই পাকিস্তানের চেয়ে একধাপ এগিয়ে, বললেন প্রাক্তন পাক সেনাকর্তা ।

ভারত সবসময়ই পাকিস্তানের চেয়ে একধাপ এগিয়ে, বললেন প্রাক্তন পাক সেনাকর্তা ।

প্রকাশ্যে সত্যিটা স্বীকার করে নিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক। পাকিস্তানের চেয়ে ভারত সারা জীবন এক ধাপ এগিয়ে, একথা মেনে নিলেন পাকিস্তানের আর্মি জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) গুলাম মুস্তাফা। রবিবার তিনি স্বীকার করেন, যে কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের ঘটনাই হোক, বা সেনা মুভমেন্ট-সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে ভারত।

তিনি দাবি করেন স্ট্র্যাটেজিক চিন্তাভাবনাতেও বেশ পিছিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। আর সেখানেই ভারতের কাছে বারবার পিছিয়ে পড়ে তারা। বলাই বাহুল্য প্রাক্তন সেনাকর্তার এহেন মন্তব্যে বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছে পাকিস্তান জুড়ে। এক পাক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাতকারে গুলাম মুস্তাফার দাবি ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে এখন হইচই করলেও, আগে থেকে ভারতের পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনও ধারণাই করতে পারেনি পাকিস্তান, তার কারণ তাঁদের মধ্যে দূরদর্শিতার অভাব রয়েছে। কোনও কিছুর ভবিষ্যত নিয়ে পাকিস্তান ভাবে না।

এদিন কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের ইস্যু নিয়ে বক্তব্য রাখেন গোলাম মুস্তাফা। তিনি বলেন পাকিস্তান এরকম করে ভাবতেই পারবে না। তাঁদের চিন্তাভাবনার সংকীর্ণতাই বেশ কয়েক ধাপ পিছিয়ে দিয়েছে ভারতের থেকে। এদিন তাঁর বক্তব্যে ১৯৬৫ সালের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন ওই যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয় অবশ্যম্ভাবী ছিল। কারণ, ভারত যেভাবে হামলা চালিয়েছিল, পাকিস্তান একেবারেই তার জন্য প্রস্তুত ছিল না। লাহোর ও শিয়ালকোটের অদূরেই শুরু হয়েছিল যুদ্ধ।

এর আগে, প্রাক্তন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জেমস ম্যাটিসের দাবি ছিল, চুক্তি করার জন্য বা সম্পর্ক তৈরির জন্য পাকিস্তান অত্যন্ত বিপজ্জনক দেশ৷ ম্যাটিস সম্প্রতি তাঁর লেখা একটি বই প্রকাশ করেন৷ ‘Call Sign Chaos: Learning to Lead.’ শীর্ষক বইটিতে এমনই মন্তব্য করেছেন ম্যাটিস৷ এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা২৪।

মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক জানান, ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে নিশ্চিতভাবেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ট্রাম্প শান্তি ফেরানোর পদক্ষেপের কথা শুনতে চাইবেন। কাশ্মীরের মানবাধিকার কীভাবে রক্ষা করছেন, তাও জানবেন ট্রাম্প।

আরপ খবর… ভারতীয় ভূখণ্ডের ৬০-৭০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে চীনের সেনাবাহিনী। তৈরি করে ফেলেছে একটি ঝুলন্ত ব্রিজও। অরুণাচল প্রদেশের বিজেপি বিধায়কের এ দাবি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে ভারত-চীন সীমান্তের চাগলাগাম এলাকায়। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা সেনা বা নাগরিকের উপস্থিতির কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবু ওই এলাকায় টহলদারি জোরদার করা হয়েছে। এ খবর জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। রাজ্যের বিজেপি সভাপতি অরুণাচল পূর্ব কেন্দ্রের সংসদ সদস্য টাপির গাও সম্প্রতি বিভিন্ন সাংবাদ মাধ্যমে দাবি করেছিলেন, চাগলাগামের ডিমারু নালার ওপর একটি ‘সাসপেনশন ব্রিজ’ নজরে

এসেছে আদিবাসীদের। ঘন জঙ্গলে ঘেরা ওই এলাকার গাছ কেটে কাঠ দিয়ে ওই ব্রিজটি তৈরি করেছে চীনা সেনাবাহিনী। দিল্লিতে সংশ্লিষ্ট সব দফতরে তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন টাপির গাও। যেখানে ব্রিজ তৈরির কথা বলেছেন টাপির গাও, সেই ডিমারু নালা অন্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত। জনবসতি খুব কম। রয়েছে প্রচুর পাহাড়ি ঝর্ণা ও নালা। অসংখ্য ‘ফিশ টেল’ প্রজাতির লম্বা গাছ এবং নিচে ঘন জঙ্গলে ঘেরা বলে কার্যত দুর্গম ওই এলাকা। শিকার এবং ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহ করতে জনজাতি শ্রেণির কিছু মানুষের আনাগোনা রয়েছে। তবে সেনা জওয়ানরাও রুটিন টহলদারি চালায় এসব এলাকায়। চীন-অরুণাচল সীমান্ত ম্যাকমোহন লাইন নামে পরিচিত।

লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বা ম্যাকমোহন লাইন থেকে চাগলাগামের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। চাগলাগাম থেকে আবার ডোইমুর নালার দূরত্ব ২৫-৩০ কিলোমিটার। ফলে টাপির গাওয়ের দাবি সত্যি হলে ভারতীয় ভূখণ্ডের ৬০-৭০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছে চীনা বাহিনী। দিল্লিতে বিষয়টি জানানোর পরই এ নিয়ে কার্যত তোলপাড় পড়ে যায়। ভারতীয় সেনাসহ কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে শুরু হয় দৌড়ঝাঁপ। এমন ঘটনায় বুধবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিবৃতি দেয়া হয়। এতে বলা হয়, টাপির গাওয়ের দাবি ঠিক না। এ ধরনের কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যেখানকার কথা বলা হয়েছে, সেটা ‘ফিশ টেল’ এলাকা। অন্যান্য কয়েকটি

এলাকার মতো ওই এলাকাতেও সীমান্ত নিয়ে চীনের সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে। ডিমারু নালার ওপরে যে জায়গার কথা বলা হয়েছে, সেখানে এই ধরনের কোনো ব্রিজ সেনাবাহিনীর নজরে আসেনি। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই এলাকা ঘন জঙ্গলে ঢাকা। নালা-ঝোরা ও পাহাড়ি চড়াই-উৎরাইয়ে ভরা। ওই এলাকায় হেঁটে ছাড়া অন্য কোনো যানবাহনে চলাফেরা করা সম্ভব নয়। যেহেতু সীমান্ত নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তাই ভারত এবং চীন দুদেশের সেনা জওয়ানরাই বর্ষাকালে টহলদারির জন্য নালাগুলির ওপর অস্থায়ী ব্রিজ তৈরি করে। তবে এটা নিশ্চিত যে চীনের সেনা বা কোনো নাগরিকের স্থায়ী উপস্থিতি ওই এলাকায় পাওয়া যায়নি। তবু কড়া নজরদারি রয়েছে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme